ঢাকা    বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

অতিরিক্ত তারল্য ও ঋণের দুর্বল চাহিদায় ব্যাংকগুলো ৫০–১০০ বেসিস পয়েন্ট সুদ কমিয়েছে, প্রকৃত রিটার্ন যাচ্ছে ঋণাত্মক পর্যায়ে।

কমছে ব্যাংক আমানতের সুদ, মূল্যস্ফীতির চাপে সঞ্চয়কারীরা



কমছে ব্যাংক আমানতের সুদ, মূল্যস্ফীতির চাপে সঞ্চয়কারীরা

আগস্টের শুরু থেকেই আমানতের সুদহার ৫০ থেকে ১০০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়েছে দেশের অধিকাংশ শীর্ষ বাণিজ্যিক ব্যাংক। এর ফলে আমানতের প্রকৃত রিটার্ন মূল্যস্ফীতির তুলনায় আরও পিছিয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত তারল্য ও বেসরকারি খাতে ঋণের দুর্বল চাহিদার কারণে নতুন আমানত সংগ্রহের প্রয়োজন কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

এই সুদ সমন্বয় এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক নীতিগত পরিবর্তনের পর। প্রায় দুই বছর পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯.৫০ শতাংশে নামিয়েছে এবং সুদহারের স্প্রেডের (আমানত ও ঋণের সুদহারে ব্যবধান) সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকগুলো ঋণের সুদের হারও কমিয়েছে।

এই পদক্ষেপের বড় মূল্য দিতে হচ্ছে সঞ্চয়কারীদের। জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯.১৬ শতাংশ। নতুন করে সুদহার কমানোর ফলে আমানতের মুনাফার হার কমে ৮.৫০ থেকে ৯ শতাংশে নেমে আসবে, যা জুলাইয়ে ৯ থেকে ১০.১৫ শতাংশের মধ্যে ছিল। ফলে সুদহার মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মেলাতে না পারায় আমানতকারীরা প্রকৃত অর্থে নেতিবাচক রিটার্নের মুখে পড়বেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ব্যাংকিং খাতসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, আমানতের প্রকৃত সুদহার দীর্ঘদিন ধরেই ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে। অফিশিয়াল তথ্য বলছে, মে মাসে আমানতের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১১.৪১ শতাংশ। ব্যাংকারদের মতে, এর পেছনে আগে দেওয়া তুলনামূলক আকর্ষণীয় সুদের হার বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি উচ্চ অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও আমানতের সুদ কমানো হলে দীর্ঘমেয়াদে মানুষ সঞ্চয়ে নিরুৎসাহিত হতে পারেন।

একটি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, 'উচ্চ আমানত সুদহার ভবিষ্যতে ব্যাংকের জন্য বড় দায় তৈরি করে। তাই ব্যাংকগুলো তহবিলের ব্যয় কমাতে সুদের হার কমাচ্ছে।' তিনি আরও বলেন, ট্রেজারি বিল ও সরকারি বন্ডের মুনাফা কমে যাওয়ায় ব্যাংকের মার্জিন সংকুচিত হয়েছে। ফলে এক বছর মেয়াদি আমানতে ১০ শতাংশ সুদ দেওয়ার আগ্রহও কমেছে।

 বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অভ ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক তৌফিক আহমদ চৌধুরী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তিনি টিবিএসকে বলেন, 'প্রশ্ন হচ্ছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক কেন নীতি সুদের হার কমাল? বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নয়। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে আমানতকারীরা প্রকৃত সুদ পাচ্ছেন না।'

যদিও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ধারাবাহিকভাবে কমছে, তবু ব্যাংকারদের মতে, আপাতত আমানতকারীরা বেশি মুনাফার চেয়ে অর্থের নিরাপত্তাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। ফলে আমানতের প্রবাহ এখনও স্থিতিশীল রয়েছে।

অতিরিক্ত তারল্য আমানতের প্রতি ব্যাংকগুলোর আগ্রহ কমাচ্ছে 

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মুনাফা কমে যাওয়া, পর্যাপ্ত তারল্য ও ভালো আমানত প্রবৃদ্ধির কারণে ব্যাংকগুলোর উচ্চ সুদে আমানত সংগ্রহের প্রয়োজন কমে গেছে।

'বর্তমানে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদের হার আগের তুলনায় কম। ব্যাংকগুলোর হাতে অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে এবং আমানত প্রবৃদ্ধিও ভালো। আমার মনে হয়, আমানতের সুদের হার মূল্যস্ফীতির নিচে নেমে যাবে,' বলেন তিনি।

মাহবুবুর রহমান জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক সুদহারের স্প্রেড ৪ শতাংশের মধ্যে রাখতে নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলে ব্যাংকগুলো ঋণ ও আমানত—উভয় ক্ষেত্রেই সুদের হার কমাচ্ছে, যদিও প্রথমে আমানতের সুদ সমন্বয় করা হচ্ছে।

পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, আগে তুলনামূলক বেশি সুদের কারণে ব্যাংকগুলো ভালো পরিমাণ আমানত সংগ্রহ করতে পেরেছিল।

তিনি আরও বলেন, 'আমানতকারীরা আগে আকর্ষণীয় সুদহার পেয়েছিলেন। ফলে আমানত প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক হয়েছে। কিন্তু এখন শীর্ষ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে এবং ঋণের চাহিদা দুর্বল। তাই ব্যাংকগুলো উচ্চ সুদ দেওয়া থেকে সরে এসেছে এবং ইতোমধ্যে আমানতের সুদের হার কমিয়ে দিয়েছে।'

আরেকটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, এখন আমানতকারীরা বেশি সুদের চেয়ে আর্থিকভাবে শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যাংককে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, ব্যাংকগুলো যদি তহবিলের ব্যয় কমাতে পারে, তবে তারা ট্রেজারি বিল ও সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ বাড়াবে। তবে তুলনামূলক দুর্বল ব্যাংকগুলোকে এখনও আমানত টানতে বেশি সুদ দিতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে ব্যাংক খাতের উদ্বৃত্ত তারল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২৭ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালের একই সময়ে ছিল ২ লাখ ৩৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

বিনিয়োগ ও ঋণের চাহিদা কমায় ব্যাংকের আয়ে চাপ

ট্রেজারি বিল-বন্ডের সুদ কমে যাওয়া এবং বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা দুর্বল থাকায় ব্যাংকগুলোর আয় এখন চাপের মুখে রয়েছে।

ব্যাংকারদের তথ্যমতে, বর্তমানে ট্রেজারি বিলের মুনাফা ৯ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। আর ট্রেজারি বন্ডে সুদ ১০ শতাংশের সামান্য বেশি, যেখানে আগে তা প্রায় ১২ শতাংশ ছিল। ফলে সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের আকর্ষণও আগের তুলনায় কমেছে।

এদিকে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের গতি শ্লথ থাকায় ব্যাংকঋণের চাহিদাও কমে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের মে মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশেরও নিচে ছিল। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে ঋণদান থেকে ব্যাংকগুলোর আয়ও কমে রয়েছে।

গত চার বছরে ব্যাংকগুলোর আয়ের কাঠামোতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২১ সালে দেশের ৫২টি প্রধান ব্যাংকের মোট আয় ছিল ৪০ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঋণ থেকে এসেছে ৪৭ শতাংশ, বিনিয়োগ থেকে ৩৪ শতাংশ ও কমিশন থেকে ১৯ শতাংশ।

কিন্তু ২০২৫ সালে চিত্র বদলে যায়। ওই বছর বিনিয়োগ আয়ই ব্যাংকগুলোর সবচেয়ে বড় আয়ের উৎসে পরিণত হয়, যা মোট আয়ের ৭৩ শতাংশ। অন্যদিকে নিট সুদ আয়ের অংশ নেমে আসে মাত্র ৬.৮ শতাংশে।

২০২৩ সালের শেষের দিক থেকে ট্রেজারি বিল ও সরকারি বন্ডের মুনাফা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো এসব খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছিল, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে এই রিটার্ন কিছুটা কমে এসেছে।

বিষয় : বাংলাদেশ ব্যাংক মূল্যস্ফীতি

আপনার মতামত লিখুন

বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬


কমছে ব্যাংক আমানতের সুদ, মূল্যস্ফীতির চাপে সঞ্চয়কারীরা

প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

আগস্টের শুরু থেকেই আমানতের সুদহার ৫০ থেকে ১০০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়েছে দেশের অধিকাংশ শীর্ষ বাণিজ্যিক ব্যাংক। এর ফলে আমানতের প্রকৃত রিটার্ন মূল্যস্ফীতির তুলনায় আরও পিছিয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত তারল্য ও বেসরকারি খাতে ঋণের দুর্বল চাহিদার কারণে নতুন আমানত সংগ্রহের প্রয়োজন কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

এই সুদ সমন্বয় এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক নীতিগত পরিবর্তনের পর। প্রায় দুই বছর পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯.৫০ শতাংশে নামিয়েছে এবং সুদহারের স্প্রেডের (আমানত ও ঋণের সুদহারে ব্যবধান) সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকগুলো ঋণের সুদের হারও কমিয়েছে।

এই পদক্ষেপের বড় মূল্য দিতে হচ্ছে সঞ্চয়কারীদের। জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯.১৬ শতাংশ। নতুন করে সুদহার কমানোর ফলে আমানতের মুনাফার হার কমে ৮.৫০ থেকে ৯ শতাংশে নেমে আসবে, যা জুলাইয়ে ৯ থেকে ১০.১৫ শতাংশের মধ্যে ছিল। ফলে সুদহার মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মেলাতে না পারায় আমানতকারীরা প্রকৃত অর্থে নেতিবাচক রিটার্নের মুখে পড়বেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ব্যাংকিং খাতসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, আমানতের প্রকৃত সুদহার দীর্ঘদিন ধরেই ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে। অফিশিয়াল তথ্য বলছে, মে মাসে আমানতের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১১.৪১ শতাংশ। ব্যাংকারদের মতে, এর পেছনে আগে দেওয়া তুলনামূলক আকর্ষণীয় সুদের হার বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি উচ্চ অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও আমানতের সুদ কমানো হলে দীর্ঘমেয়াদে মানুষ সঞ্চয়ে নিরুৎসাহিত হতে পারেন।

একটি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, 'উচ্চ আমানত সুদহার ভবিষ্যতে ব্যাংকের জন্য বড় দায় তৈরি করে। তাই ব্যাংকগুলো তহবিলের ব্যয় কমাতে সুদের হার কমাচ্ছে।' তিনি আরও বলেন, ট্রেজারি বিল ও সরকারি বন্ডের মুনাফা কমে যাওয়ায় ব্যাংকের মার্জিন সংকুচিত হয়েছে। ফলে এক বছর মেয়াদি আমানতে ১০ শতাংশ সুদ দেওয়ার আগ্রহও কমেছে।

 বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অভ ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক তৌফিক আহমদ চৌধুরী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তিনি টিবিএসকে বলেন, 'প্রশ্ন হচ্ছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক কেন নীতি সুদের হার কমাল? বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নয়। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে আমানতকারীরা প্রকৃত সুদ পাচ্ছেন না।'

যদিও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ধারাবাহিকভাবে কমছে, তবু ব্যাংকারদের মতে, আপাতত আমানতকারীরা বেশি মুনাফার চেয়ে অর্থের নিরাপত্তাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। ফলে আমানতের প্রবাহ এখনও স্থিতিশীল রয়েছে।

অতিরিক্ত তারল্য আমানতের প্রতি ব্যাংকগুলোর আগ্রহ কমাচ্ছে 

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মুনাফা কমে যাওয়া, পর্যাপ্ত তারল্য ও ভালো আমানত প্রবৃদ্ধির কারণে ব্যাংকগুলোর উচ্চ সুদে আমানত সংগ্রহের প্রয়োজন কমে গেছে।

'বর্তমানে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদের হার আগের তুলনায় কম। ব্যাংকগুলোর হাতে অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে এবং আমানত প্রবৃদ্ধিও ভালো। আমার মনে হয়, আমানতের সুদের হার মূল্যস্ফীতির নিচে নেমে যাবে,' বলেন তিনি।

মাহবুবুর রহমান জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক সুদহারের স্প্রেড ৪ শতাংশের মধ্যে রাখতে নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলে ব্যাংকগুলো ঋণ ও আমানত—উভয় ক্ষেত্রেই সুদের হার কমাচ্ছে, যদিও প্রথমে আমানতের সুদ সমন্বয় করা হচ্ছে।

পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, আগে তুলনামূলক বেশি সুদের কারণে ব্যাংকগুলো ভালো পরিমাণ আমানত সংগ্রহ করতে পেরেছিল।

তিনি আরও বলেন, 'আমানতকারীরা আগে আকর্ষণীয় সুদহার পেয়েছিলেন। ফলে আমানত প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক হয়েছে। কিন্তু এখন শীর্ষ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে এবং ঋণের চাহিদা দুর্বল। তাই ব্যাংকগুলো উচ্চ সুদ দেওয়া থেকে সরে এসেছে এবং ইতোমধ্যে আমানতের সুদের হার কমিয়ে দিয়েছে।'

আরেকটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, এখন আমানতকারীরা বেশি সুদের চেয়ে আর্থিকভাবে শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যাংককে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, ব্যাংকগুলো যদি তহবিলের ব্যয় কমাতে পারে, তবে তারা ট্রেজারি বিল ও সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ বাড়াবে। তবে তুলনামূলক দুর্বল ব্যাংকগুলোকে এখনও আমানত টানতে বেশি সুদ দিতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে ব্যাংক খাতের উদ্বৃত্ত তারল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২৭ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালের একই সময়ে ছিল ২ লাখ ৩৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

বিনিয়োগ ও ঋণের চাহিদা কমায় ব্যাংকের আয়ে চাপ

ট্রেজারি বিল-বন্ডের সুদ কমে যাওয়া এবং বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা দুর্বল থাকায় ব্যাংকগুলোর আয় এখন চাপের মুখে রয়েছে।

ব্যাংকারদের তথ্যমতে, বর্তমানে ট্রেজারি বিলের মুনাফা ৯ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। আর ট্রেজারি বন্ডে সুদ ১০ শতাংশের সামান্য বেশি, যেখানে আগে তা প্রায় ১২ শতাংশ ছিল। ফলে সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের আকর্ষণও আগের তুলনায় কমেছে।

এদিকে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের গতি শ্লথ থাকায় ব্যাংকঋণের চাহিদাও কমে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের মে মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশেরও নিচে ছিল। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে ঋণদান থেকে ব্যাংকগুলোর আয়ও কমে রয়েছে।

গত চার বছরে ব্যাংকগুলোর আয়ের কাঠামোতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২১ সালে দেশের ৫২টি প্রধান ব্যাংকের মোট আয় ছিল ৪০ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঋণ থেকে এসেছে ৪৭ শতাংশ, বিনিয়োগ থেকে ৩৪ শতাংশ ও কমিশন থেকে ১৯ শতাংশ।

কিন্তু ২০২৫ সালে চিত্র বদলে যায়। ওই বছর বিনিয়োগ আয়ই ব্যাংকগুলোর সবচেয়ে বড় আয়ের উৎসে পরিণত হয়, যা মোট আয়ের ৭৩ শতাংশ। অন্যদিকে নিট সুদ আয়ের অংশ নেমে আসে মাত্র ৬.৮ শতাংশে।

২০২৩ সালের শেষের দিক থেকে ট্রেজারি বিল ও সরকারি বন্ডের মুনাফা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো এসব খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছিল, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে এই রিটার্ন কিছুটা কমে এসেছে।


বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

সম্পাদক ও প্রকাশক : এম. আর. আলম
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ মহসিন পারভেজ

কপিরাইট © ২০২৬ বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত