ঢাকা    রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

সংবিধানের ২১(১) অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে নাগরিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে আবেদনটি দাখিল করা হয়েছে বলে জানান আইনজীবী।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ইস্যুতে রাষ্ট্রপতির কাছে সংসদ ভেঙে দেওয়ার আবেদন



বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ইস্যুতে রাষ্ট্রপতির কাছে সংসদ ভেঙে দেওয়ার আবেদন

রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো (Basic Structure) ভেঙে ফেলা এবং আইন করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ধ্বংস করে তা শাসন বিভাগের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগে বর্তমান জাতীয় সংসদকে অযোগ্য (Unfit) ঘোষণা করে তা ভেঙে দেওয়ার (Dissolution) প্রক্রিয়া শুরু করার আবেদন জানানো হয়েছে।

আজ রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নিকট এই আবেদন দাখিল করেন বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান (মামুন)।

আবেদনে আইনজীবী মাহমুদুল হাসান উল্লেখ করেন, সংবিধানের ২১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিক দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের অংশ হিসেবে তিনি দেশের সংবিধানের পবিত্রতা রক্ষা এবং রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা রক্ষার্থে এই আবেদন করেছেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের তিনটি মৌলিক কাঠামোর মধ্যে বিচার বিভাগ অন্যতম। সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ যেকোনো আইন প্রণয়ন বা সংশোধন করতে পারলেও এমন কোনো আইন করতে পারে না, যা রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

আবেদনে অভিযোগ করা হয়, “সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইন, ২০২৬” প্রণয়নের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ধ্বংস করে ফেলেছে।

আইনজীবী মাহমুদুল হাসান সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়কে বিচার বিভাগের ‘হৃৎপিণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “হৃৎপিণ্ড ব্যতীত যেমন মানবদেহ অচল, তেমনি সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় ছাড়া বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না।”

বিচার বিভাগের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আইন, সংসদ ও বিচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলে যাওয়ায় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বিচারক ও ম্যাজিস্ট্রেটদের ওপর প্রভাব বিস্তার, এমনকি ব্ল্যাকমেইল করে পছন্দের আসামিদের পক্ষে জামিন বা মামলার রায়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করার সুযোগ পাবেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।


আবেদনে আরও বলা হয়েছে, পৃথিবীর ইতিহাসে এরূপ জঘন্য উদাহরণ পাওয়া দুষ্কর যেখানে জাতীয় সংসদ সরাসরি আইন করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব করেছে।

এমনকি ইসরায়েলের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গণহত্যাকারী দেশ ইসরায়েলের সংসদও তাদের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ধ্বংস করেনি; যার ফলে তাদের বিচার বিভাগ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিচার করতে পারছে। অথচ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ আইন প্রণয়ন করে বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগের অধীনে নিয়ে পৃথিবীতে অত্যন্ত খারাপ ও জঘন্য নজীর সৃষ্টি করেছে।”

আবেদনের শেষ অংশে আইনজীবী মাহমুদুল হাসান বলেন, ক্ষমতার বহির্ভূতভাবে (Ultra vires) রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো ভেঙে দেওয়ার কারণে বর্তমান জাতীয় সংসদ অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় সংবিধানের পবিত্রতা রক্ষায় অবিলম্বে এই সংসদ ভেঙে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে তিনি রাষ্ট্রপতির নিকট বিনীত প্রার্থনা জানান।

বিষয় : মো. সাহাবুদ্দিন মৌলিক কাঠামো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা

আপনার মতামত লিখুন

বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬


বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ইস্যুতে রাষ্ট্রপতির কাছে সংসদ ভেঙে দেওয়ার আবেদন

প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো (Basic Structure) ভেঙে ফেলা এবং আইন করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ধ্বংস করে তা শাসন বিভাগের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগে বর্তমান জাতীয় সংসদকে অযোগ্য (Unfit) ঘোষণা করে তা ভেঙে দেওয়ার (Dissolution) প্রক্রিয়া শুরু করার আবেদন জানানো হয়েছে।

আজ রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নিকট এই আবেদন দাখিল করেন বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান (মামুন)।

আবেদনে আইনজীবী মাহমুদুল হাসান উল্লেখ করেন, সংবিধানের ২১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিক দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের অংশ হিসেবে তিনি দেশের সংবিধানের পবিত্রতা রক্ষা এবং রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা রক্ষার্থে এই আবেদন করেছেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের তিনটি মৌলিক কাঠামোর মধ্যে বিচার বিভাগ অন্যতম। সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ যেকোনো আইন প্রণয়ন বা সংশোধন করতে পারলেও এমন কোনো আইন করতে পারে না, যা রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

আবেদনে অভিযোগ করা হয়, “সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইন, ২০২৬” প্রণয়নের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ধ্বংস করে ফেলেছে।

আইনজীবী মাহমুদুল হাসান সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়কে বিচার বিভাগের ‘হৃৎপিণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “হৃৎপিণ্ড ব্যতীত যেমন মানবদেহ অচল, তেমনি সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় ছাড়া বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না।”

বিচার বিভাগের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আইন, সংসদ ও বিচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলে যাওয়ায় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বিচারক ও ম্যাজিস্ট্রেটদের ওপর প্রভাব বিস্তার, এমনকি ব্ল্যাকমেইল করে পছন্দের আসামিদের পক্ষে জামিন বা মামলার রায়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করার সুযোগ পাবেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।


আবেদনে আরও বলা হয়েছে, পৃথিবীর ইতিহাসে এরূপ জঘন্য উদাহরণ পাওয়া দুষ্কর যেখানে জাতীয় সংসদ সরাসরি আইন করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব করেছে।

এমনকি ইসরায়েলের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গণহত্যাকারী দেশ ইসরায়েলের সংসদও তাদের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ধ্বংস করেনি; যার ফলে তাদের বিচার বিভাগ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিচার করতে পারছে। অথচ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ আইন প্রণয়ন করে বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগের অধীনে নিয়ে পৃথিবীতে অত্যন্ত খারাপ ও জঘন্য নজীর সৃষ্টি করেছে।”

আবেদনের শেষ অংশে আইনজীবী মাহমুদুল হাসান বলেন, ক্ষমতার বহির্ভূতভাবে (Ultra vires) রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো ভেঙে দেওয়ার কারণে বর্তমান জাতীয় সংসদ অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় সংবিধানের পবিত্রতা রক্ষায় অবিলম্বে এই সংসদ ভেঙে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে তিনি রাষ্ট্রপতির নিকট বিনীত প্রার্থনা জানান।


বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

সম্পাদক ও প্রকাশক : এম. আর. আলম
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ মহসিন পারভেজ

কপিরাইট © ২০২৬ বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত