বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা ও নির্বাহী বৈঠকে নেওয়া একটি সিদ্ধান্তকে ঘিরে দলটির অভ্যন্তরে নতুন করে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন আল-জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামি। তার দাবি, ওই সিদ্ধান্তের পর দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে দলীয় অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
বুধবার (২২ জুলাই) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা লেখেন জুলকারনাইন সায়ের সামি।
স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশন ও নির্বাহী বৈঠকে নেওয়া এক চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত ঘিরে নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়েছে। গত ২২ জুন ২০২৬ সালের ওই বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ১২ জুলাই দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত একটি চিঠি জেলা ও মহানগরী আমিরদের কাছে প্রেরণ করা হয়। সংযুক্ত ওই চিঠি ইতোমধ্যে দলীয় অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
তার শেয়ার করা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্যাডে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতি বলা হয়, গত ২২ জুন অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক গার্লস স্কুল, গার্লস কলেজ, গার্লস মাদ্রাসাসহ যে কোনো ধরণের গার্লস শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকুরীরত অবস্থায় কোনো পুরুষ জামায়াতে ইসলামীর সদস্য (রুকন) হতে পারবেন না। একইভাবে বয়েজ স্কুল, বয়েজ কলেজ, বয়েজ মাদ্রাসাসহ যে কোনো ধরণের বয়েজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকুরীরত অবস্থায় কোনো মহিলাও জামায়াতে ইসলামীর সদস্য (রুকন) হতে পারবেন না। বর্তমানে যে সব সদস্য (রুকন পুরুষ) গার্লস শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন এবং যে সব সদস্য (রুকন মহিলা) বয়েজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন তাদের সদস্যপদ (রুকনিয়াত) মুলতবি থাকবে।
‘পরবর্তীতে তারা নিজ নিজ কর্মস্থল পরিবর্তন করে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বাইরে যোগদান করলে তাদের সদস্যপদের (রুকনিয়াতের) মান বিবেচনা করে মুলতবি প্রত্যাহার করা হবে। উল্লেখ্য, সহশিক্ষা (কো-এডুকেশন) প্রতিষ্ঠান, অর্থ্যাৎ যেখানে ছেলে ও মেয়ে উভয় অধ্যয়ন করে, সে সব প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করার ক্ষেত্রে সদস্যপদ (রুকনিয়াত) লাভ বা বহাল থাকার ব্যাপারে কোনো বাধা নেই।’
তিনি আরও লেখেন, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মধ্য পর্যায়ের জামায়াত নেতা ওই চিঠি প্রসঙ্গে তাদের উৎকণ্ঠার কথা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এ ধরনের অস্বাভাবিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়াকে তারা ‘অমানবিক’ আচরণ বলে মনে করছেন। তাদের অভিযোগ, দেশজুড়ে হাজারো জামায়াত নেতা-কর্মী বর্তমানে গার্লস স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছেন। অন্যদিকে, অনেক নারী নেত্রী-কর্মী রয়েছেন, যারা বয়েজ (ছেলেদের) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াচ্ছেন। কেবল দলীয় আদর্শ ধারণ ও নির্দেশনা মেনে চলার জন্য যদি নিজেদের চাকরি ও জীবিকার পথ পরিবর্তন করতেই হয়, তাহলে তা সম্পূর্ণ অন্যায় ও অযৌক্তিক হবে।
স্ট্যাটাসে সামি দাবি করেন, ইতোমধ্যে যেসব পুরুষ সদস্য (রোকন) গার্লস স্কুল, গার্লস কলেজ অথবা মহিলা মাদ্রাসায় চাকরিরত রয়েছেন, তাদের সদস্যপদ (রুকোনিয়াত) মুলতবি ঘোষণা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অনেক জেলা শহরে নেতা-কর্মীদের ‘চাকরি ছাড়ুন, নাহয় দল ছাড়ুন’—এই দ্বিধাদ্বন্দ্বের মুখে ফেলা হচ্ছে। একই অবস্থা নারী সদস্যদেরও। যারা বয়েজ স্কুল, কলেজ বা মাদ্রাসায় কর্মরত, তারাও একই সংকটে পড়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।
তিনি আরও লেখেন, এরই প্রেক্ষিতে ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে এই ‘অমানবিক ও অযৌক্তিক’ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে কঠিন সময়েও দলের পাশে থাকা কর্মীদের এমন কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি করা মোটেই সমীচীন নয়। তারা আরও অভিযোগ করেন, দল একদিকে নারী জাগরণের বার্তা দিলেও অন্যদিকে এই দ্বিমুখী আচরণে তারা বিব্রত ও ক্ষুব্ধ। এখন পর্যন্ত কেবল দলীয় আদর্শের প্রতি সম্মান রেখে তারা বিষয়টি নিয়ে কোনো সংবাদ সম্মেলন করেননি। তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পর এমন সিদ্ধান্তের ফলে তাদের দলছুট হতে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও হতাশা প্রকাশ করেছেন।
স্ট্যাটাসের শেষ অংশে জুলকারনাইন সায়ের সামি লেখেন, চিঠিটির সত্যতা যাচাই করতে তিনি একাধিক শীর্ষ জামায়াত নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তবে তারা কেউ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। বরং তাকে দলটির প্রেস টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। যদিও নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্তত দুজন শীর্ষস্থানীয় নেতা চিঠিটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।
বিষয় : জুলকারনাইন সায়েরে

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা ও নির্বাহী বৈঠকে নেওয়া একটি সিদ্ধান্তকে ঘিরে দলটির অভ্যন্তরে নতুন করে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন আল-জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামি। তার দাবি, ওই সিদ্ধান্তের পর দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে দলীয় অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
বুধবার (২২ জুলাই) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা লেখেন জুলকারনাইন সায়ের সামি।
স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশন ও নির্বাহী বৈঠকে নেওয়া এক চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত ঘিরে নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়েছে। গত ২২ জুন ২০২৬ সালের ওই বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ১২ জুলাই দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত একটি চিঠি জেলা ও মহানগরী আমিরদের কাছে প্রেরণ করা হয়। সংযুক্ত ওই চিঠি ইতোমধ্যে দলীয় অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
তার শেয়ার করা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্যাডে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতি বলা হয়, গত ২২ জুন অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক গার্লস স্কুল, গার্লস কলেজ, গার্লস মাদ্রাসাসহ যে কোনো ধরণের গার্লস শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকুরীরত অবস্থায় কোনো পুরুষ জামায়াতে ইসলামীর সদস্য (রুকন) হতে পারবেন না। একইভাবে বয়েজ স্কুল, বয়েজ কলেজ, বয়েজ মাদ্রাসাসহ যে কোনো ধরণের বয়েজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকুরীরত অবস্থায় কোনো মহিলাও জামায়াতে ইসলামীর সদস্য (রুকন) হতে পারবেন না। বর্তমানে যে সব সদস্য (রুকন পুরুষ) গার্লস শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন এবং যে সব সদস্য (রুকন মহিলা) বয়েজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন তাদের সদস্যপদ (রুকনিয়াত) মুলতবি থাকবে।
‘পরবর্তীতে তারা নিজ নিজ কর্মস্থল পরিবর্তন করে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বাইরে যোগদান করলে তাদের সদস্যপদের (রুকনিয়াতের) মান বিবেচনা করে মুলতবি প্রত্যাহার করা হবে। উল্লেখ্য, সহশিক্ষা (কো-এডুকেশন) প্রতিষ্ঠান, অর্থ্যাৎ যেখানে ছেলে ও মেয়ে উভয় অধ্যয়ন করে, সে সব প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করার ক্ষেত্রে সদস্যপদ (রুকনিয়াত) লাভ বা বহাল থাকার ব্যাপারে কোনো বাধা নেই।’
তিনি আরও লেখেন, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মধ্য পর্যায়ের জামায়াত নেতা ওই চিঠি প্রসঙ্গে তাদের উৎকণ্ঠার কথা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এ ধরনের অস্বাভাবিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়াকে তারা ‘অমানবিক’ আচরণ বলে মনে করছেন। তাদের অভিযোগ, দেশজুড়ে হাজারো জামায়াত নেতা-কর্মী বর্তমানে গার্লস স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছেন। অন্যদিকে, অনেক নারী নেত্রী-কর্মী রয়েছেন, যারা বয়েজ (ছেলেদের) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াচ্ছেন। কেবল দলীয় আদর্শ ধারণ ও নির্দেশনা মেনে চলার জন্য যদি নিজেদের চাকরি ও জীবিকার পথ পরিবর্তন করতেই হয়, তাহলে তা সম্পূর্ণ অন্যায় ও অযৌক্তিক হবে।
স্ট্যাটাসে সামি দাবি করেন, ইতোমধ্যে যেসব পুরুষ সদস্য (রোকন) গার্লস স্কুল, গার্লস কলেজ অথবা মহিলা মাদ্রাসায় চাকরিরত রয়েছেন, তাদের সদস্যপদ (রুকোনিয়াত) মুলতবি ঘোষণা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অনেক জেলা শহরে নেতা-কর্মীদের ‘চাকরি ছাড়ুন, নাহয় দল ছাড়ুন’—এই দ্বিধাদ্বন্দ্বের মুখে ফেলা হচ্ছে। একই অবস্থা নারী সদস্যদেরও। যারা বয়েজ স্কুল, কলেজ বা মাদ্রাসায় কর্মরত, তারাও একই সংকটে পড়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।
তিনি আরও লেখেন, এরই প্রেক্ষিতে ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে এই ‘অমানবিক ও অযৌক্তিক’ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে কঠিন সময়েও দলের পাশে থাকা কর্মীদের এমন কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি করা মোটেই সমীচীন নয়। তারা আরও অভিযোগ করেন, দল একদিকে নারী জাগরণের বার্তা দিলেও অন্যদিকে এই দ্বিমুখী আচরণে তারা বিব্রত ও ক্ষুব্ধ। এখন পর্যন্ত কেবল দলীয় আদর্শের প্রতি সম্মান রেখে তারা বিষয়টি নিয়ে কোনো সংবাদ সম্মেলন করেননি। তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পর এমন সিদ্ধান্তের ফলে তাদের দলছুট হতে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও হতাশা প্রকাশ করেছেন।
স্ট্যাটাসের শেষ অংশে জুলকারনাইন সায়ের সামি লেখেন, চিঠিটির সত্যতা যাচাই করতে তিনি একাধিক শীর্ষ জামায়াত নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তবে তারা কেউ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। বরং তাকে দলটির প্রেস টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। যদিও নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্তত দুজন শীর্ষস্থানীয় নেতা চিঠিটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।

আপনার মতামত লিখুন