স্থায়ী লাইসেন্স না থাকলেও থেমে নেই কার্যক্রম। ছয় মাস মেয়াদি অস্থায়ী অনুমোদন বারবার নবায়ন করে পেমেন্ট গেটওয়ে সেবা চালিয়ে যাচ্ছে সরকারি উদ্যোগ ‘একপে’। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের অ্যাস্পায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রকল্পের এই উদ্যোগটি ২০১৯ সাল থেকে পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) হিসেবে কাজ করছে। অথচ আইন অনুযায়ী, এ ধরনের সেবা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পিএসও লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক।
২০১৯ সালের অক্টোবরে একপে চালু করে এটুআই। অর্থ পরিশোধকারী ও গ্রহণকারীর মধ্যে ‘ডিজিটাল সেতু’ হিসেবে কাজ করে এই প্ল্যাটফর্ম। একপের মাধ্যমে লেনদেনের জন্য সরাসরি ব্যাংকে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। নির্দিষ্ট কোনো মাধ্যমের ওপরও নির্ভর করতে হয় না। যে কোনো ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট থেকে সেবা নেওয়া যায়।
একচেটিয়া বাজার
বর্তমানে ৭৮টি সরকারি দপ্তরের অধীনে প্রায় ১৪৭টি সেবার বিপরীতে ফি নেওয়া হচ্ছে একপের মাধ্যমে। এর আওতায় রয়েছে পাসপোর্ট থেকে শুরু করে ইউটিলিটি বিল, ভূমি কর, ট্রেড লাইসেন্স ফি’র মতো নানা গুরুত্বপূর্ণ সেবা। বেসরকারি পেমেন্ট গেটওয়েগুলো মূল ফি’র সঙ্গে অতিরিক্ত চার্জ নিলেও একপে নেয় না। এটিই প্রতিষ্ঠানটিকে একচেটিয়া বাজার দখলের সুযোগ করে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি সেবার বিপরীতে নির্ধারিত ফি আইন দ্বারা সুরক্ষিত। বাড়তি চার্জ যোগ করতে হলে আইনি কাঠামো বদলাতে হবে। সেই পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত বেসরকারি পেমেন্ট অপারেটররা সরকারি দপ্তরে ঢুকতে পারছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফিনটেক খাতের এক পেশাজীবী বলেন, ‘আইনি জটিলতার সমাধান না করে একপেকে মাঝখানে আনা হয়েছে। একপে কোনো ফি চার্জ করে না। কিন্তু এই সুবিধায় তারা সরকারি সেবার ফি প্রদানের ক্ষেত্রে বাজারে মনোপলি করছে। অথচ সোনালী ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়েও অতিরিক্ত চার্জ যুক্ত করে। অর্থাৎ, লাইসেন্সবিহীন একটি উদ্যোগ কোনো ফি না নিয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের পেমেন্ট সিস্টেম দখল করে আছে। এতে অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি পেমেন্ট গেটওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটি প্রতিযোগিতা আইনের পরিপন্থি। আপনি তো বাজারে মনোপলি তৈরি করতে পারেন না। এভাবে ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি বাড়বে না।’
কেন লাইসেন্স মিলছে না
‘দ্য বাংলাদেশ পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেম রেগুলেশন-২০১৪’ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লাইসেন্স ছাড়া পিএসও সেবা দেওয়া যায় না। ‘পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেম অ্যাক্ট-২০২৪’-এও একই বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তারপরও ২০১৯ থেকে এখন পর্যন্ত লাইসেন্স ছাড়াই চলছে একপে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও একপের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত না হলে বা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় না থাকলে এ ধরনের উদ্যোগকে লাইসেন্স দেওয়ার সুযোগ নেই। একপে মূলত সরকারের একটি প্রকল্পের উদ্যোগ মাত্র, কোনো স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান নয়। মূলত এ কারণেই আটকে আছে লাইসেন্স।
২০২৩ সালের জুনে প্রথমবার আবেদন করে এই কারণে লাইসেন্স পায়নি একপে। বাংলাদেশ ব্যাংক লিখিতভাবে এশিয়া পোস্টকে জানিয়েছে, ‘কোম্পানি গঠন এবং লাইসেন্সের আবেদন না করা পর্যন্ত একপেকে পেমেন্ট সেবা অব্যাহত রাখতে এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) দেওয়া হয়েছে।’ এই এনওসির মেয়াদ ছয় মাস।
সেটেলমেন্টের জটিলতা কমছে
পেমেন্ট গেটওয়েতে অনেক সময় অর্থ ‘হোল্ড’ হয়ে থাকে। সফল ও হোল্ড হওয়া লেনদেন সেটেলমেন্টের জন্য থাকে ‘ট্রাস্ট কাম সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্ট।’ ২০২০ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছিল, লাইসেন্সবিহীন পিএসও ও পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের (পিএসপি) জন্য এই ধরনের অ্যাকাউন্ট না খুলতে। তবু একপের এই অ্যাকাউন্ট রয়েছে।
একপে কর্তৃপক্ষ বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে বিভিন্ন সময়ে লেনদেন হোল্ড হয়ে থাকত এবং সেটেলমেন্টে সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগত। তবে বর্তমানে প্রতিদিনের লেনদেন প্রতিদিনই সেটেলমেন্ট হচ্ছে।
সরকারি কোম্পানি হিসেবে লাইসেন্স চায় একপে
২০২৪ সালের অক্টোবরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একপের জন্য নতুন করে লাইসেন্সের আবেদন করে এটুআই। এটুআইয়ের হেড অব প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম বলেন, ‘একপে কার্যক্রমের শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করা হলেও দীর্ঘসময় পর্যন্ত এর কোনো সুস্পষ্ট আইনি কাঠামো ছিল না। ২০২৪-এর শেষদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদন দেয়। শুরুতে ছয় মাস মেয়াদি হলেও পরে দুই দফায় এর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যেই একপেকে একটি সরকারি কোম্পানি হিসেবে গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে লাইসেন্স গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য আমরা কাজ করছি।’
লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া প্রায় শেষের দিকে বলে জানান এটুআইয়ের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রফিক। তিনি বলেন, ‘লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ। বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইন মন্ত্রণালয় সম্মতি দিয়েছে। এখন অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্মতি দেবে। অর্থ মন্ত্রণালয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের মতামত চেয়েছে। খুব শিগগিরই অনুমোদন চলে আসবে।’
কোম্পানি হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রকল্পের উদ্যোগ হিসেবে একপের লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগ নেই। এমন প্রশ্নে মোহাম্মদ আব্দুর রফিক বলেন, ‘এখানে ভুল-বোঝাবুঝি আছে। এটুআই-এর প্রকল্পের মেয়াদ এ বছরই শেষ হচ্ছে। একপে এটুআই এজেন্সি তথা কোম্পানির আওতায় আসবে। এখন সব কার্যক্রম এজেন্সির নামেই করছি। তারা (বাংলাদেশ ব্যাংক) লাইসেন্স দেবে।’
আর্থিক খাতের প্রত্যাশা
একপে সংক্রান্ত আলোচনায় সামনে আসছে ডিজিটাল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান নগদের নাম। নগদও একসময় স্থায়ী লাইসেন্স ছাড়া কেবল অনুমোদন নবায়ন করে ব্যবসা চালিয়ে গেছে। তবে তাদের পেছনে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ছিল।
ব্র্যাক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক মঈনউদ্দীন প্রায় চার দশক ধরে আর্থিক খাতের সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, ‘লাইসেন্স না থাকলেও সরকারের একটি উদ্যোগ হিসেবে একপেকে আস্থায় রাখা যায়। অবশ্য নগদের ক্ষেত্রে দেখেছি যে, লাইসেন্স না নিয়ে শুধু অনুমোদন নিয়ে, তারপর সেটি নবায়ন করে করে কী করা হয়েছে। যদিও নগদের পেছনে আরেকটি ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান কাজটি করেছিল। একপের পেছনে এমন কোনো প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান না থাকলে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কোনো বিষয় নেই।’
প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সরকারি নীতিমালা অনুসরণেরও তাগিদ দেন ফারুক মঈনউদ্দীন। তিনি বলেন, ‘সরকারের তৈরি নীতিমালা যদি সরকারেরই একটি অংশ অনুসরণ না করে, তাহলে প্রাইভেট খাতের অন্যদের সামনে কী দৃষ্টান্ত দাঁড়ায়! তখন অন্যরাও একপের উদাহরণ দিয়ে লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করতে চাইবে। তাই একপে কমপ্লায়েন্ট (নিয়ম মেনে চলা প্রতিষ্ঠান) হবে, এটাই প্রত্যাশিত।’
বিষয় : একপে পেমেন্ট গেটওয়ে

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬
স্থায়ী লাইসেন্স না থাকলেও থেমে নেই কার্যক্রম। ছয় মাস মেয়াদি অস্থায়ী অনুমোদন বারবার নবায়ন করে পেমেন্ট গেটওয়ে সেবা চালিয়ে যাচ্ছে সরকারি উদ্যোগ ‘একপে’। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের অ্যাস্পায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রকল্পের এই উদ্যোগটি ২০১৯ সাল থেকে পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) হিসেবে কাজ করছে। অথচ আইন অনুযায়ী, এ ধরনের সেবা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পিএসও লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক।
২০১৯ সালের অক্টোবরে একপে চালু করে এটুআই। অর্থ পরিশোধকারী ও গ্রহণকারীর মধ্যে ‘ডিজিটাল সেতু’ হিসেবে কাজ করে এই প্ল্যাটফর্ম। একপের মাধ্যমে লেনদেনের জন্য সরাসরি ব্যাংকে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। নির্দিষ্ট কোনো মাধ্যমের ওপরও নির্ভর করতে হয় না। যে কোনো ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট থেকে সেবা নেওয়া যায়।
একচেটিয়া বাজার
বর্তমানে ৭৮টি সরকারি দপ্তরের অধীনে প্রায় ১৪৭টি সেবার বিপরীতে ফি নেওয়া হচ্ছে একপের মাধ্যমে। এর আওতায় রয়েছে পাসপোর্ট থেকে শুরু করে ইউটিলিটি বিল, ভূমি কর, ট্রেড লাইসেন্স ফি’র মতো নানা গুরুত্বপূর্ণ সেবা। বেসরকারি পেমেন্ট গেটওয়েগুলো মূল ফি’র সঙ্গে অতিরিক্ত চার্জ নিলেও একপে নেয় না। এটিই প্রতিষ্ঠানটিকে একচেটিয়া বাজার দখলের সুযোগ করে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি সেবার বিপরীতে নির্ধারিত ফি আইন দ্বারা সুরক্ষিত। বাড়তি চার্জ যোগ করতে হলে আইনি কাঠামো বদলাতে হবে। সেই পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত বেসরকারি পেমেন্ট অপারেটররা সরকারি দপ্তরে ঢুকতে পারছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফিনটেক খাতের এক পেশাজীবী বলেন, ‘আইনি জটিলতার সমাধান না করে একপেকে মাঝখানে আনা হয়েছে। একপে কোনো ফি চার্জ করে না। কিন্তু এই সুবিধায় তারা সরকারি সেবার ফি প্রদানের ক্ষেত্রে বাজারে মনোপলি করছে। অথচ সোনালী ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়েও অতিরিক্ত চার্জ যুক্ত করে। অর্থাৎ, লাইসেন্সবিহীন একটি উদ্যোগ কোনো ফি না নিয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের পেমেন্ট সিস্টেম দখল করে আছে। এতে অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি পেমেন্ট গেটওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটি প্রতিযোগিতা আইনের পরিপন্থি। আপনি তো বাজারে মনোপলি তৈরি করতে পারেন না। এভাবে ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি বাড়বে না।’
কেন লাইসেন্স মিলছে না
‘দ্য বাংলাদেশ পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেম রেগুলেশন-২০১৪’ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লাইসেন্স ছাড়া পিএসও সেবা দেওয়া যায় না। ‘পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেম অ্যাক্ট-২০২৪’-এও একই বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তারপরও ২০১৯ থেকে এখন পর্যন্ত লাইসেন্স ছাড়াই চলছে একপে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও একপের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত না হলে বা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় না থাকলে এ ধরনের উদ্যোগকে লাইসেন্স দেওয়ার সুযোগ নেই। একপে মূলত সরকারের একটি প্রকল্পের উদ্যোগ মাত্র, কোনো স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান নয়। মূলত এ কারণেই আটকে আছে লাইসেন্স।
২০২৩ সালের জুনে প্রথমবার আবেদন করে এই কারণে লাইসেন্স পায়নি একপে। বাংলাদেশ ব্যাংক লিখিতভাবে এশিয়া পোস্টকে জানিয়েছে, ‘কোম্পানি গঠন এবং লাইসেন্সের আবেদন না করা পর্যন্ত একপেকে পেমেন্ট সেবা অব্যাহত রাখতে এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) দেওয়া হয়েছে।’ এই এনওসির মেয়াদ ছয় মাস।
সেটেলমেন্টের জটিলতা কমছে
পেমেন্ট গেটওয়েতে অনেক সময় অর্থ ‘হোল্ড’ হয়ে থাকে। সফল ও হোল্ড হওয়া লেনদেন সেটেলমেন্টের জন্য থাকে ‘ট্রাস্ট কাম সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্ট।’ ২০২০ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছিল, লাইসেন্সবিহীন পিএসও ও পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের (পিএসপি) জন্য এই ধরনের অ্যাকাউন্ট না খুলতে। তবু একপের এই অ্যাকাউন্ট রয়েছে।
একপে কর্তৃপক্ষ বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে বিভিন্ন সময়ে লেনদেন হোল্ড হয়ে থাকত এবং সেটেলমেন্টে সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগত। তবে বর্তমানে প্রতিদিনের লেনদেন প্রতিদিনই সেটেলমেন্ট হচ্ছে।
সরকারি কোম্পানি হিসেবে লাইসেন্স চায় একপে
২০২৪ সালের অক্টোবরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একপের জন্য নতুন করে লাইসেন্সের আবেদন করে এটুআই। এটুআইয়ের হেড অব প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম বলেন, ‘একপে কার্যক্রমের শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করা হলেও দীর্ঘসময় পর্যন্ত এর কোনো সুস্পষ্ট আইনি কাঠামো ছিল না। ২০২৪-এর শেষদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদন দেয়। শুরুতে ছয় মাস মেয়াদি হলেও পরে দুই দফায় এর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যেই একপেকে একটি সরকারি কোম্পানি হিসেবে গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে লাইসেন্স গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য আমরা কাজ করছি।’
লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া প্রায় শেষের দিকে বলে জানান এটুআইয়ের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রফিক। তিনি বলেন, ‘লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ। বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইন মন্ত্রণালয় সম্মতি দিয়েছে। এখন অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্মতি দেবে। অর্থ মন্ত্রণালয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের মতামত চেয়েছে। খুব শিগগিরই অনুমোদন চলে আসবে।’
কোম্পানি হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রকল্পের উদ্যোগ হিসেবে একপের লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগ নেই। এমন প্রশ্নে মোহাম্মদ আব্দুর রফিক বলেন, ‘এখানে ভুল-বোঝাবুঝি আছে। এটুআই-এর প্রকল্পের মেয়াদ এ বছরই শেষ হচ্ছে। একপে এটুআই এজেন্সি তথা কোম্পানির আওতায় আসবে। এখন সব কার্যক্রম এজেন্সির নামেই করছি। তারা (বাংলাদেশ ব্যাংক) লাইসেন্স দেবে।’
আর্থিক খাতের প্রত্যাশা
একপে সংক্রান্ত আলোচনায় সামনে আসছে ডিজিটাল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান নগদের নাম। নগদও একসময় স্থায়ী লাইসেন্স ছাড়া কেবল অনুমোদন নবায়ন করে ব্যবসা চালিয়ে গেছে। তবে তাদের পেছনে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ছিল।
ব্র্যাক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক মঈনউদ্দীন প্রায় চার দশক ধরে আর্থিক খাতের সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, ‘লাইসেন্স না থাকলেও সরকারের একটি উদ্যোগ হিসেবে একপেকে আস্থায় রাখা যায়। অবশ্য নগদের ক্ষেত্রে দেখেছি যে, লাইসেন্স না নিয়ে শুধু অনুমোদন নিয়ে, তারপর সেটি নবায়ন করে করে কী করা হয়েছে। যদিও নগদের পেছনে আরেকটি ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান কাজটি করেছিল। একপের পেছনে এমন কোনো প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান না থাকলে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কোনো বিষয় নেই।’
প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সরকারি নীতিমালা অনুসরণেরও তাগিদ দেন ফারুক মঈনউদ্দীন। তিনি বলেন, ‘সরকারের তৈরি নীতিমালা যদি সরকারেরই একটি অংশ অনুসরণ না করে, তাহলে প্রাইভেট খাতের অন্যদের সামনে কী দৃষ্টান্ত দাঁড়ায়! তখন অন্যরাও একপের উদাহরণ দিয়ে লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করতে চাইবে। তাই একপে কমপ্লায়েন্ট (নিয়ম মেনে চলা প্রতিষ্ঠান) হবে, এটাই প্রত্যাশিত।’

আপনার মতামত লিখুন