ঢাকা    মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬
বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

গ্রেপ্তার আসামির স্বীকারোক্তিতে উঠে এলো নির্মমতার বিস্তারিত বিবরণ

টাঙ্গাইলে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে ফের ধর্ষণ



টাঙ্গাইলে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে ফের ধর্ষণ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ষাটোর্ধ্ব এক নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং মৃতদেহকেও ধর্ষণের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে সাইফুল ইসলাম নামে এক আসামি। ঢাকার হাতিরঝিল থানা এলাকা থেকে শুক্রবার তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জবানবন্দিতে সাইফুল জানিয়েছে, ওই নারীকে দুবার ধর্ষণ করে হত্যার পর মৃতদেহকেও আরও একবার ধর্ষণ করেছে সে। সাইফুল ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের দেউলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা এবং ওই নারীর প্রতিবেশী ও নিকটাত্মীয়। ঘাটাইল থানার পুলিশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

স্বামীর মৃত্যুর পর উপজেলার দেউলাবাড়ি গ্রামে বসবাস করছিলেন ওই নারী। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলে সিলেটে বেসরকারি একটি কোম্পানিতে চাকরির সুবাদে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সেখানেই থাকেন এবং একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়েছে।

হঠাৎ করে দুদিন নিখোঁজ থাকার পর বাড়ির পাশে একটি পরিত্যক্ত কুয়ায় খড়কুটো দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় আনোয়ারার অর্ধনগ্ন লাশ গত বছর ২৬ আগস্ট উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং স্থানীয়দের মাঝে শোক, আতঙ্ক ও ক্ষোভের জন্ম দেয়। মামলাটির তদন্ত শুরু করে ঘাটাইল থানা পুলিশ। স্থানীয় তদন্ত, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা, বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে মামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সাইফুল ইসলামকে শনাক্ত করা হয়। এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর সাইফুল পালিয়ে যায় এবং তাকে আটকের জন্য বিভিন্ন জায়গায় অভিযান অব্যাহত রাখে পুলিশ। অবশেষে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে ঢাকার হাতিরঝিল থানা এলাকায় একটি অটোরিকশার গ্যারেজ থেকে সাইফুলকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

ঘাটাইল থানার এসআই রাজু আহমেদ কালবেলাকে বলেন, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সাইফুল পুলিশকে জানিয়েছে, গত বছর ২৩ আগস্ট সকালে ওই নারী তাকে গাছের ডাল কেটে দিতে বলেন। সে সময় গাছে উঠে সাইফুল ঘরের ভেতরে কাপড় পরিবর্তনের সময় অর্ধনগ্ন অবস্থায় ওই নারীকে দেখতে পেয়ে গাছ থেকে নিচে নেমে আসে।

সাইফুল পুলিশকে জানায়, গাছ থেকে নেমে সে তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে মাটিতে ফেলে ধর্ষণ করে। পরে রান্নাঘরে নিয়ে গিয়ে পুনরায় ধর্ষণ করে এবং বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে। পরবর্তীতে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মরদেহ গাছের ডালপালা দিয়ে ঢেকে রাখে এবং তার কানের দুল খুলে নিয়ে যায়।

সাইফুল আরও জানায়, রাত গভীর হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে ডালপালা সরিয়ে মৃতদেহকে আবার ধর্ষণ করে। এরপর মরদেহ টেনে-হিঁচড়ে দেউলাবাড়ি এলাকার একটি নির্জন বাঁশঝাড়-সংলগ্ন পরিত্যক্ত কূপের মধ্যে ফেলে দিয়ে মরদেহ কাপড় ও গাছের ডালপালা দিয়ে ঢেকে রাখে।

নারীর ছেলে ও এলাকাবাসী আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

ঘাটাইল থানার ওসি মাকছেদুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডে আসামি সাইফুলের সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেছে। সাইফুলকে টাঙ্গাইল আদালতে প্রেরণ করা হলে সেখানেও সে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬


টাঙ্গাইলে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে ফের ধর্ষণ

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

featured Image

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ষাটোর্ধ্ব এক নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং মৃতদেহকেও ধর্ষণের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে সাইফুল ইসলাম নামে এক আসামি। ঢাকার হাতিরঝিল থানা এলাকা থেকে শুক্রবার তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জবানবন্দিতে সাইফুল জানিয়েছে, ওই নারীকে দুবার ধর্ষণ করে হত্যার পর মৃতদেহকেও আরও একবার ধর্ষণ করেছে সে। সাইফুল ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের দেউলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা এবং ওই নারীর প্রতিবেশী ও নিকটাত্মীয়। ঘাটাইল থানার পুলিশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

স্বামীর মৃত্যুর পর উপজেলার দেউলাবাড়ি গ্রামে বসবাস করছিলেন ওই নারী। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলে সিলেটে বেসরকারি একটি কোম্পানিতে চাকরির সুবাদে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সেখানেই থাকেন এবং একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়েছে।

হঠাৎ করে দুদিন নিখোঁজ থাকার পর বাড়ির পাশে একটি পরিত্যক্ত কুয়ায় খড়কুটো দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় আনোয়ারার অর্ধনগ্ন লাশ গত বছর ২৬ আগস্ট উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং স্থানীয়দের মাঝে শোক, আতঙ্ক ও ক্ষোভের জন্ম দেয়। মামলাটির তদন্ত শুরু করে ঘাটাইল থানা পুলিশ। স্থানীয় তদন্ত, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা, বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে মামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সাইফুল ইসলামকে শনাক্ত করা হয়। এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর সাইফুল পালিয়ে যায় এবং তাকে আটকের জন্য বিভিন্ন জায়গায় অভিযান অব্যাহত রাখে পুলিশ। অবশেষে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে ঢাকার হাতিরঝিল থানা এলাকায় একটি অটোরিকশার গ্যারেজ থেকে সাইফুলকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

ঘাটাইল থানার এসআই রাজু আহমেদ কালবেলাকে বলেন, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সাইফুল পুলিশকে জানিয়েছে, গত বছর ২৩ আগস্ট সকালে ওই নারী তাকে গাছের ডাল কেটে দিতে বলেন। সে সময় গাছে উঠে সাইফুল ঘরের ভেতরে কাপড় পরিবর্তনের সময় অর্ধনগ্ন অবস্থায় ওই নারীকে দেখতে পেয়ে গাছ থেকে নিচে নেমে আসে।

সাইফুল পুলিশকে জানায়, গাছ থেকে নেমে সে তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে মাটিতে ফেলে ধর্ষণ করে। পরে রান্নাঘরে নিয়ে গিয়ে পুনরায় ধর্ষণ করে এবং বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে। পরবর্তীতে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মরদেহ গাছের ডালপালা দিয়ে ঢেকে রাখে এবং তার কানের দুল খুলে নিয়ে যায়।

সাইফুল আরও জানায়, রাত গভীর হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে ডালপালা সরিয়ে মৃতদেহকে আবার ধর্ষণ করে। এরপর মরদেহ টেনে-হিঁচড়ে দেউলাবাড়ি এলাকার একটি নির্জন বাঁশঝাড়-সংলগ্ন পরিত্যক্ত কূপের মধ্যে ফেলে দিয়ে মরদেহ কাপড় ও গাছের ডালপালা দিয়ে ঢেকে রাখে।

নারীর ছেলে ও এলাকাবাসী আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

ঘাটাইল থানার ওসি মাকছেদুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডে আসামি সাইফুলের সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেছে। সাইফুলকে টাঙ্গাইল আদালতে প্রেরণ করা হলে সেখানেও সে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।


বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

সম্পাদক ও প্রকাশক : এম. আর. আলম
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ মহসিন পারভেজ

কপিরাইট © ২০২৬ বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত