ঢাকা    শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

২০তম ভিন্ন বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করে নতুন ইতিহাস গড়লেন মেসি, তবে ম্যাচের নায়ক হয়ে উঠল কেপ ভার্দের নির্ভীক লড়াইও।

মেসির রেকর্ড, কেপ ভার্দের প্রতিরোধ—নাটকীয় জয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা



মেসির রেকর্ড, কেপ ভার্দের প্রতিরোধ—নাটকীয় জয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনা ৩ : ২ কেপ ভার্দে! এই ফলাফলটাই বলে দিচ্ছে লড়াই হয়েছে সমানে সমানে! অথচ দুই দলের ব্যবধানটা ছিল আকাশ পাতাল! তাইতো রেফারির শেষ বাঁশিতে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচে আর্জেন্টিনা!

আজ কেপ ভার্দেকে ৩–২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

এমন ম্যাচই ফুটবলকে বারবার নতুন করে ভালোবাসতে শেখায়! যেখানে ছিল রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা, নাটকীয় মোড়, আবেগ আর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তা। বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে নবাগত কেপ ভার্দে এমন এক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, যা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকেও বারবার অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ৩-২ গোলের জয় নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির দল।

মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে আজ ম্যাচের শুরু থেকেই নিজেদের আধিপত্য দেখায় আর্জেন্টিনা। আক্রমণের ধারাবাহিকতায় প্রথমার্ধে লিওনেল মেসির গোলে এগিয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা। সেই গোলের সঙ্গে আরও কয়েকটি রেকর্ড যোগ হয় আর্জেন্টাইন অধিনায়কের সংগ্রহে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ২০টি ভিন্ন ম্যাচে গোল করা প্রথম ফুটবলার হন তিনি। টানা আটটি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার কীর্তিও গড়েন মেসি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা সাতে নিয়ে কিলিয়ান এমবাপেকেও ছাড়িয়ে যান তিনি।

কিন্তু গোল হজমের পরও একবারের জন্যও ভেঙে পড়েনি কেপ ভার্দে। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে আফ্রিকার দলটি। ৫৯তম মিনিটে লারোস দুয়ার্তের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে সমতায় ফেরে তারা। এরপর আর্জেন্টিনার একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে নির্ধারিত সময় ১-১ সমতায় শেষ করে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অঘটনের সম্ভাবনা জিইয়ে রাখে।

অতিরিক্ত সময়েও থামেনি নাটক। ৯৩তম মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের গোলে আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। তবে সেই আনন্দও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ১০৩তম মিনিটে লোপেজ কারবাল গোল করে আবারও ম্যাচে সমতা ফেরান। তখন মনে হচ্ছিল, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায়ের গল্প হয়তো লিখেই ফেলবে কেপ ভার্দে।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতার কাছে হার মানে রূপকথা। ১১১তম মিনিটে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর হেডে জয়সূচক গোল পায় আর্জেন্টিনা। বাকি সময় আর কোনো ভুল না করে ৩-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে তারা। এই জয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ মিসর।

স্কোরলাইন বলবে, জয় আর্জেন্টিনার। কিন্তু এই ম্যাচের আরেকটি গল্প লিখেছে কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে নেমে তারা শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি, বরং বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করতে বাধ্য করেছে। এর আগে গ্রুপ পর্বে স্পেন ও উরুগুয়ের বিপক্ষেও ড্র করেছিল দলটি।

শেষ পর্যন্ত বিদায় নিলেও সাহস, আত্মবিশ্বাস আর লড়াকু মানসিকতায় বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে গেল কেপ ভার্দে।

বিষয় : আর্জেন্টিনা মেসি এমবাপে কেপ ভার্দে

আপনার মতামত লিখুন

বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬


মেসির রেকর্ড, কেপ ভার্দের প্রতিরোধ—নাটকীয় জয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

আর্জেন্টিনা ৩ : ২ কেপ ভার্দে! এই ফলাফলটাই বলে দিচ্ছে লড়াই হয়েছে সমানে সমানে! অথচ দুই দলের ব্যবধানটা ছিল আকাশ পাতাল! তাইতো রেফারির শেষ বাঁশিতে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচে আর্জেন্টিনা!

আজ কেপ ভার্দেকে ৩–২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

এমন ম্যাচই ফুটবলকে বারবার নতুন করে ভালোবাসতে শেখায়! যেখানে ছিল রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা, নাটকীয় মোড়, আবেগ আর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তা। বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে নবাগত কেপ ভার্দে এমন এক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, যা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকেও বারবার অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ৩-২ গোলের জয় নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির দল।

মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে আজ ম্যাচের শুরু থেকেই নিজেদের আধিপত্য দেখায় আর্জেন্টিনা। আক্রমণের ধারাবাহিকতায় প্রথমার্ধে লিওনেল মেসির গোলে এগিয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা। সেই গোলের সঙ্গে আরও কয়েকটি রেকর্ড যোগ হয় আর্জেন্টাইন অধিনায়কের সংগ্রহে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ২০টি ভিন্ন ম্যাচে গোল করা প্রথম ফুটবলার হন তিনি। টানা আটটি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার কীর্তিও গড়েন মেসি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা সাতে নিয়ে কিলিয়ান এমবাপেকেও ছাড়িয়ে যান তিনি।

কিন্তু গোল হজমের পরও একবারের জন্যও ভেঙে পড়েনি কেপ ভার্দে। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে আফ্রিকার দলটি। ৫৯তম মিনিটে লারোস দুয়ার্তের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে সমতায় ফেরে তারা। এরপর আর্জেন্টিনার একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে নির্ধারিত সময় ১-১ সমতায় শেষ করে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অঘটনের সম্ভাবনা জিইয়ে রাখে।

অতিরিক্ত সময়েও থামেনি নাটক। ৯৩তম মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের গোলে আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। তবে সেই আনন্দও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ১০৩তম মিনিটে লোপেজ কারবাল গোল করে আবারও ম্যাচে সমতা ফেরান। তখন মনে হচ্ছিল, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায়ের গল্প হয়তো লিখেই ফেলবে কেপ ভার্দে।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতার কাছে হার মানে রূপকথা। ১১১তম মিনিটে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর হেডে জয়সূচক গোল পায় আর্জেন্টিনা। বাকি সময় আর কোনো ভুল না করে ৩-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে তারা। এই জয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ মিসর।

স্কোরলাইন বলবে, জয় আর্জেন্টিনার। কিন্তু এই ম্যাচের আরেকটি গল্প লিখেছে কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে নেমে তারা শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি, বরং বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করতে বাধ্য করেছে। এর আগে গ্রুপ পর্বে স্পেন ও উরুগুয়ের বিপক্ষেও ড্র করেছিল দলটি।

শেষ পর্যন্ত বিদায় নিলেও সাহস, আত্মবিশ্বাস আর লড়াকু মানসিকতায় বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে গেল কেপ ভার্দে।



বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

সম্পাদক ও প্রকাশক : এম. আর. আলম
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ মহসিন পারভেজ

কপিরাইট © ২০২৬ বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত