চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের পর তার অপরাধ জগতের নেটওয়ার্ক, অস্ত্রের উৎস, চাঁদাবাজির অর্থের প্রবাহ, তদবিরকারীদের টাকার ভাগ দেওয়া এবং ভারতে পালানোর পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রামভিত্তিক ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে ডেভিড ইমনের গ্রুপ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত।
একইসঙ্গে চাঁদাবাজির অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে অবস্থানরত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর কাছে পাঠানো হতো। সেখানে ডেভিড ইমনের জন্য ‘আজহার খান’ নামে তৈরি করা হয়েছে আধার কার্ড।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, গ্রেপ্তারের সময় ডেভিড ইমনের কাছ থেকে ভারতের একটি আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।
সাজ্জাদ আলীর পরামর্শেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং সীমান্তের ওপারে তাকে গ্রহণ করার জন্য লোকজনও প্রস্তুত ছিল।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের জন্য কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালানো হয়।
প্রথমে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার পথে কুমিল্লায় তাকে আটকের চেষ্টা করা হয়। পরে খুলনার উদ্দেশে রওনা হলে পদ্মা সেতু এলাকাতেও তাকে ধরা সম্ভব হয়নি। গোপালগঞ্জ ও নড়াইল পেরিয়ে যশোরের দিকে যাওয়ার সময়ও অভিযান চালানো হয়। শেষ পর্যন্ত যশোর জেলার কোতোয়ালী থানার ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তে পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, ডেভিড ইমন ও সন্ত্রাসী রায়হান নিজেদের মধ্যে এলাকা ভাগ করে চাঁদাবাজি পরিচালনা করতেন। ডেভিড ইমন চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় এবং রায়হান চট্টগ্রাম জেলা এলাকায় চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করতেন। একজনের এলাকায় অন্যজন কার্যক্রম পরিচালনা করতেন না।
পুলিশের ভাষ্য, আগে রায়হানের সঙ্গে ২৫ থেকে ৩০ জন সশস্ত্র সহযোগী চলাফেরা করলেও সাম্প্রতিক অভিযানের পর তার নেটওয়ার্ক অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, চাঁদাবাজির অর্থ দিয়ে রায়হান সম্প্রতি প্রায় ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি কিনেছেন। এছাড়া ডেভিড ইমন ও রায়হান চাঁদাবাজির অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন তদবিরকারীর কাছেও পৌঁছে দিতেন।
ডেভিড ইমনের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায় রাউজান থানার মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া মো. মিঠু প্রকাশ ধামা ইলিয়াসকে জিজ্ঞাসাবাদে। তার দেওয়া তথ্য, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে যশোরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- ফটিকছড়ির উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মোবারক হোসেন ইমন প্রকাশ ডেভিড ইমন (২৫), কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের মো. শামীম (২৮), ঢাকার শ্যামপুরের আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫) এবং নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির মো. সাফায়েত হোসেন (২৪)।
পুলিশ সুপার জানান, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। পরে ২২ জুলাই ধামা ইলিয়াসকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুই দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অস্ত্রের মজুদ, সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক এবং সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ধামা ইলিয়াস সন্ত্রাসী রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ ২১টি মামলা রয়েছে।
ডেভিড ইমনের তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোরে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামে পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশে তৈরি এলজি এবং আরও কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগর, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৩টি মামলা রয়েছে। এছাড়া রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও চট্টগ্রাম মহানগরের একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার বিষয়েও তদন্ত চলছে। তবে ইউপিডিএফের কাছ থেকে অস্ত্র সংগ্রহ, হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার এবং ভারতে অবস্থানরত সাজ্জাদ আলীর কাছে অর্থ পাঠানোর অভিযোগগুলো এখনও তদন্তাধীন।

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬
চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের পর তার অপরাধ জগতের নেটওয়ার্ক, অস্ত্রের উৎস, চাঁদাবাজির অর্থের প্রবাহ, তদবিরকারীদের টাকার ভাগ দেওয়া এবং ভারতে পালানোর পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রামভিত্তিক ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে ডেভিড ইমনের গ্রুপ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত।
একইসঙ্গে চাঁদাবাজির অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে অবস্থানরত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর কাছে পাঠানো হতো। সেখানে ডেভিড ইমনের জন্য ‘আজহার খান’ নামে তৈরি করা হয়েছে আধার কার্ড।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, গ্রেপ্তারের সময় ডেভিড ইমনের কাছ থেকে ভারতের একটি আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।
সাজ্জাদ আলীর পরামর্শেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং সীমান্তের ওপারে তাকে গ্রহণ করার জন্য লোকজনও প্রস্তুত ছিল।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের জন্য কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালানো হয়।
প্রথমে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার পথে কুমিল্লায় তাকে আটকের চেষ্টা করা হয়। পরে খুলনার উদ্দেশে রওনা হলে পদ্মা সেতু এলাকাতেও তাকে ধরা সম্ভব হয়নি। গোপালগঞ্জ ও নড়াইল পেরিয়ে যশোরের দিকে যাওয়ার সময়ও অভিযান চালানো হয়। শেষ পর্যন্ত যশোর জেলার কোতোয়ালী থানার ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তে পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, ডেভিড ইমন ও সন্ত্রাসী রায়হান নিজেদের মধ্যে এলাকা ভাগ করে চাঁদাবাজি পরিচালনা করতেন। ডেভিড ইমন চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় এবং রায়হান চট্টগ্রাম জেলা এলাকায় চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করতেন। একজনের এলাকায় অন্যজন কার্যক্রম পরিচালনা করতেন না।
পুলিশের ভাষ্য, আগে রায়হানের সঙ্গে ২৫ থেকে ৩০ জন সশস্ত্র সহযোগী চলাফেরা করলেও সাম্প্রতিক অভিযানের পর তার নেটওয়ার্ক অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, চাঁদাবাজির অর্থ দিয়ে রায়হান সম্প্রতি প্রায় ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি কিনেছেন। এছাড়া ডেভিড ইমন ও রায়হান চাঁদাবাজির অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন তদবিরকারীর কাছেও পৌঁছে দিতেন।
ডেভিড ইমনের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায় রাউজান থানার মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া মো. মিঠু প্রকাশ ধামা ইলিয়াসকে জিজ্ঞাসাবাদে। তার দেওয়া তথ্য, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে যশোরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- ফটিকছড়ির উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মোবারক হোসেন ইমন প্রকাশ ডেভিড ইমন (২৫), কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের মো. শামীম (২৮), ঢাকার শ্যামপুরের আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫) এবং নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির মো. সাফায়েত হোসেন (২৪)।
পুলিশ সুপার জানান, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। পরে ২২ জুলাই ধামা ইলিয়াসকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুই দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অস্ত্রের মজুদ, সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক এবং সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ধামা ইলিয়াস সন্ত্রাসী রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ ২১টি মামলা রয়েছে।
ডেভিড ইমনের তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোরে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামে পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশে তৈরি এলজি এবং আরও কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগর, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৩টি মামলা রয়েছে। এছাড়া রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও চট্টগ্রাম মহানগরের একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার বিষয়েও তদন্ত চলছে। তবে ইউপিডিএফের কাছ থেকে অস্ত্র সংগ্রহ, হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার এবং ভারতে অবস্থানরত সাজ্জাদ আলীর কাছে অর্থ পাঠানোর অভিযোগগুলো এখনও তদন্তাধীন।

আপনার মতামত লিখুন