২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ব্যাপক আন্দোলনের পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে দেশে এক ধরনের সাংবিধানিক অচলাবস্থা তৈরি হয়। নতুন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে বিলম্ব হওয়ায় রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ে এবং সামরিক শাসন কিংবা পাল্টা-উত্থানের শঙ্কা নিয়ে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়। এই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দাবি করেছেন, তার দৃঢ় অবস্থানের কারণেই দেশ অসাংবিধানিক পরিস্থিতির দিকে এগোয়নি।
সম্প্রতি বঙ্গভবনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, সামরিক শাসন জারি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব না থাকলেও তাকে জরুরি অবস্থা ঘোষণার জন্য বিভিন্ন দিক থেকে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। সংবিধান অনুযায়ী এ ক্ষমতা কেবল রাষ্ট্রপতির হাতে থাকায় তাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে তিনি পরিষ্কারভাবে জানান, সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে সামরিক আইন জারি বা ক্ষমতা গ্রহণের কোনো উদ্যোগ ছিল না। বরং সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার পক্ষেই অবস্থান নেয়। তাদের মত ছিল—সংবিধানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হওয়াই একমাত্র সমাধান।
রাষ্ট্রপতির দাবি, অস্থির পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দেশি-বিদেশি কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ভিন্ন পথে পরিস্থিতি নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে তিন বাহিনীর প্রধানরা জরুরি অবস্থা, সামরিক শাসন কিংবা বিকল্প ক্ষমতা কাঠামোর ধারণা নাকচ করে দেন। এমনকি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নির্বাচনের কথা বলাও ছিল গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরার অংশ, ক্ষমতা দখলের ইঙ্গিত নয়—এমনটাই মনে করেন তিনি।
ওয়ান-ইলেভেনের সময়কার অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে রাষ্ট্রপতি বলেন, অতীতে দীর্ঘায়িত জরুরি শাসনের নেতিবাচক প্রভাব দেশ দেখেছে। সেই ইতিহাস থেকেই শিক্ষা নিয়ে এবার সশস্ত্র বাহিনী ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নিজের ভূমিকার বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাকে কেন্দ্র করেই জরুরি অবস্থা ঘোষণার চাপ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই চাপের কাছে নতি স্বীকার করেননি। দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখার ফলেই দেশ অনিশ্চয়তা ও অসাংবিধানিক শাসনের ঝুঁকি এড়াতে পেরেছে বলে তার দাবি।
বিষয় : মো. সাহাবুদ্দিন

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ব্যাপক আন্দোলনের পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে দেশে এক ধরনের সাংবিধানিক অচলাবস্থা তৈরি হয়। নতুন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে বিলম্ব হওয়ায় রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ে এবং সামরিক শাসন কিংবা পাল্টা-উত্থানের শঙ্কা নিয়ে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়। এই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দাবি করেছেন, তার দৃঢ় অবস্থানের কারণেই দেশ অসাংবিধানিক পরিস্থিতির দিকে এগোয়নি।
সম্প্রতি বঙ্গভবনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, সামরিক শাসন জারি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব না থাকলেও তাকে জরুরি অবস্থা ঘোষণার জন্য বিভিন্ন দিক থেকে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। সংবিধান অনুযায়ী এ ক্ষমতা কেবল রাষ্ট্রপতির হাতে থাকায় তাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে তিনি পরিষ্কারভাবে জানান, সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে সামরিক আইন জারি বা ক্ষমতা গ্রহণের কোনো উদ্যোগ ছিল না। বরং সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার পক্ষেই অবস্থান নেয়। তাদের মত ছিল—সংবিধানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হওয়াই একমাত্র সমাধান।
রাষ্ট্রপতির দাবি, অস্থির পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দেশি-বিদেশি কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ভিন্ন পথে পরিস্থিতি নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে তিন বাহিনীর প্রধানরা জরুরি অবস্থা, সামরিক শাসন কিংবা বিকল্প ক্ষমতা কাঠামোর ধারণা নাকচ করে দেন। এমনকি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নির্বাচনের কথা বলাও ছিল গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরার অংশ, ক্ষমতা দখলের ইঙ্গিত নয়—এমনটাই মনে করেন তিনি।
ওয়ান-ইলেভেনের সময়কার অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে রাষ্ট্রপতি বলেন, অতীতে দীর্ঘায়িত জরুরি শাসনের নেতিবাচক প্রভাব দেশ দেখেছে। সেই ইতিহাস থেকেই শিক্ষা নিয়ে এবার সশস্ত্র বাহিনী ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নিজের ভূমিকার বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাকে কেন্দ্র করেই জরুরি অবস্থা ঘোষণার চাপ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই চাপের কাছে নতি স্বীকার করেননি। দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখার ফলেই দেশ অনিশ্চয়তা ও অসাংবিধানিক শাসনের ঝুঁকি এড়াতে পেরেছে বলে তার দাবি।

আপনার মতামত লিখুন