শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ফয়সাল করিম ও আলমগীরকে ১১ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দিল্লির পাতিয়ালা হাউস আদালতে তোলা হলে জিজ্ঞাসাবাদের স্বার্থে তাদেরকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় কেন্দ্রীয় এই সংস্থা। বিচারক সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।
এর আগে, গত ২৩ মার্চ অভিযুক্তদের দিল্লিতে নিয়ে যায় এনআইএ। যদিও ২ এপ্রিল তাদের কলকাতার বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলার কথা ছিল, সেক্ষেত্রে ভার্চুয়ালি আদালতে পেশ করা হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।
কীভাবে এগোল মামলা
২২ মার্চ এনআইএ কলকাতার বিধাননগর আদালতে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানায়। প্রথমে বিচারক তাতে সম্মতি দিলেও, পরদিন সংস্থা নতুন পিটিশন দিয়ে জানায়—দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। এরপরই অভিযুক্তদের দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয় আদালত।
উল্লেখ্য, ২২ মার্চ বিচারক নিশান মজুমদার ফয়সাল ও আলমগীরকে ১২ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেন এবং তাদের দমদম সেন্ট্রাল জেলে পাঠানো হয়। সেখান থেকেই পরদিন দিল্লি নিয়ে যাওয়া হয়।
গুরুতর ধারায় মামলা
দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে Unlawful Activities (Prevention) Act-এর ১৬ ও ১৮ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ধারাগুলির আওতায় অভিযোগ—সন্ত্রাসী কার্যকলাপের পরিকল্পনা, সহায়তা বা প্ররোচনা। দোষ প্রমাণিত হলে ন্যূনতম ৫ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
তবে এই মামলায় ইউএপিএ প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণত অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত ঘটনায় ফরেনার্স অ্যাক্ট প্রয়োগ করা হলেও, এই ক্ষেত্রে তা করা হয়নি।
অভিযুক্তের দাবি
গত রবিবার আদালত চত্বরে ফয়সাল দাবি করে, সে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত নয় এবং তাকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তার বক্তব্য, সিসিটিভিতে তাকে দেখা গেলেও গুলি চালানোর কোনও প্রমাণ নেই। এমনকি ঘটনার সময় সে বাংলাদেশে ছিল বলেও দাবি করে। তবে ভারতে আসার কারণ সম্পর্কে সে স্পষ্ট কিছু জানায়নি।
গ্রেফতার থেকে রিমান্ড—টাইমলাইন
৭ মার্চ: উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ থেকে গ্রেফতার
৮ মার্চ: ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ড
২২ মার্চ: রিমান্ড শেষে আদালতে তোলা
২৩ মার্চ: এনআইএর আবেদনে দিল্লি স্থানান্তর
২৬ মার্চ: ১১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
অন্য অভিযুক্তের অবস্থান
এই মামলার আরেক অভিযুক্ত, বাংলাদেশি নাগরিক ফিলিপ সাংমা-কে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তাকে ৩ এপ্রিল ফের আদালতে তোলা হবে।
কী ইঙ্গিত মিলছে
তদন্তকারীদের মতে, এই মামলায় আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। ফলে আপাতত অভিযুক্তদের দ্রুত মুক্তি বা দেশে ফেরার সম্ভাবনা খুবই কম বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিষয় : শরিফ ওসমান হাদি

শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মার্চ ২০২৬
শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ফয়সাল করিম ও আলমগীরকে ১১ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দিল্লির পাতিয়ালা হাউস আদালতে তোলা হলে জিজ্ঞাসাবাদের স্বার্থে তাদেরকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় কেন্দ্রীয় এই সংস্থা। বিচারক সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।
এর আগে, গত ২৩ মার্চ অভিযুক্তদের দিল্লিতে নিয়ে যায় এনআইএ। যদিও ২ এপ্রিল তাদের কলকাতার বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলার কথা ছিল, সেক্ষেত্রে ভার্চুয়ালি আদালতে পেশ করা হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।
কীভাবে এগোল মামলা
২২ মার্চ এনআইএ কলকাতার বিধাননগর আদালতে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানায়। প্রথমে বিচারক তাতে সম্মতি দিলেও, পরদিন সংস্থা নতুন পিটিশন দিয়ে জানায়—দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। এরপরই অভিযুক্তদের দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয় আদালত।
উল্লেখ্য, ২২ মার্চ বিচারক নিশান মজুমদার ফয়সাল ও আলমগীরকে ১২ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেন এবং তাদের দমদম সেন্ট্রাল জেলে পাঠানো হয়। সেখান থেকেই পরদিন দিল্লি নিয়ে যাওয়া হয়।
গুরুতর ধারায় মামলা
দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে Unlawful Activities (Prevention) Act-এর ১৬ ও ১৮ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ধারাগুলির আওতায় অভিযোগ—সন্ত্রাসী কার্যকলাপের পরিকল্পনা, সহায়তা বা প্ররোচনা। দোষ প্রমাণিত হলে ন্যূনতম ৫ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
তবে এই মামলায় ইউএপিএ প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণত অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত ঘটনায় ফরেনার্স অ্যাক্ট প্রয়োগ করা হলেও, এই ক্ষেত্রে তা করা হয়নি।
অভিযুক্তের দাবি
গত রবিবার আদালত চত্বরে ফয়সাল দাবি করে, সে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত নয় এবং তাকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তার বক্তব্য, সিসিটিভিতে তাকে দেখা গেলেও গুলি চালানোর কোনও প্রমাণ নেই। এমনকি ঘটনার সময় সে বাংলাদেশে ছিল বলেও দাবি করে। তবে ভারতে আসার কারণ সম্পর্কে সে স্পষ্ট কিছু জানায়নি।
গ্রেফতার থেকে রিমান্ড—টাইমলাইন
৭ মার্চ: উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ থেকে গ্রেফতার
৮ মার্চ: ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ড
২২ মার্চ: রিমান্ড শেষে আদালতে তোলা
২৩ মার্চ: এনআইএর আবেদনে দিল্লি স্থানান্তর
২৬ মার্চ: ১১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
অন্য অভিযুক্তের অবস্থান
এই মামলার আরেক অভিযুক্ত, বাংলাদেশি নাগরিক ফিলিপ সাংমা-কে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তাকে ৩ এপ্রিল ফের আদালতে তোলা হবে।
কী ইঙ্গিত মিলছে
তদন্তকারীদের মতে, এই মামলায় আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। ফলে আপাতত অভিযুক্তদের দ্রুত মুক্তি বা দেশে ফেরার সম্ভাবনা খুবই কম বলেই মনে করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন