সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের সাতদিন পার হলেও তার প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা কমেনি। রাজধানীর কবরস্থলে প্রতিদিন ভিড় করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নীরব উপস্থিতি, অশ্রু ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে তারা স্মরণ করছেন দেশের অন্যতম প্রভাবশালী এই নেত্রীকে। এই নীরবতাই যেন বলে দিচ্ছে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতার কথা।
ইন্তেকালের পর দিন গড়িয়ে গেলেও বেগম খালেদা জিয়ার কবর ঘিরে মানুষের উপস্থিতি থেমে নেই। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কবরস্থলে দেখা যাচ্ছে নানা বয়সী, নানা পেশার মানুষকে—কেউ ফুল হাতে, কেউ নীরবে দাঁড়িয়ে, কেউ কোরআন তেলাওয়াত কিংবা দোয়ায় মগ্ন।
৩০ ডিসেম্বর ইন্তেকাল করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তার চলে যাওয়ার পর এক সপ্তাহ পেরোলেও কবরস্থলের পরিবেশে শোকের আবহ স্পষ্ট। বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও সেখানে শ্রদ্ধা জানাতে আসছেন। অনেকেই রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নন, তবুও দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব, আপসহীন অবস্থান ও গণতন্ত্রের পক্ষে তার ভূমিকার কারণে তারা নিজ দায়িত্ববোধ থেকেই উপস্থিত হচ্ছেন।
কবরের পাশে কেউ নীরবে ফাতেহা পাঠ করছেন, কেউ চোখের অশ্রু মুছছেন, আবার কেউ স্মৃতিচারণায় হারিয়ে যাচ্ছেন অতীতের রাজনৈতিক আন্দোলনের দিনগুলোতে। উপস্থিত অনেকেই বেগম জিয়ার স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা, দীর্ঘ কারাবাস এবং দৃঢ় রাজনৈতিক অবস্থানের কথা স্মরণ করছেন। একই সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে দেখা গেছে আগতদের।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, কবরের এক পাশে দুই ব্যক্তি কোরআন তেলাওয়াতে রত। কবরস্থানের বাইরে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ইউনিট পর্যায় থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া চক্রের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিও কোরআন তেলাওয়াত ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ফজলুল হক বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে জিয়া পরিবার, বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়া ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান অপরিসীম। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই তিনি কবর জিয়ারতে এসেছেন। তার মতে, বেগম জিয়ার মৃত্যু দেশের রাজনীতিতে একটি অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে।
বিএনপির রংপুর বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম বলেন, বেগম জিয়া তাদের কাছে আদর্শিক মাতৃস্বরূপ। তার অবদান স্মরণ করেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এখানে আসছেন এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছেন।
রাজধানীর ৬০ ফুট এলাকা থেকে আসা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জানান, তার কোনো রাজনৈতিক পদ-পদবি নেই। তবে জিয়া পরিবারের প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে। তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান তার আদর্শ এবং বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক।
দিনের আলো ফুরিয়ে এলে কবরস্থলে মানুষের সংখ্যা কিছুটা কমে আসে, তবে শ্রদ্ধার গভীরতা কমে না। কবরস্থলের নীরবতায় রয়ে যায় মানুষের উপস্থিতির চিহ্ন—যা একটি সময়, একটি নেতৃত্ব এবং একটি জাতির স্মৃতিকে প্রতিনিধিত্ব করে। এই নীরবতার মধ্যেই যেন লেখা হচ্ছে ইতিহাসের এক অদৃশ্য অধ্যায়, যা মানুষের মনে দীর্ঘদিন ধরে অমলিন থাকবে।
বিষয় : বাংলাদেশ বিএনপি খালেদা জিয়া শোক গণতন্ত্র

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের সাতদিন পার হলেও তার প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা কমেনি। রাজধানীর কবরস্থলে প্রতিদিন ভিড় করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নীরব উপস্থিতি, অশ্রু ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে তারা স্মরণ করছেন দেশের অন্যতম প্রভাবশালী এই নেত্রীকে। এই নীরবতাই যেন বলে দিচ্ছে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতার কথা।
ইন্তেকালের পর দিন গড়িয়ে গেলেও বেগম খালেদা জিয়ার কবর ঘিরে মানুষের উপস্থিতি থেমে নেই। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কবরস্থলে দেখা যাচ্ছে নানা বয়সী, নানা পেশার মানুষকে—কেউ ফুল হাতে, কেউ নীরবে দাঁড়িয়ে, কেউ কোরআন তেলাওয়াত কিংবা দোয়ায় মগ্ন।
৩০ ডিসেম্বর ইন্তেকাল করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তার চলে যাওয়ার পর এক সপ্তাহ পেরোলেও কবরস্থলের পরিবেশে শোকের আবহ স্পষ্ট। বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও সেখানে শ্রদ্ধা জানাতে আসছেন। অনেকেই রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নন, তবুও দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব, আপসহীন অবস্থান ও গণতন্ত্রের পক্ষে তার ভূমিকার কারণে তারা নিজ দায়িত্ববোধ থেকেই উপস্থিত হচ্ছেন।
কবরের পাশে কেউ নীরবে ফাতেহা পাঠ করছেন, কেউ চোখের অশ্রু মুছছেন, আবার কেউ স্মৃতিচারণায় হারিয়ে যাচ্ছেন অতীতের রাজনৈতিক আন্দোলনের দিনগুলোতে। উপস্থিত অনেকেই বেগম জিয়ার স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা, দীর্ঘ কারাবাস এবং দৃঢ় রাজনৈতিক অবস্থানের কথা স্মরণ করছেন। একই সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে দেখা গেছে আগতদের।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, কবরের এক পাশে দুই ব্যক্তি কোরআন তেলাওয়াতে রত। কবরস্থানের বাইরে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ইউনিট পর্যায় থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া চক্রের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিও কোরআন তেলাওয়াত ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ফজলুল হক বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে জিয়া পরিবার, বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়া ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান অপরিসীম। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই তিনি কবর জিয়ারতে এসেছেন। তার মতে, বেগম জিয়ার মৃত্যু দেশের রাজনীতিতে একটি অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে।
বিএনপির রংপুর বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম বলেন, বেগম জিয়া তাদের কাছে আদর্শিক মাতৃস্বরূপ। তার অবদান স্মরণ করেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এখানে আসছেন এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছেন।
রাজধানীর ৬০ ফুট এলাকা থেকে আসা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জানান, তার কোনো রাজনৈতিক পদ-পদবি নেই। তবে জিয়া পরিবারের প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে। তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান তার আদর্শ এবং বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক।
দিনের আলো ফুরিয়ে এলে কবরস্থলে মানুষের সংখ্যা কিছুটা কমে আসে, তবে শ্রদ্ধার গভীরতা কমে না। কবরস্থলের নীরবতায় রয়ে যায় মানুষের উপস্থিতির চিহ্ন—যা একটি সময়, একটি নেতৃত্ব এবং একটি জাতির স্মৃতিকে প্রতিনিধিত্ব করে। এই নীরবতার মধ্যেই যেন লেখা হচ্ছে ইতিহাসের এক অদৃশ্য অধ্যায়, যা মানুষের মনে দীর্ঘদিন ধরে অমলিন থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন