মসজিদের খতিবসহ অন্যান্য জনবলের বেতন ও চাকরি–সংক্রান্ত বিধান নির্ধারণ করে দিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা–২০২৫’ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ নীতিমালা প্রণয়নে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি কাজ করেছে। চূড়ান্ত করার আগে দেশের প্রখ্যাত আলেম-ওলামা এবং ইমাম-খতিব সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক মতবিনিময় সভা করা হয়। এসব সভায় ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
নীতিমালায় খতিব ছাড়া মসজিদে কর্মরত অন্যান্য জনবলের জন্য গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। খতিবের বেতন চুক্তিপত্র অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। তবে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও পাঞ্জেগানা মসজিদে সামর্থ্য অনুযায়ী বেতন-ভাতা নির্ধারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, সিনিয়র পেশ ইমাম জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ৫ম গ্রেডে, পেশ ইমাম ৬ষ্ঠ গ্রেডে এবং ইমাম ৯ম গ্রেডে বেতন পাবেন। প্রধান মুয়াজ্জিন ১০ম, মুয়াজ্জিন ১১তম, প্রধান খাদেম ১৫তম এবং খাদেম ১৬তম গ্রেডে বেতন পাবেন।
এ ছাড়া মসজিদে কর্মরত জনবলের জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী সপরিবারে আবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ, মাসিক সঞ্চয় চালু এবং চাকরি শেষে এককালীন সম্মাননা প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে।
নীতিমালায় মসজিদ কর্মীদের ছুটির বিষয়টিও সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কমিটির অনুমোদনক্রমে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ চার দিন সাপ্তাহিক ছুটি, বছরে ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি এবং প্রতি ১২ দিনে এক দিন করে অর্জিত ছুটি ভোগ করা যাবে।
মসজিদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সাত সদস্যবিশিষ্ট বাছাই কমিটি গঠনের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। এই কমিটির সুপারিশ ছাড়া কোনো পদে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া যাবে না। নিয়োগপত্রে বেতন-ভাতা, দায়িত্ব ও চাকরি-সংক্রান্ত সব বিষয় উল্লেখ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
২০২৫ সালের নীতিমালায় মসজিদে নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। পাশাপাশি নারীদের জন্য শরিয়তসম্মত পৃথক নামাজের স্থান রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির আকার বাড়িয়ে ১৫ সদস্য করা হলেও মসজিদের আয়, আয়তন ও অবস্থান বিবেচনায় সদস্যসংখ্যা কমবেশি করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
চাকরিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অথবা সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। নীতিমালা বাস্তবায়নে জটিলতা নিরসনে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
এই নীতিমালা জারির মাধ্যমে ২০০৬ সালের মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা রহিত করা হয়েছে।

শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬
মসজিদের খতিবসহ অন্যান্য জনবলের বেতন ও চাকরি–সংক্রান্ত বিধান নির্ধারণ করে দিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা–২০২৫’ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ নীতিমালা প্রণয়নে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি কাজ করেছে। চূড়ান্ত করার আগে দেশের প্রখ্যাত আলেম-ওলামা এবং ইমাম-খতিব সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক মতবিনিময় সভা করা হয়। এসব সভায় ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
নীতিমালায় খতিব ছাড়া মসজিদে কর্মরত অন্যান্য জনবলের জন্য গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। খতিবের বেতন চুক্তিপত্র অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। তবে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও পাঞ্জেগানা মসজিদে সামর্থ্য অনুযায়ী বেতন-ভাতা নির্ধারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, সিনিয়র পেশ ইমাম জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ৫ম গ্রেডে, পেশ ইমাম ৬ষ্ঠ গ্রেডে এবং ইমাম ৯ম গ্রেডে বেতন পাবেন। প্রধান মুয়াজ্জিন ১০ম, মুয়াজ্জিন ১১তম, প্রধান খাদেম ১৫তম এবং খাদেম ১৬তম গ্রেডে বেতন পাবেন।
এ ছাড়া মসজিদে কর্মরত জনবলের জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী সপরিবারে আবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ, মাসিক সঞ্চয় চালু এবং চাকরি শেষে এককালীন সম্মাননা প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে।
নীতিমালায় মসজিদ কর্মীদের ছুটির বিষয়টিও সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কমিটির অনুমোদনক্রমে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ চার দিন সাপ্তাহিক ছুটি, বছরে ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি এবং প্রতি ১২ দিনে এক দিন করে অর্জিত ছুটি ভোগ করা যাবে।
মসজিদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সাত সদস্যবিশিষ্ট বাছাই কমিটি গঠনের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। এই কমিটির সুপারিশ ছাড়া কোনো পদে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া যাবে না। নিয়োগপত্রে বেতন-ভাতা, দায়িত্ব ও চাকরি-সংক্রান্ত সব বিষয় উল্লেখ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
২০২৫ সালের নীতিমালায় মসজিদে নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। পাশাপাশি নারীদের জন্য শরিয়তসম্মত পৃথক নামাজের স্থান রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির আকার বাড়িয়ে ১৫ সদস্য করা হলেও মসজিদের আয়, আয়তন ও অবস্থান বিবেচনায় সদস্যসংখ্যা কমবেশি করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
চাকরিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অথবা সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। নীতিমালা বাস্তবায়নে জটিলতা নিরসনে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
এই নীতিমালা জারির মাধ্যমে ২০০৬ সালের মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা রহিত করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন