ঢাকা    শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন
সর্বশেষ
দেশে আসছে দীর্ঘমেয়াদি ‘ট্যাক্স রোডম্যাপ’

দেশে আসছে দীর্ঘমেয়াদি ‘ট্যাক্স রোডম্যাপ’

দেশের কর ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে সরকার। প্রতি বছর বাজেটে করহার ও করমুক্ত আয়সীমা নিয়ে অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে এবার প্রথমবারের মতো দীর্ঘমেয়াদি কর পরিকল্পনা বা ‘ট্যাক্স রোডম্যাপ’ ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ১১ জুন জাতীয় বাজেটের মাধ্যমে ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত ব্যক্তি করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা, করহার এবং কর কাঠামো সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই পরিকল্পনার আওতায় বর্তমান ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার করমুক্ত আয়সীমা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হবে। অর্থাৎ আগামী পাঁচ বছরে করমুক্ত আয়সীমা এক লাখ টাকা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।করদাতাদের জন্য এটি এক ধরনের ‘মাস্টারপ্ল্যান’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ এর মাধ্যমে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী এবং বিনিয়োগকারীরা আগাম জানতে পারবেন ভবিষ্যতে তাদের কর দায় কতটা বাড়তে বা কমতে পারে। ফলে ব্যক্তিগত আর্থিক পরিকল্পনা, সঞ্চয়, বিনিয়োগ এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে।কেন আসছে এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা? বাংলাদেশে এতদিন করনীতি মূলত এক বছরের জন্য নির্ধারণ করা হতো। প্রতি বাজেটের আগে করমুক্ত আয়সীমা বাড়বে কিনা, করহার পরিবর্তন হবে কিনা কিংবা নতুন কোনও কর আরোপ করা হবে কিনা—তা নিয়ে করদাতাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হতো।অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকার এখন কর ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, পূর্বানুমানযোগ্য এবং বিনিয়োগবান্ধব করতে চায়। সেই লক্ষ্য থেকেই দীর্ঘমেয়াদি কর পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১৪ মে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ পরিকল্পনার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার প্রথম বাজেটেই এই রোডম্যাপ তুলে ধরতে পারেন। কোন বছরে করমুক্ত আয় কত হবে? বর্তমানে একজন ব্যক্তি বছরে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করলে আয়কর দিতে হয় না। সরকারের নতুন পরিকল্পনায় ধাপে ধাপে এই সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী—বর্তমানে করমুক্ত আয়সীমা: ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।২০২৭-২৮ অর্থবছর: ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা,২০২৮-২৯ অর্থবছর: ৪ লাখ টাকা,২০২৯-৩০ অর্থবছর: ৪ লাখ টাকা,২০৩০-৩১ অর্থবছর: ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।অর্থাৎ আগামী পাঁচ বছরে করমুক্ত আয়ের সীমা ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় রেখে সাধারণ করদাতাদের কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন?কর বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন পরিকল্পনার ফলে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের করদাতারা সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন। বিশেষ করে যাদের বার্ষিক আয় করমুক্ত সীমার কাছাকাছি, তারা কিছুটা কর সাশ্রয়ের সুযোগ পাবেন।চাকরিজীবীদের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভবিষ্যৎ আয়, সঞ্চয় এবং বিনিয়োগ পরিকল্পনা করতে কর কাঠামো সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা পাওয়া যাবে।ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরাও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনা প্রণয়নে সুবিধা পাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় কতটা কার্যকর হবে?যদিও করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর পরিকল্পনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা, তবে অনেকের প্রশ্ন—এই বৃদ্ধি কি বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ?বাংলাদেশে ২০২৩ সালের মার্চ থেকে মূল্যস্ফীতি ধারাবাহিকভাবে প্রায় ৯ শতাংশের আশপাশে রয়েছে। খাদ্য, বাসাভাড়া, পরিবহন, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়ের লাগামহীন বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ। এই অবস্থায় অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করেন, করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করার চেয়ে ৫ লাখ টাকা বা তারও বেশি করা প্রয়োজন ছিল।তাদের মতে, কয়েক বছর আগে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার যে ক্রয়ক্ষমতা ছিল, বর্তমানে সেই একই জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে অনেক বেশি অর্থ প্রয়োজন হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা মনে  করেন, সরকারের এই উদ্যোগের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো নীতির পূর্বানুমানযোগ্যতা।তাদের মতে, করদাতারা যদি আগেই জানতে পারেন আগামী কয়েক বছরে কর কাঠামো কী হবে, তাহলে তারা নিজেদের আর্থিক পরিকল্পনা আরও ভালোভাবে করতে পারবেন। ‘মিডল ক্লাস স্কুইজ’-এর আশঙ্কাকরনীতি বিশ্লেষকরা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কথা বলছেন। সেটি হলো ‘মিডল ক্লাস স্কুইজ’ বা মধ্যবিত্তের ওপর অতিরিক্ত চাপ।তাদের মতে, যদি শুধু করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হয় কিন্তু পরবর্তী কর স্তরগুলো অপরিবর্তিত থাকে, তাহলে মধ্যবিত্ত করদাতারা দ্রুত উচ্চ করসীমার আওতায় চলে যেতে পারেন।ফলে কাগজে-কলমে তাদের আয় বাড়লেও বাস্তবে করের বোঝা আরও বাড়তে পারে। ‘ব্র্যাকেট ক্রিপ’ কী?বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, দীর্ঘ সময় ধরে একই করসীমা বহাল থাকলে ‘ব্র্যাকেট ক্রিপ’ নামে একটি সমস্যা দেখা দেয়।ধরা যাক, মূল্যস্ফীতির কারণে একজন চাকরিজীবীর বেতন বেড়েছে। কিন্তু সেই বেতন বৃদ্ধি যদি কেবল মূল্যস্ফীতির ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার জন্য হয়, তাহলে প্রকৃত অর্থে তার জীবনমানের উন্নতি হয়নি।কিন্তু করসীমা অপরিবর্তিত থাকলে তিনি উচ্চতর করস্তরে প্রবেশ করবেন এবং আগের তুলনায় বেশি কর দিতে বাধ্য হবেন।বিশ্বের অনেক দেশ এই সমস্যা এড়াতে করসীমাকে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করে থাকে। সরকারের জন্যও চ্যালেঞ্জ কম নয়একদিকে করদাতাদের স্বস্তি দিতে হবে, অন্যদিকে রাজস্ব আদায়ও বাড়াতে হবে। কারণ বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখনও অনেক উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় কম।আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংকসহ উন্নয়ন সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে।এ কারণে সরকারকে করদাতাদের স্বার্থ এবং রাজস্ব আহরণের প্রয়োজন— দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে। এনবিআর সংস্কারের সঙ্গেও রয়েছে সম্পর্কবিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি কর রোডম্যাপ ঘোষণার বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ার সঙ্গেও সম্পর্কিত।সরকার ইতোমধ্যে করনীতি প্রণয়ন ও কর প্রশাসনকে পৃথক করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে করনীতি নির্ধারণে দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সামনে কী অপেক্ষা করছে?অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০৩১ সাল পর্যন্ত করমুক্ত আয়সীমা ও করনীতির রোডম্যাপ ঘোষণা বাংলাদেশের কর ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন হতে পারে।এটি করদাতাদের জন্য যেমন স্বচ্ছতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা তৈরি করবে, তেমনি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে মূল্যস্ফীতির গতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতে কর কাঠামো কতটা বাস্তবমুখীভাবে সমন্বয় করা হয় তার ওপর।সব মিলিয়ে করদাতাদের জন্য সরকারের এই নতুন ‘মাস্টারপ্ল্যান’ কর ব্যবস্থায় একটি নতুন যুগের সূচনা করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ঘোষিত রোডম্যাপ বাস্তব জীবনে সাধারণ মানুষের করের চাপ কতটা কমাতে পারে এবং মূল্যস্ফীতির অভিঘাত থেকে কতটা সুরক্ষা দিতে সক্ষম হয়। 
০৩ জুন ২০২৬

ঢাকা ১১ নম্বর ওয়ার্ডে নতুন মুখ মাহবুব হায়দার আরিফ

ঢাকা ১১ নম্বর ওয়ার্ডে নতুন মুখ মাহবুব হায়দার আরিফ

রামগঞ্জে মোহাম্মদপুর ওলি বাড়ী হাফিজিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল সম্পন্ন

রামগঞ্জে মোহাম্মদপুর ওলি বাড়ী হাফিজিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল সম্পন্ন

চেক ডিজঅনার হলে করণীয় কী? জানুন আপনার আইনি অধিকার

চেক ডিজঅনার হলে করণীয় কী? জানুন আপনার আইনি অধিকার

রামগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী মোহাম্মদপুর ওলি বাড়ী হাফিজিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল শুক্রবার

রামগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী মোহাম্মদপুর ওলি বাড়ী হাফিজিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল শুক্রবার

২০ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট এমসিকিউ পরীক্ষার অনলাইন ফর্ম পূরণ

২০ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট এমসিকিউ পরীক্ষার অনলাইন ফর্ম পূরণ

তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী সমন্বয়কদের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ

তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী সমন্বয়কদের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ

ইরান যুদ্ধ, নাকি মজুত ব্যর্থতা—দেশে জ্বালানি তেলের সংকটে কার দায় কতটা?

ইরান যুদ্ধ, নাকি মজুত ব্যর্থতা—দেশে জ্বালানি তেলের সংকটে কার দায় কতটা?

চামড়া সংরক্ষণে  বিনামূল্যে ৩০ হাজার টন লবণ দেবে সরকার

চামড়া সংরক্ষণে বিনামূল্যে ৩০ হাজার টন লবণ দেবে সরকার

ভোটের লড়াইয়ে নেই, তবুও ঢাকা-১৪ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর মোঃ মহসিন পারভেজ

ভোটের লড়াইয়ে নেই, তবুও ঢাকা-১৪ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর মোঃ মহসিন পারভেজ

নীরব শ্রদ্ধায় ভাসছে কবরস্থল: বেগম খালেদা জিয়ার কবরে মানুষের অবিরাম উপস্থিতি

নীরব শ্রদ্ধায় ভাসছে কবরস্থল: বেগম খালেদা জিয়ার কবরে মানুষের অবিরাম উপস্থিতি

লক্ষ্মীপুরে শিশুকে যৌন নিপীড়ন, আইনে বেত্রাঘাত না থাকায় অভিযুক্তকে পিঠে ৩ থাপ্পড় দিয়ে বিচার সম্পন্ন

লক্ষ্মীপুরে শিশুকে যৌন নিপীড়ন, আইনে বেত্রাঘাত না থাকায় অভিযুক্তকে পিঠে ৩ থাপ্পড় দিয়ে বিচার সম্পন্ন

আদালতেই সোহেল রানাকে মারতে উদ্যত হন স্ত্রী স্বপ্না আক্তার

আদালতেই সোহেল রানাকে মারতে উদ্যত হন স্ত্রী স্বপ্না আক্তার

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঁচ নতুন অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঁচ নতুন অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত

কারামুক্ত আইভীর চোখ পরবর্তী সিটি নির্বাচনে

কারামুক্ত আইভীর চোখ পরবর্তী সিটি নির্বাচনে

‘ঢাকার দায়িত্ব দিন, ১০০ দিনেই বদলে দেব’

‘ঢাকার দায়িত্ব দিন, ১০০ দিনেই বদলে দেব’

অর্থসংকটে স্থবির জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন

অর্থসংকটে স্থবির জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন

দেশে আসছে দীর্ঘমেয়াদি ‘ট্যাক্স রোডম্যাপ’

দেশে আসছে দীর্ঘমেয়াদি ‘ট্যাক্স রোডম্যাপ’

গ্রাহকের ওপর বাড়তি চাপ, একযোগে বাড়ল বিদ্যুৎ ও সঞ্চালন চার্জ

গ্রাহকের ওপর বাড়তি চাপ, একযোগে বাড়ল বিদ্যুৎ ও সঞ্চালন চার্জ

‘আমার একটা ছোট ছাওয়াল আছে, আমাকে মাফ করে দেন’—আদালতে আকুতি সোহেল রানার

‘আমার একটা ছোট ছাওয়াল আছে, আমাকে মাফ করে দেন’—আদালতে আকুতি সোহেল রানার

শিশুর মৃত্যুর পর খানজাহান আলীর মাজারের দীঘি থেকে সরানো হলো কুমির

শিশুর মৃত্যুর পর খানজাহান আলীর মাজারের দীঘি থেকে সরানো হলো কুমির

শিশুদের জন্য ‘গুড টাচ–ব্যাড টাচ’ শিক্ষা এখন জরুরি

বর্তমানে বাংলাদেশে শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। গ্রাম কিংবা শহর, স্কুল, মাদ্রাসা, প্রতিবেশী বা আত্মীয়,কোথাও যেন শিশুরা পুরোপুরি নিরাপদ নয়। প্রায় প্রতিদিনই গণমাধ্যমে শিশু নির্যাতনের খবর প্রকাশিত হচ্ছে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপরাধী হয় শিশুর পরিচিত কেউ।এই বাস্তবতায় শিশুদের ‘গুড টাচ–ব্যাড টাচ’শেখানো এখন আর শুধু সচেতনতার বিষয় নয়, বরং অত্যন্ত জরুরি নিরাপত্তা শিক্ষা।অনেক শিশু বুঝতেই পারে না যে তার সঙ্গে যা ঘটছে, তা অন্যায় বা নির্যাতন। অপরাধীরা সাধারণত শিশুর সরলতা ও ভয়কে কাজে লাগায়। কখনো ভালোবাসার অভিনয় করে, কখনো ভয় দেখিয়ে বা গোপন রাখার কথা বলে তারা শিশুকে চুপ করিয়ে রাখে। ফলে শিশুরা দীর্ঘ সময় নির্যাতনের শিকার হলেও কাউকে কিছু বলতে পারে না। তাই ছোটবেলা থেকেই শিশুদের শেখাতে হবে কোন স্পর্শ নিরাপদ আর কোন স্পর্শ তাকে অস্বস্তিকর, ভয় বা লজ্জার অনুভূতি দেয়।‘গুড টাচ’হলো এমন স্পর্শ, যা শিশুকে নিরাপদ ও স্বস্তিকর অনুভব করায় যেমন মা–বাবার আদর। আর ‘ব্যাড টাচ’হলো এমন স্পর্শ, যা শিশুর ব্যক্তিগত সীমারেখা ভঙ্গ করে এবং তাকে অস্বস্তিতে ফেলে।শিশুকে ‘গুড টাচ–ব্যাড টাচ’ শেখানো মানে তাকে ভয় পাইয়ে দেওয়া নয়; বরং তাকে সচেতন ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলা।শিশুকে বুঝিয়ে বলতে হবে, তার শরীর তার নিজের। কেউ তার অনুমতি ছাড়া এমনভাবে স্পর্শ করতে পারে না, যাতে সে অস্বস্তি বোধ করে। একই সঙ্গে শিশুকে এটাও শেখাতে হবে যে খারাপ কোনো ঘটনা গোপন রাখা উচিত নয়।অনেক অভিভাবক মনে করেন, ছোট শিশুদের এসব শেখালে তারা ‘অতিরিক্ত বড়দের মতো’ হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বয়স উপযোগী ভাষায় নিরাপত্তা শিক্ষা দেওয়া শিশুর মানসিক বিকাশেরই অংশ। বরং সচেতন শিশুরা বিপজ্জনক পরিস্থিতি দ্রুত বুঝতে পারে এবং সাহায্য চাইতে শেখে।শুধু পরিবার নয়, স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শিশু নিরাপত্তা শিক্ষা জরুরি। শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয় থাকলে শিশুর আচরণগত পরিবর্তন সহজে বোঝা যায়। শিশুকে এমন পরিবেশ দিতে হবে, যেখানে সে নির্ভয়ে কথা বলতে পারে এবং জানে—তার কথা গুরুত্বের সঙ্গে শোনা হবে।শিশুকে শেখাতে হবে,কোনো আচরণ খারাপ লাগলে সঙ্গে সঙ্গে ‘না’বলতে, সেখান থেকে দূরে সরে যেতে এবং বিশ্বস্ত বড় কাউকে জানাতে।যেমন আমরা শিশুকে আগুন, রাস্তা বা অপরিচিত মানুষের ব্যাপারে সতর্ক করি, ঠিক তেমনি শরীরের নিরাপত্তা সম্পর্কেও সচেতন করা প্রয়োজন।শিশুদের নিরাপত্তা শিক্ষা এখন সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দায়িত্বগুলোর একটি।

শিশুদের জন্য ‘গুড টাচ–ব্যাড টাচ’ শিক্ষা এখন জরুরি
১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন