ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

তথ্য-প্রযুক্তি

ট্রেনে আসছে স্টারলিংক ইন্টারনেট, বদলে যাবে যাত্রা অভিজ্ঞতা

দেশে এই প্রথম আন্তঃনগরসহ সব যাত্রীবাহী ট্রেনে দ্রুতগতির ইন্টারনেট চালু করা হচ্ছে। রেলওয়ে ও বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) যৌথ উদ্যোগে ‘স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোপূর্বে ৪টি ট্রেনে এ সেবা দেওয়া শুরু হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে স্যাটেলাইটভিত্তিক এ সেবা যাত্রীদের মাঝে সাড়া ফেলেছে। ট্রেনে যাত্রীদের ভোগান্তি দূর করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় বসানো হচ্ছে অত্যাধুনিক এ প্রযুক্তি (স্টারলিংক ইন্টারনেট)।সাধারণ যাত্রীরা বলছেন, কোনো ট্রেনেই মোবাইল নেটওয়ার্কের সিগন্যাল পুরোপরি পাওয়া যায় না। তাছাড়া চলন্ত ট্রেনে মোবাইলে ঠিকমতো কথাও বলা যায় না। কল করতেই অনেক সময় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সেবার মান উন্নত করতে ‘স্টারলিংক’ সর্বোচ্চ গতিতে এ সেবা নিশ্চিত করবে-এমনটাই প্রত্যাশা ট্রেন যাত্রীদের।ভারতসহ বিভিন্ন দেশে যাত্রীবাহী ট্রেনে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে দ্রুতগতির স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সেখানে সম্প্রতি সব আন্তঃনগর ট্রেনে এটিএম বুথ বসানোরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে অপারেশন ও পরিবহণ দপ্তর সূত্র বলছে, বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ট্রেনে সংযোগ হচ্ছে স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা। শুরুতে ১১৪টি আন্তঃনগর ট্রেনে এ সেবা নিশ্চিত করা হবে। পরবর্তী সময়ে মেইল ও কমিউটার ট্রেনেও এ সেবা নিশ্চিত করা হবে। প্রতিটি কোচে কিউআর কোড সংযুক্ত করা হবে, যা স্ক্যান করে যাত্রীরা সহজেই ইন্টারনেট সংযোগের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন।এ প্রসঙ্গে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মো. নামজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘রেল বহরে এক এক করে অত্যাধুনিক ইঞ্জিন ও কোচ যুক্ত হচ্ছে। আধুনিক এসব ট্রেনে সিসি ক্যামেরাসহ উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহারের সব ধরনের সুবিধা রয়েছে। আমরা ৪টি আন্তঃনগর ট্রেনে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা চালু করেছি। যাত্রীদের কাছ থেকেও আমরা ভালো সাড়া পাচ্ছি। যাত্রীরা এমন সেবাই চাচ্ছেন-যাতে ট্রেনে বসে তারা উচ্চগতিসম্পন্ন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারেন। আমরা বিএসসিএল’র সঙ্গে একটি চুক্তির মাধ্যমে এ সেবার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করব’। তিনি বলেন, শুধু ইন্টারনেট সেবাই নয়, যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী ট্রেনে এটিএম বুথও বাসানো সম্ভব হবে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১ মাস আগে আন্তঃনগর পর্যটক, বনলতা, পারাবত এক্সপ্রেসসহ বেশ কয়েকটি ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে এ সেবা চালু হয়। এ সেবা চালুর প্রথম দিন থেকেই ভালো ফল পাওয়া গেছে। এখন পর্যায়ক্রমে আন্তঃনগর, মেইল, কমিউটারসহ সব কয়টি যাত্রীবাহী ট্রেনে এ সেবা নিশ্চিত করা হবে। রেলওয়ে পরিকল্পনা দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ১২০ থেকে ১৪০ কিলোমিটার গতিসম্পন্ন ইঞ্জিন-কোচ দ্বারা অধিকাংশ আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করছে। এসব ট্রেনে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট এমনকি এটিএম বুথও খুব সহজে স্থাপন করা যাবে।কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, যাত্রীরা এ সেবা পেয়ে খুবই খুশি। তারা বলছেন, এ সেবা পেয়ে তারা বেশ খুশি, ট্রেনে বসেই নেটে যাবতীয় কাজ সারতে পারছেন। একই সঙ্গে বিনোদন ও ব্যক্তিগত কাজও ইন্টারনেটের মাধ্যমে দ্রুত করতে পারছেন। যারা এ সুবিধা নিচ্ছেন, সবাই বলছেন গতি খুবই ভালো। মাত্র কয়েক সেকেন্ডে সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ পুরো রেলপথেই নেট শতভাগ পাওয়া যাচ্ছে। সবাই এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছে।বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও ক্রয়) প্রকৌশলী মো. গোলাম সারোয়ার যুগান্তরকে বলেন, ইতোমধ্যে আমরা যে কয়টি ট্রেনে এ সেবা দিচ্ছি, সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনাও রয়েছে-রেলে সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত সর্বোচ্চ পর্যায়ে করার। আমরা রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং রেলওয়ের সঙ্গে একটি যৌথ চুক্তির মাধ্যমে এ কাজটি করছি। সবার কাছ থেকে সহযোগিতা পাচ্ছি। যাত্রীরা এ সেবা বিনামূল্যে পাবে কি না, তা আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।তিনি আরও বলেন, রেল কোনো বিজ্ঞাপনি সংস্থা বা তৃতীয় মাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এ সেবা বিনামূল্যে দিতে পারে। আমরা বাণিজ্যিকভাবে এ সেবা চালাতে চাচ্ছি। তবে নামে মাত্র খরচের মাধ্যমে এ সেবা নিশ্চিত করতে পারবে রেল। রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সর্বদা যোগাযোগ হচ্ছে, রেলও এ সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

ট্রেনে আসছে স্টারলিংক ইন্টারনেট, বদলে যাবে যাত্রা অভিজ্ঞতা