ঢাকা    রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

অবরোধ ভেঙে চীনা জাহাজের যাত্রা, কূটনৈতিক টানাপোড়েন তীব্র

ইরানি তেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীন মুখোমুখি



ইরানি তেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীন মুখোমুখি

পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে প্রথম দফার আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় আরব সাগরে নৌ অবরোধ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কিস্তু এই অবরোধ না মেনে সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়েছে চীনের মালিকানাধীন তেলবাহী ট্যংকার। এই ঘটনার পর ইরান থেকে চীনের তেল আমদানির পথ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলছেন, ইরান থেকে তেল আমদানি করতে পারবে না চীন। হরমুজ প্রণালিতে তারা ইরানি তেলবাহি ট্যাংকারগুলোকে বাধা দেবে। চীন অন্য তেল পেতে পারে, কিন্তু ইরানি তেল না। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ওয়াশিংটন ডিসিতে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বেসেন্ট।

ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হিসেবে পরিচিত চীনের সমালোচনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী। বেইজিংকে একটি ‘ভারসাম্যহীন বৈশ্বিক অংশীদার’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করে বলেন, চীন আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে তেল মজুত করছে। এছাড়া তারা নিজস্ব কিছু পণ্যের রপ্তানি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সীমিত রাখছে। এই বিষয়গুলো নিয়ে ইতোমধ্যে চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে আগামী মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের কথা রয়েছে। বর্তমান এই কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক উত্তেজনা সেই সফরকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে কিনা বা এই সফরকে কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত করবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে বেসেন্ট সরাসরি কোনো উত্তর দেননি।

তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, গত বছরের গ্রীষ্ম থেকে দুই দেশের সম্পর্কে শীর্ষ পর্যায়ে একটি স্থিতিশীলতা রয়েছে। বেইজিং সফরের মূল লক্ষ্যই হবে সেই স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। আমাদের বিশ্বাস, আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।

স্কট বেসেন্টের মন্তব্যের পর ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানি বন্দরগুলোতে প্রবেশকারী বা সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া যে কোনো দেশের জাহাজের ওপর এই অবরোধ সমানভাবে কার্যকর হবে। এতে কোনো দেশকেই বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে না।

এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের উপকূলীয় এলাকায় এই অবরোধ নিশ্চিত করতে ইউএস নৌবাহিনীর অত্যাধুনিক গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিটি ডেস্ট্রয়ারে ৩০০-এর বেশি উচ্চ প্রশিক্ষিত নাবিক মোতায়েন রয়েছে। তারা যে কোনো ধরনের আক্রমণাত্মক বা রক্ষণাত্মক নৌ-অভিযান পরিচালনায় সক্ষম। মূলত ইরানের অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তিকে চাপে রাখতে ওয়াশিংটনের এই কঠোর পদক্ষেপ।

যুক্তরাষ্ট্রের এই একতরফা অবরোধের তীব্র সমালোচনা করেছে বেইজিং। ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে সামরিক তৎপরতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা যেন বিশ্ব অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে না দেয়, সেদিকে নজর দেওয়া এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ।

মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) একটি চার দফা শান্তি প্রস্তাব পেশ করেছেন। তার এই প্রস্তাবে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা, আন্তর্জাতিক আইনের শাসন মেনে চলা এবং নিরাপত্তা ও উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চীন দাবি করেছে, তারা এই সংকট নিরসনে শুরু থেকে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে আসছে।

উল্লেখ্য, সোমবার (১৩ এপ্রিল) আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ ভঙ্গ করে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়েছে চীনের মালিকানাধীন একটি তেলবাহী জাহাজ। ফলে সোমবার (১৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধের কার্যকারিতা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

বিষয় : যুক্তরাষ্ট্র চীন

আপনার মতামত লিখুন

বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬


ইরানি তেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীন মুখোমুখি

প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে প্রথম দফার আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় আরব সাগরে নৌ অবরোধ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কিস্তু এই অবরোধ না মেনে সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়েছে চীনের মালিকানাধীন তেলবাহী ট্যংকার। এই ঘটনার পর ইরান থেকে চীনের তেল আমদানির পথ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলছেন, ইরান থেকে তেল আমদানি করতে পারবে না চীন। হরমুজ প্রণালিতে তারা ইরানি তেলবাহি ট্যাংকারগুলোকে বাধা দেবে। চীন অন্য তেল পেতে পারে, কিন্তু ইরানি তেল না। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ওয়াশিংটন ডিসিতে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বেসেন্ট।

ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হিসেবে পরিচিত চীনের সমালোচনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী। বেইজিংকে একটি ‘ভারসাম্যহীন বৈশ্বিক অংশীদার’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করে বলেন, চীন আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে তেল মজুত করছে। এছাড়া তারা নিজস্ব কিছু পণ্যের রপ্তানি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সীমিত রাখছে। এই বিষয়গুলো নিয়ে ইতোমধ্যে চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে আগামী মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের কথা রয়েছে। বর্তমান এই কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক উত্তেজনা সেই সফরকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে কিনা বা এই সফরকে কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত করবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে বেসেন্ট সরাসরি কোনো উত্তর দেননি।

তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, গত বছরের গ্রীষ্ম থেকে দুই দেশের সম্পর্কে শীর্ষ পর্যায়ে একটি স্থিতিশীলতা রয়েছে। বেইজিং সফরের মূল লক্ষ্যই হবে সেই স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। আমাদের বিশ্বাস, আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।

স্কট বেসেন্টের মন্তব্যের পর ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানি বন্দরগুলোতে প্রবেশকারী বা সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া যে কোনো দেশের জাহাজের ওপর এই অবরোধ সমানভাবে কার্যকর হবে। এতে কোনো দেশকেই বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে না।

এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের উপকূলীয় এলাকায় এই অবরোধ নিশ্চিত করতে ইউএস নৌবাহিনীর অত্যাধুনিক গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিটি ডেস্ট্রয়ারে ৩০০-এর বেশি উচ্চ প্রশিক্ষিত নাবিক মোতায়েন রয়েছে। তারা যে কোনো ধরনের আক্রমণাত্মক বা রক্ষণাত্মক নৌ-অভিযান পরিচালনায় সক্ষম। মূলত ইরানের অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তিকে চাপে রাখতে ওয়াশিংটনের এই কঠোর পদক্ষেপ।

যুক্তরাষ্ট্রের এই একতরফা অবরোধের তীব্র সমালোচনা করেছে বেইজিং। ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে সামরিক তৎপরতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা যেন বিশ্ব অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে না দেয়, সেদিকে নজর দেওয়া এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ।

মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) একটি চার দফা শান্তি প্রস্তাব পেশ করেছেন। তার এই প্রস্তাবে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা, আন্তর্জাতিক আইনের শাসন মেনে চলা এবং নিরাপত্তা ও উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চীন দাবি করেছে, তারা এই সংকট নিরসনে শুরু থেকে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে আসছে।

উল্লেখ্য, সোমবার (১৩ এপ্রিল) আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ ভঙ্গ করে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়েছে চীনের মালিকানাধীন একটি তেলবাহী জাহাজ। ফলে সোমবার (১৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধের কার্যকারিতা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।


বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

সম্পাদক ও প্রকাশক : এম. আর. আলম
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ মহসিন পারভেজ

কপিরাইট © ২০২৬ বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত