ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে বিনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারি সেবা সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করতে বিভিন্ন খাতভিত্তিক পরিকল্পনা ও কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় এই সংক্রান্ত ঘোষণা দিতে পারেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রয় আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী।
এবারের সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী ব্যবসায় সহায়ক পরিবেশ উন্নয়নে বিনিয়ন্ত্রণ-কে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারি সেবা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ ও কার্যকর করা।
ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার ক্ষেত্রে সময়, ব্যয় এবং অনিশ্চয়তা কমাতে অনুমোদন ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় অনলাইনভিত্তিক, সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দিতে পারেন অর্থমন্ত্রী। আবেদন জমা থেকে শুরু করে লাইসেন্স প্রদান পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ সাতদিনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে।
এছাড়া কোনো অনুমোদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থা মতামত, অনাপত্তি, ছাড়পত্র বা নাদাবি সনদ না দিলে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তা সম্মতি হিসেবে গণ্য করে আবেদন নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোম্পানি নিবন্ধন প্রক্রিয়াও দ্রুততর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোম্পানি নিবন্ধনের কাজ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হবে।
বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের অংশ হিসেবে বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ জনবলের ওয়ার্ক পারমিট সাতদিনের মধ্যে এবং বিনিয়োগকারী ও প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভিসা ১০ দিনের মধ্যে প্রদানের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনার কথা জানাতে পারেন অর্থমন্ত্রী।
বিনিয়োগকারীদের আইনি সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তির পরিধি সম্প্রসারণ এবং দ্বৈত কর পরিহার চুক্তিগুলো হালনাগাদ ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে নির্বাচিত শিল্পাঞ্চল ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ শিল্প-সুবিধা প্যাকেজ চালুর ঘোষণা দেওয়া হতে পারে বাজেটে। এর ফলে উদ্যোক্তারা দ্রুত কারখানা স্থাপন ও উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন।
এছাড়া বিদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা ছাড়পত্রের আবেদন ও যাচাই প্রক্রিয়াও পৃথকভাবে অনলাইনভিত্তিক এবং নির্ধারিত সময়সীমার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করতে পারেন অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে, ব্যবসা সহজীকরণের সামগ্রিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট ব্যবস্থার সংস্কারেও বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করার ঘোষণা দিতে পারেন, যা আগামীদিনে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ আরও উন্নত করবে।

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬
ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে বিনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারি সেবা সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করতে বিভিন্ন খাতভিত্তিক পরিকল্পনা ও কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় এই সংক্রান্ত ঘোষণা দিতে পারেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রয় আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী।
এবারের সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী ব্যবসায় সহায়ক পরিবেশ উন্নয়নে বিনিয়ন্ত্রণ-কে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারি সেবা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ ও কার্যকর করা।
ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার ক্ষেত্রে সময়, ব্যয় এবং অনিশ্চয়তা কমাতে অনুমোদন ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় অনলাইনভিত্তিক, সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দিতে পারেন অর্থমন্ত্রী। আবেদন জমা থেকে শুরু করে লাইসেন্স প্রদান পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ সাতদিনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে।
এছাড়া কোনো অনুমোদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থা মতামত, অনাপত্তি, ছাড়পত্র বা নাদাবি সনদ না দিলে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তা সম্মতি হিসেবে গণ্য করে আবেদন নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোম্পানি নিবন্ধন প্রক্রিয়াও দ্রুততর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোম্পানি নিবন্ধনের কাজ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হবে।
বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের অংশ হিসেবে বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ জনবলের ওয়ার্ক পারমিট সাতদিনের মধ্যে এবং বিনিয়োগকারী ও প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভিসা ১০ দিনের মধ্যে প্রদানের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনার কথা জানাতে পারেন অর্থমন্ত্রী।
বিনিয়োগকারীদের আইনি সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তির পরিধি সম্প্রসারণ এবং দ্বৈত কর পরিহার চুক্তিগুলো হালনাগাদ ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে নির্বাচিত শিল্পাঞ্চল ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ শিল্প-সুবিধা প্যাকেজ চালুর ঘোষণা দেওয়া হতে পারে বাজেটে। এর ফলে উদ্যোক্তারা দ্রুত কারখানা স্থাপন ও উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন।
এছাড়া বিদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা ছাড়পত্রের আবেদন ও যাচাই প্রক্রিয়াও পৃথকভাবে অনলাইনভিত্তিক এবং নির্ধারিত সময়সীমার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করতে পারেন অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে, ব্যবসা সহজীকরণের সামগ্রিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট ব্যবস্থার সংস্কারেও বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করার ঘোষণা দিতে পারেন, যা আগামীদিনে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ আরও উন্নত করবে।

আপনার মতামত লিখুন