ঢাকা    শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বললেন, ‘আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে’

মিরপুরের সেই বৃদ্ধ মাকে অস্বীকারের অভিযোগে যুগ্ম সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার



মিরপুরের সেই বৃদ্ধ মাকে অস্বীকারের অভিযোগে যুগ্ম সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার

রাজধানীর মিরপুরে ফ্ল্যাট থেকে বৃদ্ধা মা নুরজাহান বেগমের পচা-গলা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সারাদেশে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। এ ঘটনায় প্রথমে পুলিশি ঝামেলা এড়াতে নিজের মাকে অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে মায়ের মৃত্যুর তথ্য স্বীকার করেছেন তার ছেলে ও বর্তমান সরকারের যুগ্ম-সচিব এ কে এম আনিসুর রহমান। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার।

বুধবার (৩ জুন) মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কমডোর মো. শফিকুল ইসলাম সরকার (জি) বলেন, ‘প্রথমে বিষয়টি নিয়ে পুলিশের ঝামেলা এড়াতে তিনি আমাদের কাছে অস্বীকার করেছিলেন। পরে তিনি স্বীকার করেছেন যে, তার মা মারা গেছেন।’

আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সচিবালয় থেকে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে আমাকে জানানো হয়েছে।’

এ বিষয়ে কোনো চিঠি পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখনও কোনো চিঠি পাইনি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখছে।’

এদিকে বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুগ্ম-সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।

বুধবার সকালে তিনি বলেন, আমাকে একটি গণমাধ্যম থেকে জানানো হয়েছে, ওই যুগ্ম সচিব তার মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি অস্বীকার করছেন। তবে আমরা সব তথ্য সংগ্রহ করছি। আমি কিছুক্ষণ আগে সংসদে ছিলাম, এখন অফিসে আসছি। সংশ্লিষ্টরা বিষয়টির সব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছেন। পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর খুব দ্রুত তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে কেমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পিতা-মাতার ভরণপোষণ ও দেখাশোনা নিশ্চিত করার জন্য একটি আইন রয়েছে। আমরা ওই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করছি। বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানও বিষয়টি আমাদের জানিয়েছেন। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি।

মন্ত্রী বলেন, এটি একটি অমানবিক ঘটনা। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া আজ থেকেই শুরু হবে। তবে প্রশাসনিক ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে সম্পন্ন হয় না, এর একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিষয়টির অগ্রগতি সম্পর্কে পরে জানতে পারবেন।’

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে যুগ্ম-সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এর আগে, রবিবার (৩১ মে) রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে নুরজাহান বেগমের পচাগলা ও পোকায় খাওয়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

পোর্ট কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা যায়, তিনি তার মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। 

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নুরজাহান বেগম দীর্ঘদিন ধরে একাকী জীবনযাপন করছিলেন। একই বাসায় পাশাপাশি কক্ষে বসবাস করলেও তার মেয়ে মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেশীরা জানান, নুরজাহান বেগমের দুই ছেলে আলাদা থাকতেন এবং দীর্ঘদিন ধরে তাদের সঙ্গে তার কোনো নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না। তার এক ছেলে এ কে এম আনিসুর রহমান বর্তমানে যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্য ছেলে এ কে এম আশিকুর রহমান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের অধ্যাপক। এছাড়া তার মেয়ে একজন স্কুলশিক্ষক।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬


মিরপুরের সেই বৃদ্ধ মাকে অস্বীকারের অভিযোগে যুগ্ম সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬

featured Image

রাজধানীর মিরপুরে ফ্ল্যাট থেকে বৃদ্ধা মা নুরজাহান বেগমের পচা-গলা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সারাদেশে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। এ ঘটনায় প্রথমে পুলিশি ঝামেলা এড়াতে নিজের মাকে অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে মায়ের মৃত্যুর তথ্য স্বীকার করেছেন তার ছেলে ও বর্তমান সরকারের যুগ্ম-সচিব এ কে এম আনিসুর রহমান। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার।

বুধবার (৩ জুন) মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কমডোর মো. শফিকুল ইসলাম সরকার (জি) বলেন, ‘প্রথমে বিষয়টি নিয়ে পুলিশের ঝামেলা এড়াতে তিনি আমাদের কাছে অস্বীকার করেছিলেন। পরে তিনি স্বীকার করেছেন যে, তার মা মারা গেছেন।’

আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সচিবালয় থেকে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে আমাকে জানানো হয়েছে।’

এ বিষয়ে কোনো চিঠি পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখনও কোনো চিঠি পাইনি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখছে।’

এদিকে বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুগ্ম-সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।

বুধবার সকালে তিনি বলেন, আমাকে একটি গণমাধ্যম থেকে জানানো হয়েছে, ওই যুগ্ম সচিব তার মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি অস্বীকার করছেন। তবে আমরা সব তথ্য সংগ্রহ করছি। আমি কিছুক্ষণ আগে সংসদে ছিলাম, এখন অফিসে আসছি। সংশ্লিষ্টরা বিষয়টির সব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছেন। পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর খুব দ্রুত তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে কেমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পিতা-মাতার ভরণপোষণ ও দেখাশোনা নিশ্চিত করার জন্য একটি আইন রয়েছে। আমরা ওই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করছি। বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানও বিষয়টি আমাদের জানিয়েছেন। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি।

মন্ত্রী বলেন, এটি একটি অমানবিক ঘটনা। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া আজ থেকেই শুরু হবে। তবে প্রশাসনিক ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে সম্পন্ন হয় না, এর একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিষয়টির অগ্রগতি সম্পর্কে পরে জানতে পারবেন।’

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে যুগ্ম-সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এর আগে, রবিবার (৩১ মে) রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে নুরজাহান বেগমের পচাগলা ও পোকায় খাওয়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

পোর্ট কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা যায়, তিনি তার মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। 

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নুরজাহান বেগম দীর্ঘদিন ধরে একাকী জীবনযাপন করছিলেন। একই বাসায় পাশাপাশি কক্ষে বসবাস করলেও তার মেয়ে মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেশীরা জানান, নুরজাহান বেগমের দুই ছেলে আলাদা থাকতেন এবং দীর্ঘদিন ধরে তাদের সঙ্গে তার কোনো নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না। তার এক ছেলে এ কে এম আনিসুর রহমান বর্তমানে যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্য ছেলে এ কে এম আশিকুর রহমান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের অধ্যাপক। এছাড়া তার মেয়ে একজন স্কুলশিক্ষক।



বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

সম্পাদক ও প্রকাশক : এম. আর. আলম
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ মহসিন পারভেজ

কপিরাইট © ২০২৬ বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত