ঢাকা    রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

স্বচ্ছ তদন্তের স্বার্থে অডিট কমিটির চেয়ারম্যানসহ সব পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতির ঘোষণা

ম্যাচ ফিক্সিং অভিযোগ: বিসিবির সব দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন পরিচালক শামীম



ম্যাচ ফিক্সিং অভিযোগ: বিসিবির সব দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন পরিচালক শামীম
বিসিবি পরিচালক মোখলেসুর রহমান শামীম । ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক মোখলেসুর রহমান শামীমের বিরুদ্ধে বিপিএলে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর ক্রিকেট অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে তিনি বিসিবির সব দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বিপিএলের ১২তম আসরে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠে বিসিবির পরিচালক মোখলেসুর রহমান শামীমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ প্রকাশের পর শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিপিএলের ফাইনাল চলাকালেই তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক, অডিট কমিটির চেয়ারম্যানসহ সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে শামীম বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি দায়িত্বে থাকলে তদন্ত প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। সে কারণেই স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করতে তিনি স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়াচ্ছেন। তিনি স্পষ্ট করেন, এটি কোনোভাবেই দায় স্বীকার নয়; বরং দেশের ক্রিকেট ও প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষার দায়বদ্ধতার অংশ।

পোস্টে তিনি আরও লেখেন, দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত কষ্টদায়ক হলেও ব্যক্তিগত অবস্থানের চেয়ে দেশের ক্রিকেটের সুনামকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে—এমন বিশ্বাস থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ফ্রিল্যান্স ক্রীড়া সাংবাদিক রিয়াসাদ আজিম প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী ভিডিও প্রতিবেদনে শামীমের বিরুদ্ধে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ তোলা হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এবারের বিপিএলের সিলেট পর্বে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের একটি ম্যাচে গড়াপেটার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সিলেটের নূরজাহান হোটেলে ফিক্সিংয়ে জড়িতদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতো এবং পরিকল্পনা, অর্থ লেনদেন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয় করতেন শামীম নিজেই।

প্রতিবেদনে একাধিক ফোন কলের রেকর্ড প্রকাশ করা হয়, যেখানে কে কাকে কত টাকা দেবে, কোথায় থাকবে এবং আগাম অর্থ প্রদানের বিষয়েও আলোচনা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় নোয়াখালী এক্সপ্রেস দলের সঙ্গে যুক্ত তৌহিদ হোসেন ও ইমরান হাসানের বিরুদ্ধেও ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠে। বিসিবির নির্দেশে তাদের দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও অভিযোগ রয়েছে, শামীম অন্য মাধ্যম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার চালিয়ে যান।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ বিসিবি নির্বাচনে রাজশাহী বিভাগ থেকে কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে পরিচালক হন মোখলেসুর রহমান শামীম। পরবর্তীতে তাকে বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ অডিট কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। চলমান বিপিএলে নোয়াখালী এক্সপ্রেস লিগ পর্বে ষষ্ঠ স্থানে থেকে সবার আগে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ে।

এ ঘটনায় বিসিবির ভূমিকা, তদন্তের অগ্রগতি এবং দেশের ক্রিকেটে স্বচ্ছতা রক্ষায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়—তা নিয়ে এখন ক্রিকেটপ্রেমী ও সংশ্লিষ্ট মহলের নজর কেন্দ্রীভূত রয়েছে।

বিষয় : খেলা ক্রিকেট

আপনার মতামত লিখুন

বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬


ম্যাচ ফিক্সিং অভিযোগ: বিসিবির সব দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন পরিচালক শামীম

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক মোখলেসুর রহমান শামীমের বিরুদ্ধে বিপিএলে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর ক্রিকেট অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে তিনি বিসিবির সব দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বিপিএলের ১২তম আসরে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠে বিসিবির পরিচালক মোখলেসুর রহমান শামীমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ প্রকাশের পর শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিপিএলের ফাইনাল চলাকালেই তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক, অডিট কমিটির চেয়ারম্যানসহ সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে শামীম বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি দায়িত্বে থাকলে তদন্ত প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। সে কারণেই স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করতে তিনি স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়াচ্ছেন। তিনি স্পষ্ট করেন, এটি কোনোভাবেই দায় স্বীকার নয়; বরং দেশের ক্রিকেট ও প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষার দায়বদ্ধতার অংশ।

পোস্টে তিনি আরও লেখেন, দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত কষ্টদায়ক হলেও ব্যক্তিগত অবস্থানের চেয়ে দেশের ক্রিকেটের সুনামকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে—এমন বিশ্বাস থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ফ্রিল্যান্স ক্রীড়া সাংবাদিক রিয়াসাদ আজিম প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী ভিডিও প্রতিবেদনে শামীমের বিরুদ্ধে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ তোলা হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এবারের বিপিএলের সিলেট পর্বে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের একটি ম্যাচে গড়াপেটার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সিলেটের নূরজাহান হোটেলে ফিক্সিংয়ে জড়িতদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতো এবং পরিকল্পনা, অর্থ লেনদেন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয় করতেন শামীম নিজেই।

প্রতিবেদনে একাধিক ফোন কলের রেকর্ড প্রকাশ করা হয়, যেখানে কে কাকে কত টাকা দেবে, কোথায় থাকবে এবং আগাম অর্থ প্রদানের বিষয়েও আলোচনা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় নোয়াখালী এক্সপ্রেস দলের সঙ্গে যুক্ত তৌহিদ হোসেন ও ইমরান হাসানের বিরুদ্ধেও ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠে। বিসিবির নির্দেশে তাদের দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও অভিযোগ রয়েছে, শামীম অন্য মাধ্যম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার চালিয়ে যান।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ বিসিবি নির্বাচনে রাজশাহী বিভাগ থেকে কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে পরিচালক হন মোখলেসুর রহমান শামীম। পরবর্তীতে তাকে বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ অডিট কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। চলমান বিপিএলে নোয়াখালী এক্সপ্রেস লিগ পর্বে ষষ্ঠ স্থানে থেকে সবার আগে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ে।

এ ঘটনায় বিসিবির ভূমিকা, তদন্তের অগ্রগতি এবং দেশের ক্রিকেটে স্বচ্ছতা রক্ষায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়—তা নিয়ে এখন ক্রিকেটপ্রেমী ও সংশ্লিষ্ট মহলের নজর কেন্দ্রীভূত রয়েছে।


বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

সম্পাদক ও প্রকাশক : এম. আর. আলম
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ মহসিন পারভেজ

কপিরাইট © ২০২৬ বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত