ওমান উপসাগরে হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের পতাকাবাহী জাহাজ আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। এ ঘটনাকে জলদস্যুতা উল্লেখ করে শিগগিরই পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
হুমকি-ধামকির মধ্যেই রোববার (১৯ এপ্রিল) রাতে ওমান উপসাগরে ‘তুসকা’ নামের ইরানের পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। ট্রুথ সোশ্যালে নিজেই এ তথ্য জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। জাহাজটি মার্কিন নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করলে হামলা চালানো হয় বলে তিনি জানান।
পরে ইরানের আধা–সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজে প্রকাশিত ইরানের ‘হজরত খাতাম আল–আম্বিয়া’ সামরিক সদর দপ্তরের এক বিবৃতিতে জাহাজটি আটক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে।
ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও সমুদ্র জলদস্যুতার মাধ্যমে আগ্রাসী আমেরিকা ওমান সাগরের জলসীমায় ইরানের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। তারা জাহাজটিতে গুলি করেছে এবং তাদের বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী মেরিন সেনাকে ওই জাহাজের ডেকে নামিয়ে সেটির নেভিগেশন (দিকনির্দেশনা) ব্যবস্থা বিকল করে দিয়েছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা সতর্ক করে দিচ্ছি যে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী খুব শিগগিরই মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই সশস্ত্র জলদস্যুতার জবাব দেবে এবং এর চরম প্রতিশোধ নেবে।’
এদিকে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে চলছে ওয়াশিংটন-তেহরান দ্বিতীয় দফার বৈঠকের প্রস্তুতি। এরমধ্যেই শান্তি আলোচনায় অংশ নেবে না বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত দাবি-দাওয়া, অযৌক্তিক অনুরোধ, বারবার অবস্থান পরিবর্তন, পরষ্পরবিরোধী বিবৃতি আলোচনার অগ্রগতিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে চুক্তিতে সই না করলে আবারও ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু গুঁড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। রোববার নিজের ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন ন্যায্য এবং যৌক্তিক একটি চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাব ইরান গ্রহণ না করলে, পুরো দেশ গুঁড়িয়ে দেয়া হবে। ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তির চরম লঙ্ঘন করেছে বলেও অভিযোগ করেন ট্রাম্প।
অন্যদিকে ইরানের পারমাণবিক অধিকার কেড়ে নেয়ার কোনো অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। প্রশ্ন তোলেন, একটি জাতির অধিকার কেড়ে নেওয়ার তারা কে?
পেজেশকিয়ান বলেন, আমরা এই যুদ্ধের সূচনাকারী নই; কোথাও আক্রমণ করিনি। এমনকি এখনো কারও ওপর আক্রমণ চালানোর কোনো ইচ্ছাও নেই। আমরা আমাদের অধিকার চাইছি। কিন্তু তারা জোরজবরদস্তির মাধ্যমে একটি জাতি, একটি সমাজের অধিকার অস্বীকারের চেষ্টা করছে। তারা নাকি ঠিক করে দিয়েছে, আমরা এই অধিকার প্রয়োগ করতে পারবো না। কেন? কী অপরাধ করেছি আমরা? তোমরা কে, যে এমন সিদ্ধান্ত নেবে?

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬
ওমান উপসাগরে হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের পতাকাবাহী জাহাজ আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। এ ঘটনাকে জলদস্যুতা উল্লেখ করে শিগগিরই পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
হুমকি-ধামকির মধ্যেই রোববার (১৯ এপ্রিল) রাতে ওমান উপসাগরে ‘তুসকা’ নামের ইরানের পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। ট্রুথ সোশ্যালে নিজেই এ তথ্য জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। জাহাজটি মার্কিন নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করলে হামলা চালানো হয় বলে তিনি জানান।
পরে ইরানের আধা–সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজে প্রকাশিত ইরানের ‘হজরত খাতাম আল–আম্বিয়া’ সামরিক সদর দপ্তরের এক বিবৃতিতে জাহাজটি আটক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে।
ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও সমুদ্র জলদস্যুতার মাধ্যমে আগ্রাসী আমেরিকা ওমান সাগরের জলসীমায় ইরানের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। তারা জাহাজটিতে গুলি করেছে এবং তাদের বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী মেরিন সেনাকে ওই জাহাজের ডেকে নামিয়ে সেটির নেভিগেশন (দিকনির্দেশনা) ব্যবস্থা বিকল করে দিয়েছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা সতর্ক করে দিচ্ছি যে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী খুব শিগগিরই মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই সশস্ত্র জলদস্যুতার জবাব দেবে এবং এর চরম প্রতিশোধ নেবে।’
এদিকে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে চলছে ওয়াশিংটন-তেহরান দ্বিতীয় দফার বৈঠকের প্রস্তুতি। এরমধ্যেই শান্তি আলোচনায় অংশ নেবে না বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত দাবি-দাওয়া, অযৌক্তিক অনুরোধ, বারবার অবস্থান পরিবর্তন, পরষ্পরবিরোধী বিবৃতি আলোচনার অগ্রগতিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে চুক্তিতে সই না করলে আবারও ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু গুঁড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। রোববার নিজের ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন ন্যায্য এবং যৌক্তিক একটি চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাব ইরান গ্রহণ না করলে, পুরো দেশ গুঁড়িয়ে দেয়া হবে। ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তির চরম লঙ্ঘন করেছে বলেও অভিযোগ করেন ট্রাম্প।
অন্যদিকে ইরানের পারমাণবিক অধিকার কেড়ে নেয়ার কোনো অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। প্রশ্ন তোলেন, একটি জাতির অধিকার কেড়ে নেওয়ার তারা কে?
পেজেশকিয়ান বলেন, আমরা এই যুদ্ধের সূচনাকারী নই; কোথাও আক্রমণ করিনি। এমনকি এখনো কারও ওপর আক্রমণ চালানোর কোনো ইচ্ছাও নেই। আমরা আমাদের অধিকার চাইছি। কিন্তু তারা জোরজবরদস্তির মাধ্যমে একটি জাতি, একটি সমাজের অধিকার অস্বীকারের চেষ্টা করছে। তারা নাকি ঠিক করে দিয়েছে, আমরা এই অধিকার প্রয়োগ করতে পারবো না। কেন? কী অপরাধ করেছি আমরা? তোমরা কে, যে এমন সিদ্ধান্ত নেবে?

আপনার মতামত লিখুন