ঢাকা    বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

নারীর অংশগ্রহণ কমে যাওয়ায় উদ্বেগ; সমঅধিকার নিশ্চিত করতে বিশেষ নীতিগত সহায়তার আহ্বান।

সরকারি চাকরিতে নারীদের জন্য কোটা পুনর্বহালের দাবি মহিলা পরিষদের



সরকারি চাকরিতে নারীদের জন্য কোটা পুনর্বহালের দাবি মহিলা পরিষদের

সরকারি চাকরিতে নারীদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সংগঠনটির মতে, নারীদের সমান সুযোগ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিশেষ নীতিগত সহায়তার অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে নারী কোটা পুনর্বহাল করা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম এবং সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু।

বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নিয়োগসংক্রান্ত তথ্য ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রশাসনে নারীদের প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। মহিলা পরিষদের মতে, বিষয়টি শুধু নিয়োগে নারীর সংখ্যা কমে যাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জও বটে।

সংগঠনটি বলেছে, দেশে উচ্চশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। একই সঙ্গে পারিবারিক দায়িত্বের অসম বণ্টন, সামাজিক বৈষম্য, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ এবং প্রচলিত বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে নারীরা প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে সমান অবস্থান অর্জন করতে পারেন না। এর প্রভাব প্রশাসনের উচ্চপর্যায়সহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্তরেও পড়ছে বলে তারা মনে করে।

এই পরিস্থিতিতে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে ইতিবাচক বৈষম্য বা বিশেষ সহায়ক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সংগঠনটির ভাষ্য, নারীদের জন্য সংরক্ষিত কোটা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি নীতি। জাতিসংঘের নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ (সিডও)-তেও এ ধরনের বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের স্বীকৃতি রয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ মনে করে, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে নারীদের জন্য সংরক্ষিত কোটা পুনর্বহাল করা জরুরি। তাদের মতে, নারীদের জন্য কোটা বহাল রাখা শুধু অধিকার রক্ষার বিষয় নয়; বরং এটি একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনেরও পূর্বশর্ত।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সরকারি চাকরি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা সমান ও ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব অর্জন না করা পর্যন্ত নারীদের জন্য কোটাসহ বিশেষ ইতিবাচক ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।

বিষয় : পিএসসি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সিডও

আপনার মতামত লিখুন

বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬


সরকারি চাকরিতে নারীদের জন্য কোটা পুনর্বহালের দাবি মহিলা পরিষদের

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

সরকারি চাকরিতে নারীদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সংগঠনটির মতে, নারীদের সমান সুযোগ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিশেষ নীতিগত সহায়তার অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে নারী কোটা পুনর্বহাল করা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম এবং সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু।

বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নিয়োগসংক্রান্ত তথ্য ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রশাসনে নারীদের প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। মহিলা পরিষদের মতে, বিষয়টি শুধু নিয়োগে নারীর সংখ্যা কমে যাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জও বটে।

সংগঠনটি বলেছে, দেশে উচ্চশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। একই সঙ্গে পারিবারিক দায়িত্বের অসম বণ্টন, সামাজিক বৈষম্য, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ এবং প্রচলিত বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে নারীরা প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে সমান অবস্থান অর্জন করতে পারেন না। এর প্রভাব প্রশাসনের উচ্চপর্যায়সহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্তরেও পড়ছে বলে তারা মনে করে।

এই পরিস্থিতিতে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে ইতিবাচক বৈষম্য বা বিশেষ সহায়ক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সংগঠনটির ভাষ্য, নারীদের জন্য সংরক্ষিত কোটা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি নীতি। জাতিসংঘের নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ (সিডও)-তেও এ ধরনের বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের স্বীকৃতি রয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ মনে করে, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে নারীদের জন্য সংরক্ষিত কোটা পুনর্বহাল করা জরুরি। তাদের মতে, নারীদের জন্য কোটা বহাল রাখা শুধু অধিকার রক্ষার বিষয় নয়; বরং এটি একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনেরও পূর্বশর্ত।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সরকারি চাকরি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা সমান ও ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব অর্জন না করা পর্যন্ত নারীদের জন্য কোটাসহ বিশেষ ইতিবাচক ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।


বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

সম্পাদক ও প্রকাশক : এম. আর. আলম
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ মহসিন পারভেজ

কপিরাইট © ২০২৬ বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত