ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

গোলশূন্য লড়াই ভাঙলেন বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনো; ১-০ জয়ে শেষ আটে স্পেন।

শেষ বাঁশিতে স্পেনের উল্লাস, রোনালদোর বিশ্বকাপ স্বপ্নের ইতি



শেষ বাঁশিতে স্পেনের উল্লাস, রোনালদোর বিশ্বকাপ স্বপ্নের ইতি

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হয়ে গেল এক বর্ণাঢ্য বিশ্বকাপ অধ্যায়। নাটকীয় এক লড়াইয়ে যোগ করা সময়ের গোলে ১-০ ব্যবধানে পর্তুগালকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে স্পেন। আর সেই সঙ্গে ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ যাত্রারও ইতি ঘটল নির্মম এক পরাজয়ে।

ডালাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই দুই ইউরোপীয় পরাশক্তির লড়াই ছিল সমানে সমান। বলের দখলে এগিয়ে ছিল স্পেন, তবে পাল্টা আক্রমণে বারবার সুযোগ তৈরি করছিল পর্তুগাল। দশম মিনিটেই মিকেল ওইয়ারসাবালের দুর্দান্ত সুযোগ অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। জবাবে ১৩ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে রোনালদোর জোরালো শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন স্পেন গোলরক্ষক উনাই সিমন।

এরপর লামিন ইয়ামাল, অ্যালেক্স বায়েনা ও দানি অলমোকে নিয়ে একের পর এক আক্রমণ গড়ে তোলে স্পেন। কিন্তু পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা ছিলেন দুর্দান্ত। ১৮ মিনিটে ইয়ামাল ও বায়েনার টানা দুটি শট ঠেকিয়ে দলকে রক্ষা করেন তিনি।

প্রথমার্ধের সবচেয়ে বড় সুযোগটি আসে ৪২ মিনিটে। কর্নার থেকে বল পেয়ে নুনো মেন্দেস দূরপাল্লার শট নেন। বলটি স্পেনের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক বদলে ক্রসবারে আঘাত করে ফিরে আসে। ভাগ্য সহায় হলে সেখানেই এগিয়ে যেতে পারত পর্তুগাল। তবে প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়।

বিরতির পর স্পেন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ইয়ামালের গতি, অলমোর সৃজনশীলতা এবং পেদ্রির পাসিংয়ে বারবার চাপে পড়ে পর্তুগাল। অন্যদিকে রোনালদোকে লক্ষ্য করে কয়েকটি আক্রমণ সাজালেও সেগুলো শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। ৬০ মিনিটে জোয়াও ফেলিক্সের বাড়ানো বলে রোনালদো শট নেওয়ার সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি।

ম্যাচের মাঝপথে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন নুনো মেন্দেস। এরপর রাফায়েল লেয়াও, দিয়োগো দালোট, ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও ও বার্নার্দো সিলভাকে নামিয়ে জয়ের চেষ্টা করেন কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। অন্যদিকে স্পেনও ফেরান তোরেস ও মিকেল মেরিনোকে মাঠে নামিয়ে আক্রমণে নতুন গতি আনে।

সময় যত গড়াচ্ছিল, ম্যাচ ততই অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল। দুই দলের খেলোয়াড়দের ক্লান্তি স্পষ্ট হলেও কেউই ভুল করতে চাইছিল না। কিন্তু ফুটবল কখনও কখনও এক মুহূর্তেই বদলে যায়।

যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে দুর্দান্ত থ্রু পাস বাড়ান ফেরান তোরেস। সেই বল ধরে বক্সের ভেতরে ঢুকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে দিয়োগো কস্তাকে পরাস্ত করেন বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনো। মুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়ে স্পেন শিবির, আর স্তব্ধ হয়ে যায় পর্তুগালের সমর্থকেরা।

বাকি সময়ে মরিয়া হয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও আর কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি পর্তুগাল। শেষ বাঁশি বাজতেই নিশ্চিত হয় স্পেনের ১-০ ব্যবধানের জয় এবং কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট।

ম্যাচের আগেই রোনালদো ঘোষণা দিয়েছিলেন, এটিই তার শেষ বিশ্বকাপ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, ফল যাই হোক, ফুটবলের জন্য নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়ায় তার কোনো আক্ষেপ থাকবে না। তবুও বিদায়টা নিঃসন্দেহে বেদনাদায়ক। শেষ মুহূর্তের এক গোল কেড়ে নিল বিশ্বকাপ জয়ের শেষ স্বপ্নটুকু।

এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে স্পেন মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়ামের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দলের। আর পর্তুগালের সঙ্গে শেষ হয়ে গেল বিশ্বকাপের মঞ্চে রোনালদোর দুই দশকেরও বেশি সময়জুড়ে লেখা এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়!

বিষয় : বিশ্বকাপ ফুটবল রোনালদো স্পেন পর্তুগাল

আপনার মতামত লিখুন

বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬


শেষ বাঁশিতে স্পেনের উল্লাস, রোনালদোর বিশ্বকাপ স্বপ্নের ইতি

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হয়ে গেল এক বর্ণাঢ্য বিশ্বকাপ অধ্যায়। নাটকীয় এক লড়াইয়ে যোগ করা সময়ের গোলে ১-০ ব্যবধানে পর্তুগালকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে স্পেন। আর সেই সঙ্গে ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ যাত্রারও ইতি ঘটল নির্মম এক পরাজয়ে।

ডালাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই দুই ইউরোপীয় পরাশক্তির লড়াই ছিল সমানে সমান। বলের দখলে এগিয়ে ছিল স্পেন, তবে পাল্টা আক্রমণে বারবার সুযোগ তৈরি করছিল পর্তুগাল। দশম মিনিটেই মিকেল ওইয়ারসাবালের দুর্দান্ত সুযোগ অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। জবাবে ১৩ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে রোনালদোর জোরালো শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন স্পেন গোলরক্ষক উনাই সিমন।

এরপর লামিন ইয়ামাল, অ্যালেক্স বায়েনা ও দানি অলমোকে নিয়ে একের পর এক আক্রমণ গড়ে তোলে স্পেন। কিন্তু পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা ছিলেন দুর্দান্ত। ১৮ মিনিটে ইয়ামাল ও বায়েনার টানা দুটি শট ঠেকিয়ে দলকে রক্ষা করেন তিনি।

প্রথমার্ধের সবচেয়ে বড় সুযোগটি আসে ৪২ মিনিটে। কর্নার থেকে বল পেয়ে নুনো মেন্দেস দূরপাল্লার শট নেন। বলটি স্পেনের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক বদলে ক্রসবারে আঘাত করে ফিরে আসে। ভাগ্য সহায় হলে সেখানেই এগিয়ে যেতে পারত পর্তুগাল। তবে প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়।

বিরতির পর স্পেন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ইয়ামালের গতি, অলমোর সৃজনশীলতা এবং পেদ্রির পাসিংয়ে বারবার চাপে পড়ে পর্তুগাল। অন্যদিকে রোনালদোকে লক্ষ্য করে কয়েকটি আক্রমণ সাজালেও সেগুলো শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। ৬০ মিনিটে জোয়াও ফেলিক্সের বাড়ানো বলে রোনালদো শট নেওয়ার সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি।

ম্যাচের মাঝপথে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন নুনো মেন্দেস। এরপর রাফায়েল লেয়াও, দিয়োগো দালোট, ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও ও বার্নার্দো সিলভাকে নামিয়ে জয়ের চেষ্টা করেন কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। অন্যদিকে স্পেনও ফেরান তোরেস ও মিকেল মেরিনোকে মাঠে নামিয়ে আক্রমণে নতুন গতি আনে।

সময় যত গড়াচ্ছিল, ম্যাচ ততই অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল। দুই দলের খেলোয়াড়দের ক্লান্তি স্পষ্ট হলেও কেউই ভুল করতে চাইছিল না। কিন্তু ফুটবল কখনও কখনও এক মুহূর্তেই বদলে যায়।

যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে দুর্দান্ত থ্রু পাস বাড়ান ফেরান তোরেস। সেই বল ধরে বক্সের ভেতরে ঢুকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে দিয়োগো কস্তাকে পরাস্ত করেন বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনো। মুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়ে স্পেন শিবির, আর স্তব্ধ হয়ে যায় পর্তুগালের সমর্থকেরা।

বাকি সময়ে মরিয়া হয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও আর কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি পর্তুগাল। শেষ বাঁশি বাজতেই নিশ্চিত হয় স্পেনের ১-০ ব্যবধানের জয় এবং কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট।

ম্যাচের আগেই রোনালদো ঘোষণা দিয়েছিলেন, এটিই তার শেষ বিশ্বকাপ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, ফল যাই হোক, ফুটবলের জন্য নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়ায় তার কোনো আক্ষেপ থাকবে না। তবুও বিদায়টা নিঃসন্দেহে বেদনাদায়ক। শেষ মুহূর্তের এক গোল কেড়ে নিল বিশ্বকাপ জয়ের শেষ স্বপ্নটুকু।

এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে স্পেন মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়ামের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দলের। আর পর্তুগালের সঙ্গে শেষ হয়ে গেল বিশ্বকাপের মঞ্চে রোনালদোর দুই দশকেরও বেশি সময়জুড়ে লেখা এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়!


বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

সম্পাদক ও প্রকাশক : এম. আর. আলম
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ মহসিন পারভেজ

কপিরাইট © ২০২৬ বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত