ঢাকা    রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের মূলধারায় আনতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যমে সম্প্রসারণ জরুরি — শারমীন এস মুরশিদ

রাষ্ট্রীয় সেবায় ইশারা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে


অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

রাষ্ট্রীয় সেবায় ইশারা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দফতর, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং গণমাধ্যমে ইশারা ভাষার ব্যবহার সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে বাংলা ইশারা ভাষা দিবস–২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত র‌্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, “ইশারা ভাষা এ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ভাষা। ইশারা ভাষাভাষী নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারের দায়িত্ব কোনো করুণা বা দান নয়—এটি তাদের ন্যায্য অধিকার।” তিনি আরও বলেন, বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি অর্জনের অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বজুড়ে ইশারা ভাষার গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে এবং জাতিসংঘের স্বীকৃতির মাধ্যমে এর গুরুত্ব আরও সুদৃঢ় হয়েছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ইশারা ভাষার ব্যবহার, বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার’ অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করছে।

শারমীন এস মুরশিদ বলেন, “ইশারা ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়—এটি বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী মানুষের ভাষাগত পরিচয়, আত্মমর্যাদা ও নাগরিক অধিকারের ভিত্তি। ইশারা ভাষাকে অবহেলা করা মানে একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা।”

রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে শিক্ষা, তথ্য, সেবা ও বিচার ব্যবস্থায় সবার সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়নে বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এর ধারাবাহিকতায় বাংলা ইশারা ভাষার স্বীকৃতি, ব্যবহার ও প্রসার নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি আরও জানান, সরকারি গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনে সংবাদ পরিবেশনে ইশারা ভাষার ব্যবহার এবং বিশেষ স্কুলগুলোতে ইশারা ভাষাভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম ইতোমধ্যে চালু রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তরিকুল আলম (অতিরিক্ত সচিব)। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কামাল উদ্দিন সরকার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশনের পরিচালক সোনামণি চাকমা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সোসাইটি অব দ্য ডেপ অ্যান্ড সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ইউজার্সের গবেষক মো. আব্দুল্লাহ।

অনুষ্ঠানে বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠান শেষে মেধাবী বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদ ও পুরস্কার বিতরণ করেন উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।

বিষয় : বাংলা ইশারা ভাষা দিবস–২০২৬

আপনার মতামত লিখুন

বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬


রাষ্ট্রীয় সেবায় ইশারা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে

প্রকাশের তারিখ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দফতর, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং গণমাধ্যমে ইশারা ভাষার ব্যবহার সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে বাংলা ইশারা ভাষা দিবস–২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত র‌্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, “ইশারা ভাষা এ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ভাষা। ইশারা ভাষাভাষী নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারের দায়িত্ব কোনো করুণা বা দান নয়—এটি তাদের ন্যায্য অধিকার।” তিনি আরও বলেন, বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি অর্জনের অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বজুড়ে ইশারা ভাষার গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে এবং জাতিসংঘের স্বীকৃতির মাধ্যমে এর গুরুত্ব আরও সুদৃঢ় হয়েছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ইশারা ভাষার ব্যবহার, বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার’ অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করছে।

শারমীন এস মুরশিদ বলেন, “ইশারা ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়—এটি বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী মানুষের ভাষাগত পরিচয়, আত্মমর্যাদা ও নাগরিক অধিকারের ভিত্তি। ইশারা ভাষাকে অবহেলা করা মানে একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা।”

রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে শিক্ষা, তথ্য, সেবা ও বিচার ব্যবস্থায় সবার সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়নে বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এর ধারাবাহিকতায় বাংলা ইশারা ভাষার স্বীকৃতি, ব্যবহার ও প্রসার নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি আরও জানান, সরকারি গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনে সংবাদ পরিবেশনে ইশারা ভাষার ব্যবহার এবং বিশেষ স্কুলগুলোতে ইশারা ভাষাভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম ইতোমধ্যে চালু রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তরিকুল আলম (অতিরিক্ত সচিব)। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কামাল উদ্দিন সরকার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশনের পরিচালক সোনামণি চাকমা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সোসাইটি অব দ্য ডেপ অ্যান্ড সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ইউজার্সের গবেষক মো. আব্দুল্লাহ।

অনুষ্ঠানে বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠান শেষে মেধাবী বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদ ও পুরস্কার বিতরণ করেন উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।


বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

সম্পাদক ও প্রকাশক : এম. আর. আলম
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ মহসিন পারভেজ

কপিরাইট © ২০২৬ বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত