গরু কোরবানি ঈদুল আজহার বাধ্যতামূলক অংশ নয় এবং ইসলামে এটি ফরজ বিধানও নয় বলে মন্তব্য করেছেন কলকাতা হাইকোর্ট। একই সঙ্গে জনসম্মুখে বা উন্মুক্ত স্থানে গবাদিপশু জবাইয়ের ওপর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জারি করা নিষেধাজ্ঞাও বহাল রেখেছেন আদালত।
আসন্ন ঈদ উল আজহা উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পশু জবাই নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত নির্দেশনার ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে করা আবেদনের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (২১ মে) এ আদেশ দেন আদালত।
আইনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম 'লাইভ ল'-এর খবর অনুযায়ী, বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ জনপরিসরে গরু ও মহিষ জবাই করার ওপর এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।
রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট "মো. হানিফ কোরেশি ও অন্যান্য বনাম বিহার রাজ্য" মামলায় পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন যে গরু কোরবানি দেওয়া ঈদুল আজহা উৎসবের অংশ নয় এবং ইসলামের অধীনে এটি কোনো বাধ্যতামূলক ধর্মীয় বিধানও নয়।'
পশ্চিমবঙ্গের সদ্য নির্বাচিত শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার পশু জবাই নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্রসহ বেশ কয়েকজন ওই বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে পিটিশন দায়ের করেছিলেন।
পিটিশনকারীরা আসন্ন ঈদুল আজহায় ধর্মীয় আচার পালনের জন্য 'প্রাণী জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০'-এর ১২ ধারার অধীনে ছাড় চেয়েছিলেন।
তবে আদালত রায়ে বলেন, 'কয়েকজন পিটিশনকারীর চাওয়া এই ছাড়ের বিষয়ে ১৯৫০ সালের আইনের ১২ ধারার আওতায় রাজ্য সরকারকে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো।'
পশ্চিমবঙ্গে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার গত ১৩ মে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এতে বেশ কিছু নির্দেশিকা দেওয়া হয়। এর মধ্যে অন্যতম ছিল—কর্তৃপক্ষের দেওয়া 'ফিটনেস সার্টিফিকেট' বা সুস্থতার ছাড়পত্র ছাড়া কোনো প্রাণী জবাই করা যাবে না। এই নির্দেশনা অমান্য করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
সরকার ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানায় যে উন্মুক্ত জনপরিসরে কোনো প্রাণী জবাই করা 'কঠোরভাবে নিষিদ্ধ' থাকবে।
বিষয় : কলকাতা হাইকোর্ট

মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬
গরু কোরবানি ঈদুল আজহার বাধ্যতামূলক অংশ নয় এবং ইসলামে এটি ফরজ বিধানও নয় বলে মন্তব্য করেছেন কলকাতা হাইকোর্ট। একই সঙ্গে জনসম্মুখে বা উন্মুক্ত স্থানে গবাদিপশু জবাইয়ের ওপর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জারি করা নিষেধাজ্ঞাও বহাল রেখেছেন আদালত।
আসন্ন ঈদ উল আজহা উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পশু জবাই নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত নির্দেশনার ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে করা আবেদনের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (২১ মে) এ আদেশ দেন আদালত।
আইনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম 'লাইভ ল'-এর খবর অনুযায়ী, বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ জনপরিসরে গরু ও মহিষ জবাই করার ওপর এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।
রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট "মো. হানিফ কোরেশি ও অন্যান্য বনাম বিহার রাজ্য" মামলায় পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন যে গরু কোরবানি দেওয়া ঈদুল আজহা উৎসবের অংশ নয় এবং ইসলামের অধীনে এটি কোনো বাধ্যতামূলক ধর্মীয় বিধানও নয়।'
পশ্চিমবঙ্গের সদ্য নির্বাচিত শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার পশু জবাই নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্রসহ বেশ কয়েকজন ওই বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে পিটিশন দায়ের করেছিলেন।
পিটিশনকারীরা আসন্ন ঈদুল আজহায় ধর্মীয় আচার পালনের জন্য 'প্রাণী জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০'-এর ১২ ধারার অধীনে ছাড় চেয়েছিলেন।
তবে আদালত রায়ে বলেন, 'কয়েকজন পিটিশনকারীর চাওয়া এই ছাড়ের বিষয়ে ১৯৫০ সালের আইনের ১২ ধারার আওতায় রাজ্য সরকারকে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো।'
পশ্চিমবঙ্গে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার গত ১৩ মে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এতে বেশ কিছু নির্দেশিকা দেওয়া হয়। এর মধ্যে অন্যতম ছিল—কর্তৃপক্ষের দেওয়া 'ফিটনেস সার্টিফিকেট' বা সুস্থতার ছাড়পত্র ছাড়া কোনো প্রাণী জবাই করা যাবে না। এই নির্দেশনা অমান্য করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
সরকার ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানায় যে উন্মুক্ত জনপরিসরে কোনো প্রাণী জবাই করা 'কঠোরভাবে নিষিদ্ধ' থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন