জ্বালানি তেল বিক্রি করে বিপিসি বিরাট অংকের লাভ করে। অবাক করা বিষয় হলেও-জনগণের সাথে সরাসরি সরকারের সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা এটি। বিপিসির ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী করপোরেশনটি নিট লাভ করেছে ৪ হাজার ৩১৬ কোটি (৪৩,১৬৭,৬২৭,১৯৬) টাকা। অর্থাৎ প্রতিদিন লাভ হয়েছে ১১ কোটি ৮২ লাখ টাকা। ওই বছরে আমদানি শুল্ক, ভ্যাট, আয়কর এবং লভ্যাংশ বাবদ সব মিলিয়ে বিপিসি সরকারকে দিয়েছে ১৩ হাজার ৭৫ কোটি টাকা।
অথচ লোকসানের কারণ দেখিয়ে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বেশি দামে জ্বালানি তেল বিক্রি করছে সরকার।
বছর জুড়ে লাভ করা বিপিসি কিছুদিন যদি লোকসানও দেয় তাহলেও এই খাত থেকে সরকারের দৈনিক আয় থেমে নেই। আমদানি শুল্ক, ভ্যাট এসব থেকে প্রতিদিন কোষাগারে টাকা আসতে থাকে। এই খাতে এটাই সরকারের বড় আয়ের উৎস। বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রি করলে আগের লাভের সাথে সমন্বয় হতে থাকবে শুধু।
আরেকটা কথা, ডিজেলের চেয়ে অক্টেন ও পেট্রোল তুলনামুলক বিলাসপণ্য। ডিজেলের ব্যবহার কমলে জাতীয় উৎপানে আঘাত আসে। ফসলের ক্ষেতে প্রভাব পড়ে। ডিজেলের দাম বাড়লে পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে নিত্যপণ্যের দাম লাফিয়ে বাড়ে, মুল্যস্ফীতি লাগামহীন হয়। বুদ্ধিমান সরকার অক্টেন-পেট্রোলের মুনাফা দিয়ে হলেও আরো কিছুদিন ডিজেলে ভুর্তুকি দিতে পারতো। ডিজেলে ভর্তুকি দিলে সুবিধা পায় সাধারণ জনগণ। আর অক্টেনে দিলে পায় উচ্চবিত্তরা।
যে গ্রাহকের কাছ থেকে এতদিন লাভ করেছে সরকার, সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রান্তিক পর্যায়ের গ্রাহকদের বিশেষ করে ডিজেলের ব্যবহারকারীদের ভর্তুকি দেওয়া সরকারের অন্যতম করণীয় বলে মনে হয়।
বিষয় : বিপিসি জ্বালানি তেল

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬
জ্বালানি তেল বিক্রি করে বিপিসি বিরাট অংকের লাভ করে। অবাক করা বিষয় হলেও-জনগণের সাথে সরাসরি সরকারের সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা এটি। বিপিসির ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী করপোরেশনটি নিট লাভ করেছে ৪ হাজার ৩১৬ কোটি (৪৩,১৬৭,৬২৭,১৯৬) টাকা। অর্থাৎ প্রতিদিন লাভ হয়েছে ১১ কোটি ৮২ লাখ টাকা। ওই বছরে আমদানি শুল্ক, ভ্যাট, আয়কর এবং লভ্যাংশ বাবদ সব মিলিয়ে বিপিসি সরকারকে দিয়েছে ১৩ হাজার ৭৫ কোটি টাকা।
অথচ লোকসানের কারণ দেখিয়ে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বেশি দামে জ্বালানি তেল বিক্রি করছে সরকার।
বছর জুড়ে লাভ করা বিপিসি কিছুদিন যদি লোকসানও দেয় তাহলেও এই খাত থেকে সরকারের দৈনিক আয় থেমে নেই। আমদানি শুল্ক, ভ্যাট এসব থেকে প্রতিদিন কোষাগারে টাকা আসতে থাকে। এই খাতে এটাই সরকারের বড় আয়ের উৎস। বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রি করলে আগের লাভের সাথে সমন্বয় হতে থাকবে শুধু।
আরেকটা কথা, ডিজেলের চেয়ে অক্টেন ও পেট্রোল তুলনামুলক বিলাসপণ্য। ডিজেলের ব্যবহার কমলে জাতীয় উৎপানে আঘাত আসে। ফসলের ক্ষেতে প্রভাব পড়ে। ডিজেলের দাম বাড়লে পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে নিত্যপণ্যের দাম লাফিয়ে বাড়ে, মুল্যস্ফীতি লাগামহীন হয়। বুদ্ধিমান সরকার অক্টেন-পেট্রোলের মুনাফা দিয়ে হলেও আরো কিছুদিন ডিজেলে ভুর্তুকি দিতে পারতো। ডিজেলে ভর্তুকি দিলে সুবিধা পায় সাধারণ জনগণ। আর অক্টেনে দিলে পায় উচ্চবিত্তরা।
যে গ্রাহকের কাছ থেকে এতদিন লাভ করেছে সরকার, সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রান্তিক পর্যায়ের গ্রাহকদের বিশেষ করে ডিজেলের ব্যবহারকারীদের ভর্তুকি দেওয়া সরকারের অন্যতম করণীয় বলে মনে হয়।

আপনার মতামত লিখুন