ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দিতে যাচ্ছে। ১৯৯১ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত-মাঝখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রায় দুই বছর বাদ দিলে-প্রায় সাড়ে তিন দশক দেশের শাসনক্ষমতা আবর্তিত হয়েছে দুই নারী নেত্রীকে কেন্দ্র করে।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান, শেখ হাসিনার পদত্যাগ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যু-এই দুই ঘটনার পর এবার ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ পেতে যাচ্ছে নবম পুরুষ প্রধানমন্ত্রী।
১৯৯১ সালে স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের পতনের পর বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে কেন্দ্র করেই রাজনীতি আবর্তিত হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ নেয়নি।
অন্যদিকে, গত ৩০ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় খালেদা জিয়ার মৃত্যু ঘটে। ফলে কার্যত অবসান ঘটে ‘দুই নেত্রী’র যুগের।
এবারের নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর নেতৃত্বে নেই কোনো নারী। বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তারেক রহমান। বিএনপি জয়ী হওয়ায় ৩৬ বছর পর তিনি হচ্ছেন দেশের নবম পুরুষ প্রধানমন্ত্রী।
১৯৮৯-১৯৯০ সালে কাজী জাফর আহমদ ছিলেন বাংলাদেশের সর্বশেষ পুরুষ প্রধানমন্ত্রী। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে শুরু হয় নারী নেতৃত্বের দীর্ঘ অধ্যায়। সেই হিসাবে প্রায় ৩৬ বছর পর জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী শপথ নিতে যাচ্ছেন-যা সংসদীয় ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক কাজী মোহাম্মাদ মাহবুবুর রহমান বলেন, গত তিন দশকে নারী নেতৃত্ব বাংলাদেশের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার অনুপস্থিতি এবং খালেদা জিয়ার মৃত্যু-এই দুই বাস্তবতায় ক্ষমতার কেন্দ্রে পুরুষ নেতৃত্বের প্রত্যাবর্তন এখন সময়ের বাস্তবতা।

শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দিতে যাচ্ছে। ১৯৯১ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত-মাঝখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রায় দুই বছর বাদ দিলে-প্রায় সাড়ে তিন দশক দেশের শাসনক্ষমতা আবর্তিত হয়েছে দুই নারী নেত্রীকে কেন্দ্র করে।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান, শেখ হাসিনার পদত্যাগ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যু-এই দুই ঘটনার পর এবার ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ পেতে যাচ্ছে নবম পুরুষ প্রধানমন্ত্রী।
১৯৯১ সালে স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের পতনের পর বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে কেন্দ্র করেই রাজনীতি আবর্তিত হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ নেয়নি।
অন্যদিকে, গত ৩০ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় খালেদা জিয়ার মৃত্যু ঘটে। ফলে কার্যত অবসান ঘটে ‘দুই নেত্রী’র যুগের।
এবারের নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর নেতৃত্বে নেই কোনো নারী। বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তারেক রহমান। বিএনপি জয়ী হওয়ায় ৩৬ বছর পর তিনি হচ্ছেন দেশের নবম পুরুষ প্রধানমন্ত্রী।
১৯৮৯-১৯৯০ সালে কাজী জাফর আহমদ ছিলেন বাংলাদেশের সর্বশেষ পুরুষ প্রধানমন্ত্রী। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে শুরু হয় নারী নেতৃত্বের দীর্ঘ অধ্যায়। সেই হিসাবে প্রায় ৩৬ বছর পর জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী শপথ নিতে যাচ্ছেন-যা সংসদীয় ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক কাজী মোহাম্মাদ মাহবুবুর রহমান বলেন, গত তিন দশকে নারী নেতৃত্ব বাংলাদেশের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার অনুপস্থিতি এবং খালেদা জিয়ার মৃত্যু-এই দুই বাস্তবতায় ক্ষমতার কেন্দ্রে পুরুষ নেতৃত্বের প্রত্যাবর্তন এখন সময়ের বাস্তবতা।

আপনার মতামত লিখুন