ঢাকা    রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

স্বচ্ছতা ও দ্রুততার প্রতিশ্রুতি জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর

৬ মাসে ৫ লাখ সরকারি চাকরি—বড় পরিকল্পনায় সরকার



৬ মাসে ৫ লাখ সরকারি চাকরি—বড় পরিকল্পনায় সরকার

নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী সরকারের বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থায় শূন্যপদে পাঁচ লাখ জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এসব নিয়োগ শেষ করতে চায় সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রমতে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-বিভাগ ও দপ্তর-সংস্থার শূন্যপদে নিয়োগের পরিকল্পনা ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পাঠিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে জানতে চেয়েছে আগামী ৬ মাসের মধ্যে পিএসসি কতজন জনবল নিয়োগ দেবে। আমরা আমাদের পুরো পরিকল্পনা জানিয়েছি। তবে কোন পদে কতজন নিয়োগ হবে, তা নথি দেখে বলতে হবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সম্প্রতি জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সব মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরিকল্পনা পেয়েছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী বলেন, এখন বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে ৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের চেষ্টা চলছে।

এদিকে পাঁচ লাখ নিয়োগের বিপরীতে সরকারের সাড়ে ৮ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্র। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) শেষ চার মাসে (মার্চ-জুন) লাগবে সাড়ে ৪ কোটি টাকা। আর আগামী অর্থবছরের (২০২৬-২৭) জুলাই ও আগস্টে লাগবে ৪ কোটি টাকা।

বড় এই নিয়োগে সরকার কত শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে—এ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া। তিনি বলেন, অনেক দপ্তর-সংস্থায় পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। কিন্তু নিয়োগবিধি তৈরি করা হয়নি। এ ছাড়া প্রবিধিমালা ও আইনি আরও কিছু সমস্যা রয়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ।

তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে পাঁচটি পদে রাজনৈতিক তদবির থাকে ১০টি। তখন নিয়োগ সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ জন্য রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না থাকলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সহজ হবে।

সব বর্তমানে ১৪ লাখ ৫০ হাজারের বেশি সরকারি চাকরিজীবী কর্মরত। এর বিপরীতে শূন্যপদ আছে চার লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ।

বর্তমানে সরকারি চাকরির প্রথম শ্রেণিতে কর্মরত এক লাখ ৯০ হাজার ৭৭৩ জন, এর মধ্যে শূন্যপদ ৬৮ হাজার ৮৮৪টি। দ্বিতীয় শ্রেণিতে কর্মরত দুই লাখ ৩৩ হাজার ৭২৬ জন, শূন্যপদ এক লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি। তৃতীয় শ্রেণিতে কর্মরত ছয় লাখ ১৩ হাজার ৮৩৫ জন, শূন্যপদ এক লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি। চতুর্থ শ্রেণিতে কর্মরত চার লাখ চার হাজার ৫৭৭ জন, শূন্যপদ এক লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি।

তথ্যসূত্র: সমকাল

বিষয় : পিএসসি অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম সরদার মো. সাখাওয়াত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

আপনার মতামত লিখুন

বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬


৬ মাসে ৫ লাখ সরকারি চাকরি—বড় পরিকল্পনায় সরকার

প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী সরকারের বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থায় শূন্যপদে পাঁচ লাখ জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এসব নিয়োগ শেষ করতে চায় সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রমতে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-বিভাগ ও দপ্তর-সংস্থার শূন্যপদে নিয়োগের পরিকল্পনা ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পাঠিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে জানতে চেয়েছে আগামী ৬ মাসের মধ্যে পিএসসি কতজন জনবল নিয়োগ দেবে। আমরা আমাদের পুরো পরিকল্পনা জানিয়েছি। তবে কোন পদে কতজন নিয়োগ হবে, তা নথি দেখে বলতে হবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সম্প্রতি জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সব মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরিকল্পনা পেয়েছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী বলেন, এখন বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে ৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের চেষ্টা চলছে।

এদিকে পাঁচ লাখ নিয়োগের বিপরীতে সরকারের সাড়ে ৮ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্র। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) শেষ চার মাসে (মার্চ-জুন) লাগবে সাড়ে ৪ কোটি টাকা। আর আগামী অর্থবছরের (২০২৬-২৭) জুলাই ও আগস্টে লাগবে ৪ কোটি টাকা।

বড় এই নিয়োগে সরকার কত শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে—এ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া। তিনি বলেন, অনেক দপ্তর-সংস্থায় পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। কিন্তু নিয়োগবিধি তৈরি করা হয়নি। এ ছাড়া প্রবিধিমালা ও আইনি আরও কিছু সমস্যা রয়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ।

তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে পাঁচটি পদে রাজনৈতিক তদবির থাকে ১০টি। তখন নিয়োগ সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ জন্য রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না থাকলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সহজ হবে।

সব বর্তমানে ১৪ লাখ ৫০ হাজারের বেশি সরকারি চাকরিজীবী কর্মরত। এর বিপরীতে শূন্যপদ আছে চার লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ।

বর্তমানে সরকারি চাকরির প্রথম শ্রেণিতে কর্মরত এক লাখ ৯০ হাজার ৭৭৩ জন, এর মধ্যে শূন্যপদ ৬৮ হাজার ৮৮৪টি। দ্বিতীয় শ্রেণিতে কর্মরত দুই লাখ ৩৩ হাজার ৭২৬ জন, শূন্যপদ এক লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি। তৃতীয় শ্রেণিতে কর্মরত ছয় লাখ ১৩ হাজার ৮৩৫ জন, শূন্যপদ এক লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি। চতুর্থ শ্রেণিতে কর্মরত চার লাখ চার হাজার ৫৭৭ জন, শূন্যপদ এক লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি।

তথ্যসূত্র: সমকাল


বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

সম্পাদক ও প্রকাশক : এম. আর. আলম
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ মহসিন পারভেজ

কপিরাইট © ২০২৬ বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত