ঢাকা    বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

১৯৫৮ সালে যাত্রা শুরু করা বিশ্বখ্যাত পিৎজা চেইনের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে নতুন বিনিয়োগকারী গোষ্ঠী।

৬৮ বছরের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়, বিক্রি হলো পিৎজা হাট



৬৮ বছরের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়, বিক্রি হলো পিৎজা হাট

বিশ্বের পিৎজা সাম্রাজ্যের অন্যতম প্রাচীন ও বিশ্বস্ত নাম ‘পিৎজা হাট’ হাতবদল হতে চলেছে। আমেরিকার কানসাস থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে পিৎজা লাভারদের প্রথম পছন্দ পিৎজা হাটকে ২.৭ বিলিয়ন ডলারে (৩২ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা) বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মূল প্রতিষ্ঠান ইয়াম! ব্র্যান্ডস।

করপোরেট বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি সাধারণ বিক্রি নয়, বরং আন্তর্জাতিক ফাস্ট-ফুড বাজারে ডমিনোস এবং ফুড ডেলিভারি অ্যাপগুলোর আগ্রাসী বিপণন কৌশলের কাছে পিৎজা হাটের ঐতিহ্যবাহী ‘ডাইন-ইন’ মডেলের এক বড় পরাজয়।

পিৎজা হাটের মূল শক্তি ছিল এর চমৎকার রেস্তোরাঁ আবহ এবং ফ্যামিলি ডাইনিং। কিন্তু কোভিড-পরবর্তী সময়ে বিশ্বজুড়ে গ্রাহকদের রেস্তোরাঁয় গিয়ে খাওয়ার অভ্যাস নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। এর বিপরীতে ডমিনোস তাদের শক্তিশালী হোম ডেলিভারি নেটওয়ার্ক এবং সস্তা ইকোনমি পিৎজা দিয়ে বাজার দখল করে নেয়।

বর্তমানের বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির বাজারে লিটল সিজার্স বা পাপা জনস যেভাবে অনবরত ডিসকাউন্ট অফার দিয়ে গেছে, পিৎজা হাট তাদের প্রিমিয়াম প্রাইসিং বা চড়া দামের কারণে সেই প্রতিযোগিতায় টিকতে পারেনি। আমেরিকার মতো মূল বাজারে তাদের বিক্রি তলানিতে ঠেকেছিল, যা সামগ্রিক করপোরেট আয়ে বড় ধাক্কা দেয়।

জোমাটো, সুইগি, ডোরড্যাশ বা উবার ইটস-এর মতো থার্ড-পার্টি ডেলিভারি অ্যাপগুলোর কারণে এখন গ্রাহকদের সামনে শত শত স্থানীয় ও খাঁটি ইতালিয়ান পিৎজার বিকল্প রয়েছে। ফলে পিৎজা হাটের সেই ঐতিহ্যবাহী আভিজাত্য অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। তাছাড়া, ছোট ছোট আঞ্চলিক পিৎজা চেইনগুলো স্থানীয় মানুষের রুচি অনুযায়ী দ্রুত মেন্যু পরিবর্তন করে পিৎজা হাটের মূল গ্রাহকদের নিজেদের দিকে টেনে নিয়েছে।

ইয়াম! ব্র্যান্ডস এই চুক্তি থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে তাদের বাকি দুটি সোনা ফলানো ব্র্যান্ড কেএফসি এবং ট্যাকো বেলের ওপর শতভাগ ফোকাস করতে চায়। বিশেষ করে বিশ্বব্যাপী কেএফসি-এর চিকেন বাকেট এবং ট্যাকো বেলের মেক্সিকান মেন্যুর চাহিদা পিৎজার তুলনায় অনেক বেশি স্থিতিশীল এবং লাভজনক। ধুঁকতে থাকা অংশটি বিক্রি করে তারা নিজেদের করপোরেট রিসোর্স বাঁচাতে চাইছে।

১৯৫৮ সালের এক ছোট শহরের স্বপ্ন আজ ২০২৬ সালে এসে এক নতুন করপোরেট রূপ ধারণ করল। প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্ম লংরেঞ্জ ক্যাপিটালের অধীনে পিৎজা হাট কি পারবে তাদের পুরনো গৌরব পুনরুদ্ধার করে ডমিনোসকে টেক্কা দিতে? নাকি এটি পিৎজা হাটের সোনালী যুগের শেষের শুরু, তা সময়ই বলে দেবে।

সূত্র: বিবিসি

বিষয় : পিৎজা হাট

আপনার মতামত লিখুন

বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬


৬৮ বছরের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়, বিক্রি হলো পিৎজা হাট

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬

featured Image

বিশ্বের পিৎজা সাম্রাজ্যের অন্যতম প্রাচীন ও বিশ্বস্ত নাম ‘পিৎজা হাট’ হাতবদল হতে চলেছে। আমেরিকার কানসাস থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে পিৎজা লাভারদের প্রথম পছন্দ পিৎজা হাটকে ২.৭ বিলিয়ন ডলারে (৩২ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা) বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মূল প্রতিষ্ঠান ইয়াম! ব্র্যান্ডস।

করপোরেট বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি সাধারণ বিক্রি নয়, বরং আন্তর্জাতিক ফাস্ট-ফুড বাজারে ডমিনোস এবং ফুড ডেলিভারি অ্যাপগুলোর আগ্রাসী বিপণন কৌশলের কাছে পিৎজা হাটের ঐতিহ্যবাহী ‘ডাইন-ইন’ মডেলের এক বড় পরাজয়।

পিৎজা হাটের মূল শক্তি ছিল এর চমৎকার রেস্তোরাঁ আবহ এবং ফ্যামিলি ডাইনিং। কিন্তু কোভিড-পরবর্তী সময়ে বিশ্বজুড়ে গ্রাহকদের রেস্তোরাঁয় গিয়ে খাওয়ার অভ্যাস নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। এর বিপরীতে ডমিনোস তাদের শক্তিশালী হোম ডেলিভারি নেটওয়ার্ক এবং সস্তা ইকোনমি পিৎজা দিয়ে বাজার দখল করে নেয়।

বর্তমানের বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির বাজারে লিটল সিজার্স বা পাপা জনস যেভাবে অনবরত ডিসকাউন্ট অফার দিয়ে গেছে, পিৎজা হাট তাদের প্রিমিয়াম প্রাইসিং বা চড়া দামের কারণে সেই প্রতিযোগিতায় টিকতে পারেনি। আমেরিকার মতো মূল বাজারে তাদের বিক্রি তলানিতে ঠেকেছিল, যা সামগ্রিক করপোরেট আয়ে বড় ধাক্কা দেয়।

জোমাটো, সুইগি, ডোরড্যাশ বা উবার ইটস-এর মতো থার্ড-পার্টি ডেলিভারি অ্যাপগুলোর কারণে এখন গ্রাহকদের সামনে শত শত স্থানীয় ও খাঁটি ইতালিয়ান পিৎজার বিকল্প রয়েছে। ফলে পিৎজা হাটের সেই ঐতিহ্যবাহী আভিজাত্য অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। তাছাড়া, ছোট ছোট আঞ্চলিক পিৎজা চেইনগুলো স্থানীয় মানুষের রুচি অনুযায়ী দ্রুত মেন্যু পরিবর্তন করে পিৎজা হাটের মূল গ্রাহকদের নিজেদের দিকে টেনে নিয়েছে।

ইয়াম! ব্র্যান্ডস এই চুক্তি থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে তাদের বাকি দুটি সোনা ফলানো ব্র্যান্ড কেএফসি এবং ট্যাকো বেলের ওপর শতভাগ ফোকাস করতে চায়। বিশেষ করে বিশ্বব্যাপী কেএফসি-এর চিকেন বাকেট এবং ট্যাকো বেলের মেক্সিকান মেন্যুর চাহিদা পিৎজার তুলনায় অনেক বেশি স্থিতিশীল এবং লাভজনক। ধুঁকতে থাকা অংশটি বিক্রি করে তারা নিজেদের করপোরেট রিসোর্স বাঁচাতে চাইছে।

১৯৫৮ সালের এক ছোট শহরের স্বপ্ন আজ ২০২৬ সালে এসে এক নতুন করপোরেট রূপ ধারণ করল। প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্ম লংরেঞ্জ ক্যাপিটালের অধীনে পিৎজা হাট কি পারবে তাদের পুরনো গৌরব পুনরুদ্ধার করে ডমিনোসকে টেক্কা দিতে? নাকি এটি পিৎজা হাটের সোনালী যুগের শেষের শুরু, তা সময়ই বলে দেবে।

সূত্র: বিবিসি


বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

সম্পাদক ও প্রকাশক : এম. আর. আলম
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ মহসিন পারভেজ

কপিরাইট © ২০২৬ বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত