ঢাকা    মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

প্রার্থীরা ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচার চালাতে পারবেন; বিধি ভঙ্গ করলে কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান

নির্বাচনী প্রচারণা শুরু: পোস্টার নিষিদ্ধ, আচরণবিধিতে কড়াকড়ি



নির্বাচনী প্রচারণা শুরু: পোস্টার নিষিদ্ধ, আচরণবিধিতে কড়াকড়ি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি। গতকাল বুধবার প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন করেছেন রিটার্নিং অফিসাররা। এর মধ্য দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচারণা। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, প্রার্থীরা আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত মোট ২০ দিন প্রচারণা চালাতে পারবেন।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রার্থীদের আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। আচরণবিধি অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে—এমন বক্তব্য, বিদ্বেষমূলক প্রচার, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য বা প্রতিপক্ষকে হেয় করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো প্রচার সামগ্রীতে পলিথিন ও রেকসিন ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন, যার প্রতিটির আকার সর্বোচ্চ ১৬ ফুট বাই ৯ ফুট নির্ধারণ করা হয়েছে।

নির্বাচনী আচরণবিধিতে ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এসব প্রচার সামগ্রী হতে হবে সাদা-কালো। ব্যানারের সর্বোচ্চ মাপ ১০ ফুট বাই ৪ ফুট, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল এ-ফোর সাইজের মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং ফেস্টুনের মাপ সর্বোচ্চ ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রচার সামগ্রীতে প্রার্থী ও প্রতীক ছাড়া অন্য কারও ছবি বা প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না। প্রার্থীর ছবি হতে হবে পোর্ট্রেট আকারে এবং ছবির আয়তন সর্বোচ্চ ৬০ সেন্টিমিটার বাই ৪৫ সেন্টিমিটার। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা কেবল দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করতে পারবেন।

জনসভা ও সমাবেশ আয়োজনের ক্ষেত্রে অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাতে হবে। জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে বা সড়ক-মহাসড়কে সভা-সমাবেশ করলে ব্যবস্থা নেবে ইসি। এছাড়া যানবাহন নিয়ে মিছিল, শোডাউন বা মশাল মিছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের সুযোগ থাকলেও প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট পেজ বা অ্যাকাউন্টের তথ্য আগেই রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। আচরণবিধিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর, মিথ্যা বা ঘৃণাত্মক তথ্য প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নারী, সংখ্যালঘু বা কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা দেড় লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গুরুতর ক্ষেত্রে প্রার্থিতা বাতিল করার ক্ষমতাও নির্বাচন কমিশনের হাতে রয়েছে।


বিষয় : জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আপনার মতামত লিখুন

বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬


নির্বাচনী প্রচারণা শুরু: পোস্টার নিষিদ্ধ, আচরণবিধিতে কড়াকড়ি

প্রকাশের তারিখ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি। গতকাল বুধবার প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন করেছেন রিটার্নিং অফিসাররা। এর মধ্য দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচারণা। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, প্রার্থীরা আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত মোট ২০ দিন প্রচারণা চালাতে পারবেন।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রার্থীদের আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। আচরণবিধি অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে—এমন বক্তব্য, বিদ্বেষমূলক প্রচার, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য বা প্রতিপক্ষকে হেয় করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো প্রচার সামগ্রীতে পলিথিন ও রেকসিন ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন, যার প্রতিটির আকার সর্বোচ্চ ১৬ ফুট বাই ৯ ফুট নির্ধারণ করা হয়েছে।

নির্বাচনী আচরণবিধিতে ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এসব প্রচার সামগ্রী হতে হবে সাদা-কালো। ব্যানারের সর্বোচ্চ মাপ ১০ ফুট বাই ৪ ফুট, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল এ-ফোর সাইজের মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং ফেস্টুনের মাপ সর্বোচ্চ ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রচার সামগ্রীতে প্রার্থী ও প্রতীক ছাড়া অন্য কারও ছবি বা প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না। প্রার্থীর ছবি হতে হবে পোর্ট্রেট আকারে এবং ছবির আয়তন সর্বোচ্চ ৬০ সেন্টিমিটার বাই ৪৫ সেন্টিমিটার। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা কেবল দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করতে পারবেন।

জনসভা ও সমাবেশ আয়োজনের ক্ষেত্রে অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাতে হবে। জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে বা সড়ক-মহাসড়কে সভা-সমাবেশ করলে ব্যবস্থা নেবে ইসি। এছাড়া যানবাহন নিয়ে মিছিল, শোডাউন বা মশাল মিছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের সুযোগ থাকলেও প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট পেজ বা অ্যাকাউন্টের তথ্য আগেই রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। আচরণবিধিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর, মিথ্যা বা ঘৃণাত্মক তথ্য প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নারী, সংখ্যালঘু বা কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা দেড় লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গুরুতর ক্ষেত্রে প্রার্থিতা বাতিল করার ক্ষমতাও নির্বাচন কমিশনের হাতে রয়েছে।



বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

সম্পাদক ও প্রকাশক : এম. আর. আলম
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ মহসিন পারভেজ

কপিরাইট © ২০২৬ বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত