ঢাকা    রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

জাল দলিল, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে চলমান অনুসন্ধানের মধ্যে আদালতের কড়া আদেশ; জেমকন গ্রুপের এক পরিচালকের ওপরও নিষেধাজ্ঞা।

দুর্নীতির অনুসন্ধানে ইউনাইটেড গ্রুপের তিন শীর্ষ কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা



দুর্নীতির অনুসন্ধানে ইউনাইটেড গ্রুপের তিন শীর্ষ কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
দুর্নীতি দমন কমিশন

দেশের প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইউনাইটেড গ্রুপের তিন শীর্ষ কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। একই দিনে আরেকটি শিল্পগোষ্ঠীর শীর্ষ ব্যক্তির বিরুদ্ধেও একই ধরনের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

দুর্নীতির অভিযোগে চলমান অনুসন্ধান ও তদন্তের প্রেক্ষাপটে ইউনাইটেড গ্রুপের তিন শীর্ষ কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পর এ আদেশ দেন।

দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন—ইউনাইটেড গ্রুপের সাবেক চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রাজা, বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈন উদ্দিন হাসান রশিদ এবং নেপচুন হাউজিং লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা উপপরিচালক আখতারুর ইসলাম।

দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, হাসান মাহমুদ রাজাসহ সংশ্লিষ্ট আরও অন্তত ১২ জনের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে জাল দলিলের মাধ্যমে সরকারি অর্পিত সম্পত্তি দখল, অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিদেশে অর্থ পাচার এবং ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডে অনিয়মের মাধ্যমে আইপিপি রেটে গ্যাস সরবরাহ সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে।

দুদক আদালতকে জানায়, অনুসন্ধান চলাকালে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন—এমন তথ্য পাওয়ায় তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা জরুরি হয়ে পড়ে।

অভিযোগ রয়েছে, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও রিয়েল এস্টেটসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে ইউনাইটেড গ্রুপ। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তারা সুবিধাভোগী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী হিসেবে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পেয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া ২০২৪ সালের ২১ জুন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হলে তার চিকিৎসার জন্য ওষুধ ও অ্যাম্বুলেন্স সহায়তা চাওয়া হলেও ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করে বলে অভিযোগ ওঠে। বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ইউনাইটেড গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তা হাসান মাহমুদ রাজা ও মঈন উদ্দিন হাসান রশিদের সিদ্ধান্তেই ওই সহায়তা নাকচ করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে তৎকালীন সরকারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও ইউনাইটেড গ্রুপের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহল থেকে উঠে আসছে। পাশাপাশি গ্রুপটির কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলার অভিযোগের কথাও আলোচনায় থাকলেও এতদিন দৃশ্যমান কোনো আইনগত পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

অন্যদিকে, পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বেক্সিমকোসহ একাধিক শিল্পগোষ্ঠীর শীর্ষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার ও সম্পদ জব্দসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ইউনাইটেড গ্রুপের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ব্যতিক্রম দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রমতে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে রাজধানীর শহীদ মইনুল সড়কের বাসভবন থেকে উচ্ছেদের প্রক্রিয়ায় সাবেক সেনাপ্রধান আব্দুল মুবীনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বর্তমানে তিনি ইউনাইটেড গ্রুপে প্রভাবশালী দায়িত্বে রয়েছেন বলেও জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ইউনাইটেড গ্রুপ ও তাদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ঠেকাতে তিনি বিভিন্ন দপ্তরে প্রভাব খাটিয়েছেন।

এদিকে একই দিনে পৃথক আবেদনে জেমকন গ্রুপের পরিচালক কাজী ইনাম আহমেদের দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দুদকের করা মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

এই আদেশগুলো দেশের করপোরেট খাতে জবাবদিহি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকরা।

বিষয় : দুর্নীতি দুদক আদালত করপোরেট অপরাধ

আপনার মতামত লিখুন

বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬


দুর্নীতির অনুসন্ধানে ইউনাইটেড গ্রুপের তিন শীর্ষ কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

দেশের প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইউনাইটেড গ্রুপের তিন শীর্ষ কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। একই দিনে আরেকটি শিল্পগোষ্ঠীর শীর্ষ ব্যক্তির বিরুদ্ধেও একই ধরনের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

দুর্নীতির অভিযোগে চলমান অনুসন্ধান ও তদন্তের প্রেক্ষাপটে ইউনাইটেড গ্রুপের তিন শীর্ষ কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পর এ আদেশ দেন।

দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন—ইউনাইটেড গ্রুপের সাবেক চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রাজা, বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈন উদ্দিন হাসান রশিদ এবং নেপচুন হাউজিং লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা উপপরিচালক আখতারুর ইসলাম।

দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, হাসান মাহমুদ রাজাসহ সংশ্লিষ্ট আরও অন্তত ১২ জনের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে জাল দলিলের মাধ্যমে সরকারি অর্পিত সম্পত্তি দখল, অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিদেশে অর্থ পাচার এবং ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডে অনিয়মের মাধ্যমে আইপিপি রেটে গ্যাস সরবরাহ সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে।

দুদক আদালতকে জানায়, অনুসন্ধান চলাকালে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন—এমন তথ্য পাওয়ায় তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা জরুরি হয়ে পড়ে।

অভিযোগ রয়েছে, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও রিয়েল এস্টেটসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে ইউনাইটেড গ্রুপ। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তারা সুবিধাভোগী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী হিসেবে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পেয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া ২০২৪ সালের ২১ জুন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হলে তার চিকিৎসার জন্য ওষুধ ও অ্যাম্বুলেন্স সহায়তা চাওয়া হলেও ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করে বলে অভিযোগ ওঠে। বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ইউনাইটেড গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তা হাসান মাহমুদ রাজা ও মঈন উদ্দিন হাসান রশিদের সিদ্ধান্তেই ওই সহায়তা নাকচ করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে তৎকালীন সরকারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও ইউনাইটেড গ্রুপের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহল থেকে উঠে আসছে। পাশাপাশি গ্রুপটির কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলার অভিযোগের কথাও আলোচনায় থাকলেও এতদিন দৃশ্যমান কোনো আইনগত পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

অন্যদিকে, পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বেক্সিমকোসহ একাধিক শিল্পগোষ্ঠীর শীর্ষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার ও সম্পদ জব্দসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ইউনাইটেড গ্রুপের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ব্যতিক্রম দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রমতে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে রাজধানীর শহীদ মইনুল সড়কের বাসভবন থেকে উচ্ছেদের প্রক্রিয়ায় সাবেক সেনাপ্রধান আব্দুল মুবীনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বর্তমানে তিনি ইউনাইটেড গ্রুপে প্রভাবশালী দায়িত্বে রয়েছেন বলেও জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ইউনাইটেড গ্রুপ ও তাদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ঠেকাতে তিনি বিভিন্ন দপ্তরে প্রভাব খাটিয়েছেন।

এদিকে একই দিনে পৃথক আবেদনে জেমকন গ্রুপের পরিচালক কাজী ইনাম আহমেদের দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দুদকের করা মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

এই আদেশগুলো দেশের করপোরেট খাতে জবাবদিহি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকরা।


বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

সম্পাদক ও প্রকাশক : এম. আর. আলম
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ মহসিন পারভেজ

কপিরাইট © ২০২৬ বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত