ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

এনবিআরের নতুন বিধান কার্যকর; জুলাই-সেপ্টেম্বরে রিটার্নে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা ছাড়, দেরিতে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ বাধ্যতামূলক

দেরি নয়, আগেই দিন রিটার্ন—সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থাকছে ৫ শতাংশ করছাড়



দেরি নয়, আগেই দিন রিটার্ন—সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থাকছে ৫ শতাংশ করছাড়

আয়কর রিটার্ন দাখিলে নতুন প্রণোদনা ও জরিমানার ব্যবস্থা চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন বিধান অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের আগেই রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা করছাড় পাবেন। অন্যদিকে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে রিটার্ন দাখিল করলে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

নতুন নিয়মে অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক, অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা। যেটি কম, সেই পরিমাণ করছাড় মিলবে।

সে হিসাবে কোনো করদাতার পরিশোধযোগ্য কর এক লাখ টাকা হলে তিনি ৫ হাজার টাকা ছাড় পেয়ে ৯৫ হাজার টাকা পরিশোধ করবেন। একইভাবে ৫০ হাজার টাকা কর হলে ২ হাজার ৫০০ টাকা ছাড় পাবেন।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে সোয়া এক কোটির বেশি কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন)ধারী রয়েছেন। গত অর্থবছরে ৪৫ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন।

কোন সময়ে রিটার্ন দিলে কী হবে

নতুন বিধান অনুযায়ী, সারা বছরই আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। তবে রিটার্ন দাখিলের সময়ের ওপর নির্ভর করবে করছাড় বা অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের বিষয়টি।

জুলাই-সেপ্টেম্বর: পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা—যেটি কম, সেই পরিমাণ করছাড়।

অক্টোবর-ডিসেম্বর: কোনো করছাড় বা জরিমানা ছাড়াই নির্ধারিত কর পরিশোধ করতে হবে।

জানুয়ারি-মার্চ: পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ অথবা ৩ হাজার টাকা—যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে। তবে জরিমানার পরিমাণ ৩ হাজার টাকার বেশি হবে না।

এপ্রিল-জুন: পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকা—যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জরিমানার সর্বোচ্চ সীমা ৫ হাজার টাকা।

উদাহরণ হিসেবে, কোনো করদাতার পরিশোধযোগ্য কর এক লাখ টাকা হলে জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে তাকে এক লাখ দুই হাজার টাকা এবং এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে।

অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের নিয়ম

করদাতারা এনবিআরের ই-রিটার্ন পোর্টালে লগইন করে বার্ষিক আয়, বিনিয়োগ, ব্যয়, সম্পদ ও দায়-সংক্রান্ত তথ্য পূরণ করে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।

রিটার্ন দাখিলের পর ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে কর পরিশোধের সুযোগ থাকবে। রিটার্ন সফলভাবে জমা হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র ও আয়কর সনদও সংগ্রহ করা যাবে।

আগাম রিটার্ন দাখিলে করছাড় এবং বিলম্বে জরিমানার এই ব্যবস্থা করদাতাদের সময়মতো রিটার্ন জমা দিতে উৎসাহিত করবে বলে আশা করছে এনবিআর।

বিষয় : এনবিআর আয়কর রিটার্ন টিআইএন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড

আপনার মতামত লিখুন

বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬


দেরি নয়, আগেই দিন রিটার্ন—সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থাকছে ৫ শতাংশ করছাড়

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

আয়কর রিটার্ন দাখিলে নতুন প্রণোদনা ও জরিমানার ব্যবস্থা চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন বিধান অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের আগেই রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা করছাড় পাবেন। অন্যদিকে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে রিটার্ন দাখিল করলে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

নতুন নিয়মে অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক, অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা। যেটি কম, সেই পরিমাণ করছাড় মিলবে।

সে হিসাবে কোনো করদাতার পরিশোধযোগ্য কর এক লাখ টাকা হলে তিনি ৫ হাজার টাকা ছাড় পেয়ে ৯৫ হাজার টাকা পরিশোধ করবেন। একইভাবে ৫০ হাজার টাকা কর হলে ২ হাজার ৫০০ টাকা ছাড় পাবেন।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে সোয়া এক কোটির বেশি কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন)ধারী রয়েছেন। গত অর্থবছরে ৪৫ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন।

কোন সময়ে রিটার্ন দিলে কী হবে

নতুন বিধান অনুযায়ী, সারা বছরই আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। তবে রিটার্ন দাখিলের সময়ের ওপর নির্ভর করবে করছাড় বা অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের বিষয়টি।

জুলাই-সেপ্টেম্বর: পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা—যেটি কম, সেই পরিমাণ করছাড়।

অক্টোবর-ডিসেম্বর: কোনো করছাড় বা জরিমানা ছাড়াই নির্ধারিত কর পরিশোধ করতে হবে।

জানুয়ারি-মার্চ: পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ অথবা ৩ হাজার টাকা—যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে। তবে জরিমানার পরিমাণ ৩ হাজার টাকার বেশি হবে না।

এপ্রিল-জুন: পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকা—যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জরিমানার সর্বোচ্চ সীমা ৫ হাজার টাকা।

উদাহরণ হিসেবে, কোনো করদাতার পরিশোধযোগ্য কর এক লাখ টাকা হলে জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে তাকে এক লাখ দুই হাজার টাকা এবং এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে।

অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের নিয়ম

করদাতারা এনবিআরের ই-রিটার্ন পোর্টালে লগইন করে বার্ষিক আয়, বিনিয়োগ, ব্যয়, সম্পদ ও দায়-সংক্রান্ত তথ্য পূরণ করে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।

রিটার্ন দাখিলের পর ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে কর পরিশোধের সুযোগ থাকবে। রিটার্ন সফলভাবে জমা হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র ও আয়কর সনদও সংগ্রহ করা যাবে।

আগাম রিটার্ন দাখিলে করছাড় এবং বিলম্বে জরিমানার এই ব্যবস্থা করদাতাদের সময়মতো রিটার্ন জমা দিতে উৎসাহিত করবে বলে আশা করছে এনবিআর।


বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

সম্পাদক ও প্রকাশক : এম. আর. আলম
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ মহসিন পারভেজ

কপিরাইট © ২০২৬ বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত