ঢাকা    সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

দুই দশক ধরে ১৩ হাজার কিলোমিটার উড়ে প্রেমিকার কাছে ফিরত ক্লেপেতান

মালেনা ও ক্লেপেতান: ভালোবাসা ও অপেক্ষার এক বিরল গল্প



মালেনা ও ক্লেপেতান: ভালোবাসা ও অপেক্ষার এক বিরল গল্প
প্রতীকী ছবি

প্রাণিজগতের অসংখ্য বিস্ময়কর ঘটনার মধ্যে ক্রোয়েশিয়ার দুই সাদা সারস মালেনা ও ক্লেপেতানের গল্প আজও বিশ্বজুড়ে ভালোবাসা ও বিশ্বস্ততার এক অনন্য প্রতীক হিসেবে আলোচিত।

১৯৯৩ সালে ক্রোয়েশিয়ার একটি ছোট্ট গ্রাম ব্রডস্কি ভারোশে শিকারিদের গুলিতে গুরুতর আহত হয় একটি স্ত্রী সাদা সারস। পরে তার নাম রাখা হয় মালেনা। গুলিবিদ্ধ হয়ে একটি ডানা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সে চিরতরে উড়ার ক্ষমতা হারায়। অসহায় অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন অবসরপ্রাপ্ত পরিচর্যাকারী Stjepan Vokić। এরপর নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে সন্তানের মতো লালন-পালন করেন তিনি।

উড়তে না পারায় প্রতি বছর অন্য সারসদের মতো আফ্রিকায় যেতে পারত না মালেনা। শীতের সময় সে ভোকিচের বাড়ির ছাদেই অপেক্ষা করত। কিন্তু ২০০১ সালে তার জীবনে আসে এক নতুন অধ্যায়। একটি পুরুষ সারস এসে তার সঙ্গী হয়, যার নাম দেওয়া হয় ক্লেপেতান।

এরপর শুরু হয় এক অবিশ্বাস্য যাত্রার গল্প। প্রতি বছর শীত মৌসুমে ক্লেপেতান দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশ্যে উড়ে যেত এবং বসন্ত এলেই প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে আবার মালেনার কাছে ফিরে আসত। টানা প্রায় দুই দশক ধরে এই ঘটনা ঘটতে থাকে। ফলে ক্লেপেতান ও মালেনার গল্প শুধু ক্রোয়েশিয়াতেই নয়, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

মালেনা উড়তে না পারলেও তাদের সংসার থেমে থাকেনি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভোকিচের সহায়তায় ক্লেপেতান ও মালেনা একসঙ্গে মোট ৬৬টি ছানার জন্ম দেয়। প্রতি বছর ছানারা বড় হলে ক্লেপেতান তাদের নিয়ে দূর দক্ষিণে উড়ে যেত, আর মালেনা থেকে যেত নিজের পরিচিত বাসায়।

তবে তাদের সম্পর্কের পথ সবসময় মসৃণ ছিল না। ২০১৭ সালে ক্লেপেতান ফিরে এসে মালেনার বাসায় আরেকটি পুরুষ সারস দেখতে পায়। ঘটনাটি সে সময় ক্রোয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং প্রাণীদের আচরণ নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করে।

২০১৯ সালে ক্লেপেতান সময়মতো ফিরে না আসায় অনেকে ধারণা করেছিলেন সে আর বেঁচে নেই। কিন্তু পরের বছর আবারও সে ফিরে এসে সবাইকে বিস্মিত করে। সর্বশেষ ২০২১ সালেও ক্লেপেতান মালেনার কাছে ফিরে আসে।

একই বছরের ৭ জুলাই, প্রায় ২৮ বছর বয়সে মালেনার মৃত্যু হয়। দীর্ঘদিনের সঙ্গীর বিদায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারাও। পরে তাকে ভোকিচের বাড়ির কাছেই সমাহিত করা হয়। বিভিন্ন স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্লেপেতান এখনও জীবিত এবং পরবর্তীতে নতুন সঙ্গী নিয়ে জীবনযাপন করছে।

মালেনা ও ক্লেপেতানের গল্প আজ শুধু দুটি পাখির কাহিনি নয়; এটি বিশ্বস্ততা, অপেক্ষা এবং ভালোবাসার এক বিরল উদাহরণ, যা পৃথিবীর লাখো মানুষকে আবেগাপ্লুত করেছে।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


মালেনা ও ক্লেপেতান: ভালোবাসা ও অপেক্ষার এক বিরল গল্প

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

featured Image

প্রাণিজগতের অসংখ্য বিস্ময়কর ঘটনার মধ্যে ক্রোয়েশিয়ার দুই সাদা সারস মালেনা ও ক্লেপেতানের গল্প আজও বিশ্বজুড়ে ভালোবাসা ও বিশ্বস্ততার এক অনন্য প্রতীক হিসেবে আলোচিত।

১৯৯৩ সালে ক্রোয়েশিয়ার একটি ছোট্ট গ্রাম ব্রডস্কি ভারোশে শিকারিদের গুলিতে গুরুতর আহত হয় একটি স্ত্রী সাদা সারস। পরে তার নাম রাখা হয় মালেনা। গুলিবিদ্ধ হয়ে একটি ডানা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সে চিরতরে উড়ার ক্ষমতা হারায়। অসহায় অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন অবসরপ্রাপ্ত পরিচর্যাকারী Stjepan Vokić। এরপর নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে সন্তানের মতো লালন-পালন করেন তিনি।

উড়তে না পারায় প্রতি বছর অন্য সারসদের মতো আফ্রিকায় যেতে পারত না মালেনা। শীতের সময় সে ভোকিচের বাড়ির ছাদেই অপেক্ষা করত। কিন্তু ২০০১ সালে তার জীবনে আসে এক নতুন অধ্যায়। একটি পুরুষ সারস এসে তার সঙ্গী হয়, যার নাম দেওয়া হয় ক্লেপেতান।

এরপর শুরু হয় এক অবিশ্বাস্য যাত্রার গল্প। প্রতি বছর শীত মৌসুমে ক্লেপেতান দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশ্যে উড়ে যেত এবং বসন্ত এলেই প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে আবার মালেনার কাছে ফিরে আসত। টানা প্রায় দুই দশক ধরে এই ঘটনা ঘটতে থাকে। ফলে ক্লেপেতান ও মালেনার গল্প শুধু ক্রোয়েশিয়াতেই নয়, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

মালেনা উড়তে না পারলেও তাদের সংসার থেমে থাকেনি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভোকিচের সহায়তায় ক্লেপেতান ও মালেনা একসঙ্গে মোট ৬৬টি ছানার জন্ম দেয়। প্রতি বছর ছানারা বড় হলে ক্লেপেতান তাদের নিয়ে দূর দক্ষিণে উড়ে যেত, আর মালেনা থেকে যেত নিজের পরিচিত বাসায়।

তবে তাদের সম্পর্কের পথ সবসময় মসৃণ ছিল না। ২০১৭ সালে ক্লেপেতান ফিরে এসে মালেনার বাসায় আরেকটি পুরুষ সারস দেখতে পায়। ঘটনাটি সে সময় ক্রোয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং প্রাণীদের আচরণ নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করে।

২০১৯ সালে ক্লেপেতান সময়মতো ফিরে না আসায় অনেকে ধারণা করেছিলেন সে আর বেঁচে নেই। কিন্তু পরের বছর আবারও সে ফিরে এসে সবাইকে বিস্মিত করে। সর্বশেষ ২০২১ সালেও ক্লেপেতান মালেনার কাছে ফিরে আসে।

একই বছরের ৭ জুলাই, প্রায় ২৮ বছর বয়সে মালেনার মৃত্যু হয়। দীর্ঘদিনের সঙ্গীর বিদায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারাও। পরে তাকে ভোকিচের বাড়ির কাছেই সমাহিত করা হয়। বিভিন্ন স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্লেপেতান এখনও জীবিত এবং পরবর্তীতে নতুন সঙ্গী নিয়ে জীবনযাপন করছে।

মালেনা ও ক্লেপেতানের গল্প আজ শুধু দুটি পাখির কাহিনি নয়; এটি বিশ্বস্ততা, অপেক্ষা এবং ভালোবাসার এক বিরল উদাহরণ, যা পৃথিবীর লাখো মানুষকে আবেগাপ্লুত করেছে।


বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

সম্পাদক ও প্রকাশক : এম. আর. আলম
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ মহসিন পারভেজ

কপিরাইট © ২০২৬ বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত