সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬ | মৌলভীবাজার
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে—এ কথা তারা বলেননি; তবে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে তারা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছেন। তিনি বলেন, “মানুষ বলছে, ভোট দিলাম এক দলকে, সরকার গঠন করলো অন্য দল—এই হিসাব মিলছে না।”
সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা এলাকায় নিজ বাড়িতে গ্রামবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, সঠিক ধারায় ফিরে না এলে জনগণ তা মেনে নেবে না। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, জুলাইয়ের ঘটনাগুলো খুব বেশি পুরোনো নয় এবং সারা দেশের মানুষ তা ভুলে যায়নি। তিনি বলেন, অতীতে যারা অন্যায়-অপরাধ করেছে, জনগণ তাদের পরিণতি দেখেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, অতীতের শাসনামলে তারা যেমন নির্যাতিত ছিলেন, তেমনি অন্য অনেক দলও ছিল—তাই তা দ্রুত ভুলে যাওয়া উচিত নয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রের অর্থ জনগণের রক্ত-ঘামে অর্জিত। নবজাতক শিশু থেকে শুরু করে দরিদ্র মানুষ—সবাই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কর প্রদান করে রাষ্ট্রীয় তহবিল গড়ে তোলে। তাই এই অর্থের অপব্যবহার বা লুটতরাজের কোনো অধিকার কারো নেই। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় অনেকেই চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিতে জড়িয়েছিলেন, যা জনগণ আর দেখতে চায় না।
তিনি আরও বলেন, সরকার জনগণের সম্পদের মালিক নয়; বরং একজন ব্যবস্থাপকের মতো দায়িত্ব পালন করবে। জনগণের জান-মাল ও ইজ্জতের হেফাজত নিশ্চিত করাই সরকারের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত। রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহারে সংযম ও জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ক্ষমতার মোহ বা ব্যক্তিগত বিলাসিতা নয়, বরং জনগণের আমানত রক্ষা এবং রাষ্ট্রের কল্যাণ নিশ্চিত করাই তাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য। তিনি ব্যক্তিগত কোনো সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ না করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, তার নিজস্ব সম্পদও রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে এবং বিদেশি অতিথি ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট আলোচনার কাজে তা ব্যবহৃত হবে।
তিনি আরও বলেন, তারা পূর্বেই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে কোনো প্লট বা করমুক্ত গাড়ি গ্রহণ করবেন না এবং সে অনুযায়ী কাজেও তার প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে। চাঁদাবাজির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারে না গিয়েও চাঁদাবাজি করা সম্ভব, তবে তাদের কোনো নেতাকর্মী এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত নয় বলে দাবি করেন।
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে জনমনে থাকা প্রশ্নের প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ভোট ও সরকার গঠনের অমিল নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে কিছু সংস্থাও মতামত দিয়েছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের মাঝে ক্ষোভ থাকলেও সংযম বজায় রাখা প্রয়োজন। তিনি কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে বলেন, ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আল্লাহ রয়েছেন।
একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং অবাধ ও সুষ্ঠু স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব। তিনি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পুনর্গঠনের আহ্বান জানান।
এদিকে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তার এই সফরকে কেন্দ্র করে এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। ভাটেরা ইউনিয়নের মুমিনছড়া চা বাগান এলাকায় শত শত নেতাকর্মী তাকে স্বাগত জানান এবং সেখান থেকে মিছিলসহকারে বাড়িতে নিয়ে যান। পরে তিনি পারিবারিক কবরস্থানে জিয়ারত করেন এবং জনতার উপস্থিতিতে হেঁটে বাড়িতে প্রবেশ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগর আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মো. ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য হাফেজ মাওলানা আনোয়ার হোসাইন খাঁন, সাবেক জেলা আমির মো. আব্দুল মান্নান, জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় বিপুল সংখ্যক জনগণ।
বিষয় : ডা. শফিকুর রহমান

শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মার্চ ২০২৬
সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬ | মৌলভীবাজার
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে—এ কথা তারা বলেননি; তবে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে তারা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছেন। তিনি বলেন, “মানুষ বলছে, ভোট দিলাম এক দলকে, সরকার গঠন করলো অন্য দল—এই হিসাব মিলছে না।”
সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা এলাকায় নিজ বাড়িতে গ্রামবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, সঠিক ধারায় ফিরে না এলে জনগণ তা মেনে নেবে না। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, জুলাইয়ের ঘটনাগুলো খুব বেশি পুরোনো নয় এবং সারা দেশের মানুষ তা ভুলে যায়নি। তিনি বলেন, অতীতে যারা অন্যায়-অপরাধ করেছে, জনগণ তাদের পরিণতি দেখেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, অতীতের শাসনামলে তারা যেমন নির্যাতিত ছিলেন, তেমনি অন্য অনেক দলও ছিল—তাই তা দ্রুত ভুলে যাওয়া উচিত নয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রের অর্থ জনগণের রক্ত-ঘামে অর্জিত। নবজাতক শিশু থেকে শুরু করে দরিদ্র মানুষ—সবাই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কর প্রদান করে রাষ্ট্রীয় তহবিল গড়ে তোলে। তাই এই অর্থের অপব্যবহার বা লুটতরাজের কোনো অধিকার কারো নেই। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় অনেকেই চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিতে জড়িয়েছিলেন, যা জনগণ আর দেখতে চায় না।
তিনি আরও বলেন, সরকার জনগণের সম্পদের মালিক নয়; বরং একজন ব্যবস্থাপকের মতো দায়িত্ব পালন করবে। জনগণের জান-মাল ও ইজ্জতের হেফাজত নিশ্চিত করাই সরকারের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত। রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহারে সংযম ও জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ক্ষমতার মোহ বা ব্যক্তিগত বিলাসিতা নয়, বরং জনগণের আমানত রক্ষা এবং রাষ্ট্রের কল্যাণ নিশ্চিত করাই তাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য। তিনি ব্যক্তিগত কোনো সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ না করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, তার নিজস্ব সম্পদও রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে এবং বিদেশি অতিথি ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট আলোচনার কাজে তা ব্যবহৃত হবে।
তিনি আরও বলেন, তারা পূর্বেই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে কোনো প্লট বা করমুক্ত গাড়ি গ্রহণ করবেন না এবং সে অনুযায়ী কাজেও তার প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে। চাঁদাবাজির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারে না গিয়েও চাঁদাবাজি করা সম্ভব, তবে তাদের কোনো নেতাকর্মী এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত নয় বলে দাবি করেন।
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে জনমনে থাকা প্রশ্নের প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ভোট ও সরকার গঠনের অমিল নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে কিছু সংস্থাও মতামত দিয়েছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের মাঝে ক্ষোভ থাকলেও সংযম বজায় রাখা প্রয়োজন। তিনি কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে বলেন, ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আল্লাহ রয়েছেন।
একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং অবাধ ও সুষ্ঠু স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব। তিনি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পুনর্গঠনের আহ্বান জানান।
এদিকে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তার এই সফরকে কেন্দ্র করে এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। ভাটেরা ইউনিয়নের মুমিনছড়া চা বাগান এলাকায় শত শত নেতাকর্মী তাকে স্বাগত জানান এবং সেখান থেকে মিছিলসহকারে বাড়িতে নিয়ে যান। পরে তিনি পারিবারিক কবরস্থানে জিয়ারত করেন এবং জনতার উপস্থিতিতে হেঁটে বাড়িতে প্রবেশ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগর আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মো. ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য হাফেজ মাওলানা আনোয়ার হোসাইন খাঁন, সাবেক জেলা আমির মো. আব্দুল মান্নান, জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় বিপুল সংখ্যক জনগণ।

আপনার মতামত লিখুন