ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে অগ্রগতি, কিন্তু ভিসা জটিলতা ও বিমানবন্দরের হয়রানি বড় চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশি পাসপোর্ট: উন্নতির ইঙ্গিত থাকলেও আস্থার সংকট কাটেনি



বাংলাদেশি পাসপোর্ট: উন্নতির ইঙ্গিত থাকলেও আস্থার সংকট কাটেনি

একটি দেশের পাসপোর্ট শুধু ভ্রমণের দলিল নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা ও মর্যাদার প্রতিচ্ছবি। বাংলাদেশি পাসপোর্ট সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক সূচকে কিছুটা উন্নতি করলেও বাস্তবতায় ভিসা জটিলতা, অবৈধ অভিবাসন ও বিদেশি বিমানবন্দরে হয়রানির অভিযোগে সমালোচনার মুখে রয়েছে। সম্ভাবনা ও সংকটের এই টানাপোড়েনে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠছে—বাংলাদেশি পাসপোর্টের প্রকৃত অবস্থান কোথায়?

বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান

হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের ২০২৬ সালের শুরুর দিকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টের অবস্থানে সামান্য উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৫তম, যেখানে ২০২৫ সালে ছিল ১০০তম। এই অগ্রগতি ইতিবাচক হলেও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ—যেমন মালদ্বীপ বা ভারতের তুলনায় বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান মূলত আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রতি আস্থার ঘাটতিরই প্রতিফলন।

সমালোচনার মূল কারণ কী

বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে সমালোচনার পেছনে একাধিক কাঠামোগত ও সামাজিক কারণ রয়েছে।

প্রথমত, ভিসার অপব্যবহার—পর্যটন বা ভিজিট ভিসায় বিদেশে গিয়ে অবৈধভাবে অবস্থানের প্রবণতা অনেক দেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দ্বিতীয়ত, মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসন—বিশেষ করে ইউরোপমুখী ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

তৃতীয়ত, ডকুমেন্ট জালিয়াতি—জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধনে তথ্যের অসামঞ্জস্য এবং ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহারের অভিযোগও পাসপোর্টের বিশ্বাসযোগ্যতা কমাচ্ছে।

বিমানবন্দরে হয়রানি ও আস্থার সংকট

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশি যাত্রীদের দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ, ‘সেকেন্ডারি চেকিং’ কিংবা বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও প্রবেশে বাধার মুখে পড়ার অভিযোগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি কেবল ব্যক্তিগত ভোগান্তির বিষয় নয়; বরং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পাসপোর্টের দুর্বল গ্রহণযোগ্যতার বহিঃপ্রকাশ।

ইতিবাচক দিক ও অগ্রগতি

সমালোচনার পাশাপাশি কিছু উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিও রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার দ্রুতগতিতে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে, যা আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। আধুনিক ই-গেট সুবিধা চালু হওয়াও ডিজিটাল ও নিরাপদ ভ্রমণ ব্যবস্থার দিকে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৩৮ থেকে ৩৯টি দেশে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা ভিসা অন অ্যারাইভাল বা সীমিত ভিসামুক্ত সুবিধা পাচ্ছেন।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি দেশের পাসপোর্টের শক্তিমত্তা কেবল কাগজ বা প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে না; এটি নির্ভর করে নাগরিকদের আচরণ, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং রাষ্ট্রের কূটনৈতিক সক্ষমতার ওপর। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের আইন মেনে চলা এবং সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগই পারে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ‘সবুজ পাসপোর্ট’-এর মর্যাদা সুদৃঢ় করতে।


লেখক: মোঃ মহসিন পারভেজ 

সাধারণ সম্পাদক,আমজনতার দল,ঢাকা মহানগর উত্তর

আপনার মতামত লিখুন

বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬


বাংলাদেশি পাসপোর্ট: উন্নতির ইঙ্গিত থাকলেও আস্থার সংকট কাটেনি

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

একটি দেশের পাসপোর্ট শুধু ভ্রমণের দলিল নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা ও মর্যাদার প্রতিচ্ছবি। বাংলাদেশি পাসপোর্ট সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক সূচকে কিছুটা উন্নতি করলেও বাস্তবতায় ভিসা জটিলতা, অবৈধ অভিবাসন ও বিদেশি বিমানবন্দরে হয়রানির অভিযোগে সমালোচনার মুখে রয়েছে। সম্ভাবনা ও সংকটের এই টানাপোড়েনে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠছে—বাংলাদেশি পাসপোর্টের প্রকৃত অবস্থান কোথায়?

বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান

হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের ২০২৬ সালের শুরুর দিকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টের অবস্থানে সামান্য উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৫তম, যেখানে ২০২৫ সালে ছিল ১০০তম। এই অগ্রগতি ইতিবাচক হলেও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ—যেমন মালদ্বীপ বা ভারতের তুলনায় বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান মূলত আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রতি আস্থার ঘাটতিরই প্রতিফলন।

সমালোচনার মূল কারণ কী

বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে সমালোচনার পেছনে একাধিক কাঠামোগত ও সামাজিক কারণ রয়েছে।

প্রথমত, ভিসার অপব্যবহার—পর্যটন বা ভিজিট ভিসায় বিদেশে গিয়ে অবৈধভাবে অবস্থানের প্রবণতা অনেক দেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দ্বিতীয়ত, মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসন—বিশেষ করে ইউরোপমুখী ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

তৃতীয়ত, ডকুমেন্ট জালিয়াতি—জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধনে তথ্যের অসামঞ্জস্য এবং ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহারের অভিযোগও পাসপোর্টের বিশ্বাসযোগ্যতা কমাচ্ছে।

বিমানবন্দরে হয়রানি ও আস্থার সংকট

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশি যাত্রীদের দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ, ‘সেকেন্ডারি চেকিং’ কিংবা বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও প্রবেশে বাধার মুখে পড়ার অভিযোগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি কেবল ব্যক্তিগত ভোগান্তির বিষয় নয়; বরং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পাসপোর্টের দুর্বল গ্রহণযোগ্যতার বহিঃপ্রকাশ।

ইতিবাচক দিক ও অগ্রগতি

সমালোচনার পাশাপাশি কিছু উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিও রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার দ্রুতগতিতে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে, যা আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। আধুনিক ই-গেট সুবিধা চালু হওয়াও ডিজিটাল ও নিরাপদ ভ্রমণ ব্যবস্থার দিকে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৩৮ থেকে ৩৯টি দেশে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা ভিসা অন অ্যারাইভাল বা সীমিত ভিসামুক্ত সুবিধা পাচ্ছেন।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি দেশের পাসপোর্টের শক্তিমত্তা কেবল কাগজ বা প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে না; এটি নির্ভর করে নাগরিকদের আচরণ, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং রাষ্ট্রের কূটনৈতিক সক্ষমতার ওপর। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের আইন মেনে চলা এবং সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগই পারে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ‘সবুজ পাসপোর্ট’-এর মর্যাদা সুদৃঢ় করতে।


লেখক: মোঃ মহসিন পারভেজ 

সাধারণ সম্পাদক,আমজনতার দল,ঢাকা মহানগর উত্তর


বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

সম্পাদক ও প্রকাশক : এম. আর. আলম
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ মহসিন পারভেজ

কপিরাইট © ২০২৬ বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত