ঢাকা    রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

২০২৬ সালের সংশোধনী অনুযায়ী চেকের মামলায় ( NI Act,138) বিচারিক এখতিয়ারে পরিবর্তন এসেছে

চেক ডিজঅনার হলে করণীয় কী? জানুন আপনার আইনি অধিকার



চেক ডিজঅনার হলে করণীয় কী? জানুন আপনার আইনি অধিকার

প্রতিনিয়ত বিভিন্ন প্রয়োজনে আমরা একে অপরের কাছ থেকে চেক গ্রহণ করি। কিন্তু অনেক সময় নানা কারণে সেই চেক ব্যাংকে উপস্থাপন করার পর ডিজঅনার (Dishonour) হয়ে যায়—যা ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তাহলে প্রশ্ন হলো, আপনার হাতে থাকা কোনো চেক যদি ডিজঅনার হয়, তাহলে একজন চেক গ্রহীতা হিসেবে আপনার করণীয় কী? সেই বিষয় গুলো জানবো আমরা আজকের আলোচনায়।

একটা উদাহরণ দেওয়া যাক --

আপনি কাউকে টাকা ধার বা ঋণ দিলেন। ধার বা ঋণ গ্রহীতা উক্ত ধারের টাকা পরিশোধের জন্য আপনাকে একটি চেক দিলো। আপনি উক্ত 'চেক'টি নগদায়নের জন্য 'ব্যাংকে' উপস্থাপন করলেন। এ-ই বিষয়ে ব্যাংক আপনাকে জানালেন, চেকে উল্লেখিত অর্থ চেক প্রদত্ত হিসাব নম্বরে পর্যাপ্ত নয় /উক্ত হিসাব নম্বর এখন আর ব্যবহৃত হচ্ছে না /চেকে প্রদত্ত স্বাক্ষরের সহিত অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের ( হিসাব রক্ষকের) স্বাক্ষর অমিল।

এই ক্ষেত্রে আপনার করণীয় কি?

চেক ডিজঅনার বা প্রতারণা বা অর্থ আত্মসাৎ এর ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত আইনি প্রদক্ষেপ গুলো গ্রহণ করা যায় --

Negotiable Instrument (NI Act) -1881 এর section 138 অনুসারে এবং The penal code 1860 এর section 406/420 অনুযায়ী মামলা দায়ের করে আইনি প্রতিকার পাওয়া যায়।

২০২৬ সালের সংশোধনী অনুযায়ী চেকের মামলায় (NI Act,138) বিচারিক এখতিয়ারে পরিবর্তন এসেছে -

৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চেকের মামলায় বিচার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এবং ৫ লক্ষের বেশি টাকার মামলার বিচার দায়রা জজ( Sessions Judge) আদালতে।

মামলা দায়ের পরবর্তী প্রক্রিয়া --

চেকটি যেদিন প্রদান করেছে সেই তারিখের মধ্যে বা চেকটি যে তারিখ পর্যন্ত বৈধ যেটি পূর্বে সংঘটিত হয় তার মধ্যেই চেকটি ব্যাংক উপস্থাপন করতে হয়।

চেক ডিজঅনার হলে কখন নোটিশ দিতে হবে?

চেক ডিজঅনার হওয়ার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে লিগ্যাল নোটিশ পাঠাতে হবে।

নোটিশ ৩ ভাবে দেওয়া যায় -

১.সরাসরি

২.চেকদাতা যেখানে ব্যবসা করেন

৩.বহুল প্রচলিত কোন বাংলা দৈনিক পত্রিকার মাধ্যমে

চেক দাতা যদি চেকে বর্ণিত টাকা পরিশোধ ৩০ দিনের মধ্যে না করে অর্থাৎ নোটিশ প্রদানের পর নোটিশদাতা ৩০ দিন সময় পাবে। টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে মামলা আনায়ন করা যাবে।

মামলা করার Cause of action কখন থেকে শুরু হয়?

লিগ্যাল নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার পর অর্থাৎ 'রেজিস্টার এডি যোগে ' ৩০ দিনের মধ্যে যে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয় সেই ৩০ দিন পার হওয়ার সাথে সাথেই cause of action শুরু হয়।

এই ক্ষেত্রে চেকদাতা লিগ্যাল নোটিশটি গ্রহণ করুক বা না করুক তার বিরুদ্ধে করা যাবে।

এই মামলায় রায় হলে তার প্রতিকার কি?

আপিল :: রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে উচ্চতর আদালতে আপিল করতে হবে। তবে শর্ত হলো যে, উল্লেখিত টাকার একটি অংশ ( সাধারণত ৫০%) আদালতে জমা প্রদান করতে হবে।

সমঝোতা :: বাদী পক্ষের সাথে কথা বলে টাকা পরিশোদের মাধ্যমে মামলাটি আপোষে মিটিয়ে ফেলা যায় । যেহেতু এটি একটি 'কম্পাউন্ডেবল অপরাধ'তাই টাকা মিটিয়ে দিলে সাজা মওকুফ সম্ভব ।

আরেকটি বিষয় হলো, চেকের মামলা অন্য কেউ করতে পারে কিনা?

সাধারণত চেক প্রাপক মামলা দায়ের করতে পারেন। ২০১২ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইনের পাওয়ার অব অ্যাটর্নি যদি কাউকে দেয়া হয় সে ক্ষেত্রে উক্ত পাওয়ার কৃত ব্যক্তি মামলা দায়ের করতে পারেন।

অনেকেরই প্রশ্ন থাকে, চেকের মামলা থানায় করা যায় কিনা?

NI Act / চেক ডিজঅনার মামলা থানায় দায়ের করা যায় না।

আইনে এর সাজার বিধান রয়েছে - এক বছর কারাদণ্ড বা চেকের ৩ গুণ অর্থ বা উভয় দণ্ড।

মনে রাখবেন পালিয়ে থাকা সমাধান না, বরং আইনি প্রক্রিয়া মোকাবেলা করাটা বুদ্ধিমানের কাজ। আইন জানুন, সচেতন থাকুন, আইন মেন চলুন।

বিষয় : NI Act চেক ডিজঅনার

আপনার মতামত লিখুন

বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬


চেক ডিজঅনার হলে করণীয় কী? জানুন আপনার আইনি অধিকার

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মার্চ ২০২৬

featured Image

প্রতিনিয়ত বিভিন্ন প্রয়োজনে আমরা একে অপরের কাছ থেকে চেক গ্রহণ করি। কিন্তু অনেক সময় নানা কারণে সেই চেক ব্যাংকে উপস্থাপন করার পর ডিজঅনার (Dishonour) হয়ে যায়—যা ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তাহলে প্রশ্ন হলো, আপনার হাতে থাকা কোনো চেক যদি ডিজঅনার হয়, তাহলে একজন চেক গ্রহীতা হিসেবে আপনার করণীয় কী? সেই বিষয় গুলো জানবো আমরা আজকের আলোচনায়।

একটা উদাহরণ দেওয়া যাক --

আপনি কাউকে টাকা ধার বা ঋণ দিলেন। ধার বা ঋণ গ্রহীতা উক্ত ধারের টাকা পরিশোধের জন্য আপনাকে একটি চেক দিলো। আপনি উক্ত 'চেক'টি নগদায়নের জন্য 'ব্যাংকে' উপস্থাপন করলেন। এ-ই বিষয়ে ব্যাংক আপনাকে জানালেন, চেকে উল্লেখিত অর্থ চেক প্রদত্ত হিসাব নম্বরে পর্যাপ্ত নয় /উক্ত হিসাব নম্বর এখন আর ব্যবহৃত হচ্ছে না /চেকে প্রদত্ত স্বাক্ষরের সহিত অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের ( হিসাব রক্ষকের) স্বাক্ষর অমিল।

এই ক্ষেত্রে আপনার করণীয় কি?

চেক ডিজঅনার বা প্রতারণা বা অর্থ আত্মসাৎ এর ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত আইনি প্রদক্ষেপ গুলো গ্রহণ করা যায় --

Negotiable Instrument (NI Act) -1881 এর section 138 অনুসারে এবং The penal code 1860 এর section 406/420 অনুযায়ী মামলা দায়ের করে আইনি প্রতিকার পাওয়া যায়।

২০২৬ সালের সংশোধনী অনুযায়ী চেকের মামলায় (NI Act,138) বিচারিক এখতিয়ারে পরিবর্তন এসেছে -

৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চেকের মামলায় বিচার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এবং ৫ লক্ষের বেশি টাকার মামলার বিচার দায়রা জজ( Sessions Judge) আদালতে।

মামলা দায়ের পরবর্তী প্রক্রিয়া --

চেকটি যেদিন প্রদান করেছে সেই তারিখের মধ্যে বা চেকটি যে তারিখ পর্যন্ত বৈধ যেটি পূর্বে সংঘটিত হয় তার মধ্যেই চেকটি ব্যাংক উপস্থাপন করতে হয়।

চেক ডিজঅনার হলে কখন নোটিশ দিতে হবে?

চেক ডিজঅনার হওয়ার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে লিগ্যাল নোটিশ পাঠাতে হবে।

নোটিশ ৩ ভাবে দেওয়া যায় -

১.সরাসরি

২.চেকদাতা যেখানে ব্যবসা করেন

৩.বহুল প্রচলিত কোন বাংলা দৈনিক পত্রিকার মাধ্যমে

চেক দাতা যদি চেকে বর্ণিত টাকা পরিশোধ ৩০ দিনের মধ্যে না করে অর্থাৎ নোটিশ প্রদানের পর নোটিশদাতা ৩০ দিন সময় পাবে। টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে মামলা আনায়ন করা যাবে।

মামলা করার Cause of action কখন থেকে শুরু হয়?

লিগ্যাল নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার পর অর্থাৎ 'রেজিস্টার এডি যোগে ' ৩০ দিনের মধ্যে যে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয় সেই ৩০ দিন পার হওয়ার সাথে সাথেই cause of action শুরু হয়।

এই ক্ষেত্রে চেকদাতা লিগ্যাল নোটিশটি গ্রহণ করুক বা না করুক তার বিরুদ্ধে করা যাবে।

এই মামলায় রায় হলে তার প্রতিকার কি?

আপিল :: রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে উচ্চতর আদালতে আপিল করতে হবে। তবে শর্ত হলো যে, উল্লেখিত টাকার একটি অংশ ( সাধারণত ৫০%) আদালতে জমা প্রদান করতে হবে।

সমঝোতা :: বাদী পক্ষের সাথে কথা বলে টাকা পরিশোদের মাধ্যমে মামলাটি আপোষে মিটিয়ে ফেলা যায় । যেহেতু এটি একটি 'কম্পাউন্ডেবল অপরাধ'তাই টাকা মিটিয়ে দিলে সাজা মওকুফ সম্ভব ।

আরেকটি বিষয় হলো, চেকের মামলা অন্য কেউ করতে পারে কিনা?

সাধারণত চেক প্রাপক মামলা দায়ের করতে পারেন। ২০১২ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইনের পাওয়ার অব অ্যাটর্নি যদি কাউকে দেয়া হয় সে ক্ষেত্রে উক্ত পাওয়ার কৃত ব্যক্তি মামলা দায়ের করতে পারেন।

অনেকেরই প্রশ্ন থাকে, চেকের মামলা থানায় করা যায় কিনা?

NI Act / চেক ডিজঅনার মামলা থানায় দায়ের করা যায় না।

আইনে এর সাজার বিধান রয়েছে - এক বছর কারাদণ্ড বা চেকের ৩ গুণ অর্থ বা উভয় দণ্ড।

মনে রাখবেন পালিয়ে থাকা সমাধান না, বরং আইনি প্রক্রিয়া মোকাবেলা করাটা বুদ্ধিমানের কাজ। আইন জানুন, সচেতন থাকুন, আইন মেন চলুন।


বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

সম্পাদক ও প্রকাশক : এম. আর. আলম
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ মহসিন পারভেজ

কপিরাইট © ২০২৬ বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত