ঢাকা    রোববার, ২১ জুন ২০২৬
বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

একাধিক সংস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া প্রকল্প সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মত বিশেষজ্ঞদের

ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা



ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা

রাজধানীর যানজট কমাতে সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী, গাবতলী, মহাখালী ও ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনাল ঢাকার বাইরে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী গাবতলীকে হেমায়েতপুরে, সায়েদাবাদকে কাঁচপুরে, গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়াকে কেরানীগঞ্জে ও মহাখালীকে আপাতত পূর্বাচলে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। তবে নগর পরিকল্পনাবিদ ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উদ্যোগটি ইতিবাচক হলেও বাস্তবায়নের আগে অন্তত সাতটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। বিবিসি তাদের এক প্রতিবেদনে রোববার (২১ জুন) সেগুলো তুলে ধরেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ প্রকল্প বাস্তবায়নে সমন্বয় ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা। অতীতেও বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের পরিকল্পনা হয়েছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। সম্ভাব্যতা যাচাই, নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় ছাড়া নতুন উদ্যোগও দীর্ঘসূত্রতায় আটকে যেতে পারে।

দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ অবকাঠামো। নতুন স্থানে জমি অধিগ্রহণ, বাস রাখার ব্যবস্থা, যাত্রীদের অপেক্ষা, চলাচলের সুবিধাসহ আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণ ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, এসব স্থাপনাকে টার্মিনালের চেয়ে বাস ডিপো হিসেবে ব্যবহার করা বেশি কার্যকর হতে পারে।

তৃতীয়ত, ঢাকার বাইরে নামা যাত্রীরা কীভাবে সহজে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছাবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কার্যকর শাটল বা সংযোগ পরিবহন ব্যবস্থা না থাকলে নতুন টার্মিনাল যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়াতে পারে।

চতুর্থ চ্যালেঞ্জ হলো নতুন ধরনের যানজটের আশঙ্কা। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, দূরপাল্লার যাত্রীরা কাঁচপুর, হেমায়েতপুর বা কেরানীগঞ্জে নেমে রাজধানীতে প্রবেশের জন্য আলাদা পরিবহন ব্যবহার করবেন। এতে যানজট শহরের ভেতর থেকে সরে গিয়ে প্রবেশমুখে কেন্দ্রীভূত হতে পারে।

পঞ্চমত, বাস রুট রেশনালাইজেশন ও ই-টিকিটিং কার্যকর না হলে শুধু টার্মিনাল সরিয়ে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হবে। দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনার উদ্যোগ থাকলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

ষষ্ঠ চ্যালেঞ্জ পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়। টার্মিনাল স্থানান্তরের ফলে রুট পারমিট, আয় ও পরিচালনা কাঠামোয় পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সহযোগিতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

সবশেষে রয়েছে যাত্রী নিরাপত্তা ও সেবার প্রশ্ন। বিশেষ করে গভীর রাত বা ভোরে দূরবর্তী টার্মিনালে নামা যাত্রীদের নিরাপত্তা, পর্যাপ্ত অপেক্ষাকক্ষ, খাবার ও স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত না করা গেলে নতুন ব্যবস্থার প্রতি অনীহা তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস টার্মিনাল স্থানান্তর ঢাকার যানজট কমানোর পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তবে সঠিক পরিকল্পনা, সংযোগ পরিবহন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা ছাড়া এই উদ্যোগ কেবল ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার ঝুঁকি রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

রোববার, ২১ জুন ২০২৬


ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬

featured Image

রাজধানীর যানজট কমাতে সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী, গাবতলী, মহাখালী ও ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনাল ঢাকার বাইরে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী গাবতলীকে হেমায়েতপুরে, সায়েদাবাদকে কাঁচপুরে, গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়াকে কেরানীগঞ্জে ও মহাখালীকে আপাতত পূর্বাচলে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। তবে নগর পরিকল্পনাবিদ ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উদ্যোগটি ইতিবাচক হলেও বাস্তবায়নের আগে অন্তত সাতটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। বিবিসি তাদের এক প্রতিবেদনে রোববার (২১ জুন) সেগুলো তুলে ধরেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ প্রকল্প বাস্তবায়নে সমন্বয় ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা। অতীতেও বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের পরিকল্পনা হয়েছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। সম্ভাব্যতা যাচাই, নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় ছাড়া নতুন উদ্যোগও দীর্ঘসূত্রতায় আটকে যেতে পারে।

দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ অবকাঠামো। নতুন স্থানে জমি অধিগ্রহণ, বাস রাখার ব্যবস্থা, যাত্রীদের অপেক্ষা, চলাচলের সুবিধাসহ আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণ ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, এসব স্থাপনাকে টার্মিনালের চেয়ে বাস ডিপো হিসেবে ব্যবহার করা বেশি কার্যকর হতে পারে।

তৃতীয়ত, ঢাকার বাইরে নামা যাত্রীরা কীভাবে সহজে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছাবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কার্যকর শাটল বা সংযোগ পরিবহন ব্যবস্থা না থাকলে নতুন টার্মিনাল যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়াতে পারে।

চতুর্থ চ্যালেঞ্জ হলো নতুন ধরনের যানজটের আশঙ্কা। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, দূরপাল্লার যাত্রীরা কাঁচপুর, হেমায়েতপুর বা কেরানীগঞ্জে নেমে রাজধানীতে প্রবেশের জন্য আলাদা পরিবহন ব্যবহার করবেন। এতে যানজট শহরের ভেতর থেকে সরে গিয়ে প্রবেশমুখে কেন্দ্রীভূত হতে পারে।

পঞ্চমত, বাস রুট রেশনালাইজেশন ও ই-টিকিটিং কার্যকর না হলে শুধু টার্মিনাল সরিয়ে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হবে। দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনার উদ্যোগ থাকলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

ষষ্ঠ চ্যালেঞ্জ পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়। টার্মিনাল স্থানান্তরের ফলে রুট পারমিট, আয় ও পরিচালনা কাঠামোয় পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সহযোগিতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

সবশেষে রয়েছে যাত্রী নিরাপত্তা ও সেবার প্রশ্ন। বিশেষ করে গভীর রাত বা ভোরে দূরবর্তী টার্মিনালে নামা যাত্রীদের নিরাপত্তা, পর্যাপ্ত অপেক্ষাকক্ষ, খাবার ও স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত না করা গেলে নতুন ব্যবস্থার প্রতি অনীহা তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস টার্মিনাল স্থানান্তর ঢাকার যানজট কমানোর পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তবে সঠিক পরিকল্পনা, সংযোগ পরিবহন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা ছাড়া এই উদ্যোগ কেবল ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার ঝুঁকি রয়েছে।


বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

সম্পাদক ও প্রকাশক : এম. আর. আলম
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ মহসিন পারভেজ

কপিরাইট © ২০২৬ বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত