ঢাকা    শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

হাইকোর্টে মমতার সরাসরি সওয়াল, নতুন কৌশলের ইঙ্গিত দেখছে রাজনৈতিক মহল

আইনজীবীর ভূমিকায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজনীতিতে নতুন বার্তা



আইনজীবীর ভূমিকায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজনীতিতে নতুন বার্তা

পশ্চিমবঙ্গের বদলে যাওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এবার এক নতুন ভূমিকায় দেখা গেল তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। রাজ্যের প্রধান বিরোধী নেত্রীর আসন থেকে সরাসরি আইনজীবীর পোশাকে কলকাতা হাইকোর্টে হাজির হলেন তিনি। ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস ও দলীয় কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে প্রধান বিচারপতির এজলাসে আইনি লড়াইয়ে নামলেন মমতা।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালেই কালীঘাটের বাসভবন থেকে আইনজীবীদের কালো কোট পরে বেরিয়ে পড়েন তিনি। সকাল দশটার কিছু পরে কলকাতা হাইকোর্টের মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করেন তৃণমূল নেত্রী। আদালত চত্বরে তাকে ঘিরে তৈরি হয় ব্যাপক কৌতূহল। বহু আইনজীবী, দলীয় কর্মী এবং সাধারণ মানুষ তাকে এক নজর দেখার জন্য ভিড় করেন। তবে কোনো মন্তব্য না করেই সোজা প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসের দিকে চলে যান তিনি। 

যে মামলাকে কেন্দ্র করে আদালতে পৌঁছেছেন মমতা, সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের একাধিক এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে। বহু কর্মী-সমর্থক ঘরছাড়া হয়েছেন, আক্রান্ত হয়েছেন স্থানীয় নেতারাও। সেই পরিস্থিতিতে রাজ্যে শান্তি ও আইনের শাসন ফেরাতে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

মামলাটি দায়ের করেছেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে এবং উত্তরপাড়া কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতে তৃণমূলের পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরতেই সরাসরি আইনজীবীর ভূমিকায় হাজির হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই উপস্থিতি শুধুমাত্র একটি মামলায় সওয়াল নয়, বরং স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই তৃণমূল অভিযোগ করে আসছে, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তাদের কর্মীদের ওপর হামলা হচ্ছে। সেই অভিযোগকে এবার আদালতের মঞ্চে তুলে ধরলেন মমতা নিজেই। ভবানীপুর কেন্দ্রেও পরাজয়ের পর বর্তমানে তিনি বিধায়ক নন। কিন্তু রাজনৈতিক ময়দান থেকে সরে না গিয়ে এবার আইনের লড়াইকেই হাতিয়ার করলেন তিনি।   

একসময় আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখনও তার আইনজীবী হিসেবে বৈধ অনুমতি রয়েছে বলেই জানা গেছে। এ কারণেই আদালতে সরাসরি সওয়াল করতে কোনো বাধা হয়নি।

আদালত চত্বরে মমতার উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। অনেকের মতে, বিরোধী নেত্রী হিসেবে এবার আরও আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিতে চলেছেন তিনি। ভোট পরবর্তী পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হয়েছে, আদালতে দাঁড়িয়ে সেই লড়াইকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল তৃণমূল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আদালতে কালো কোট পরে মমতার এই প্রত্যাবর্তন শুধু আইনি নয়, প্রতীকীও। ক্ষমতা হারানোর পরও তিনি যে সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক লড়াই চালিয়ে যেতে প্রস্তুত, এ উপস্থিতির মাধ্যমে সেই বার্তাই দিতে চাইলেন তৃণমূল নেত্রী।

বিষয় : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

আপনার মতামত লিখুন

বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬


আইনজীবীর ভূমিকায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজনীতিতে নতুন বার্তা

প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬

featured Image

পশ্চিমবঙ্গের বদলে যাওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এবার এক নতুন ভূমিকায় দেখা গেল তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। রাজ্যের প্রধান বিরোধী নেত্রীর আসন থেকে সরাসরি আইনজীবীর পোশাকে কলকাতা হাইকোর্টে হাজির হলেন তিনি। ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস ও দলীয় কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে প্রধান বিচারপতির এজলাসে আইনি লড়াইয়ে নামলেন মমতা।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালেই কালীঘাটের বাসভবন থেকে আইনজীবীদের কালো কোট পরে বেরিয়ে পড়েন তিনি। সকাল দশটার কিছু পরে কলকাতা হাইকোর্টের মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করেন তৃণমূল নেত্রী। আদালত চত্বরে তাকে ঘিরে তৈরি হয় ব্যাপক কৌতূহল। বহু আইনজীবী, দলীয় কর্মী এবং সাধারণ মানুষ তাকে এক নজর দেখার জন্য ভিড় করেন। তবে কোনো মন্তব্য না করেই সোজা প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসের দিকে চলে যান তিনি। 

যে মামলাকে কেন্দ্র করে আদালতে পৌঁছেছেন মমতা, সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের একাধিক এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে। বহু কর্মী-সমর্থক ঘরছাড়া হয়েছেন, আক্রান্ত হয়েছেন স্থানীয় নেতারাও। সেই পরিস্থিতিতে রাজ্যে শান্তি ও আইনের শাসন ফেরাতে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

মামলাটি দায়ের করেছেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে এবং উত্তরপাড়া কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতে তৃণমূলের পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরতেই সরাসরি আইনজীবীর ভূমিকায় হাজির হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই উপস্থিতি শুধুমাত্র একটি মামলায় সওয়াল নয়, বরং স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই তৃণমূল অভিযোগ করে আসছে, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তাদের কর্মীদের ওপর হামলা হচ্ছে। সেই অভিযোগকে এবার আদালতের মঞ্চে তুলে ধরলেন মমতা নিজেই। ভবানীপুর কেন্দ্রেও পরাজয়ের পর বর্তমানে তিনি বিধায়ক নন। কিন্তু রাজনৈতিক ময়দান থেকে সরে না গিয়ে এবার আইনের লড়াইকেই হাতিয়ার করলেন তিনি।   

একসময় আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখনও তার আইনজীবী হিসেবে বৈধ অনুমতি রয়েছে বলেই জানা গেছে। এ কারণেই আদালতে সরাসরি সওয়াল করতে কোনো বাধা হয়নি।

আদালত চত্বরে মমতার উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। অনেকের মতে, বিরোধী নেত্রী হিসেবে এবার আরও আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিতে চলেছেন তিনি। ভোট পরবর্তী পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হয়েছে, আদালতে দাঁড়িয়ে সেই লড়াইকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল তৃণমূল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আদালতে কালো কোট পরে মমতার এই প্রত্যাবর্তন শুধু আইনি নয়, প্রতীকীও। ক্ষমতা হারানোর পরও তিনি যে সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক লড়াই চালিয়ে যেতে প্রস্তুত, এ উপস্থিতির মাধ্যমে সেই বার্তাই দিতে চাইলেন তৃণমূল নেত্রী।


বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

সম্পাদক ও প্রকাশক : এম. আর. আলম
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ মহসিন পারভেজ

কপিরাইট © ২০২৬ বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত