বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব নিয়ে কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেছেন, নতুন প্রজন্ম আর কোনোভাবেই ভারতের দালাল হিসেবে পরিচিত কাউকে ক্ষমতায় যেতে বা ক্ষমতায় থাকতে দেবে না। রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় তিনি রাজনীতির প্রচলিত ‘থিউরি’ বদলে দেওয়ার আহ্বান জানান।
তরুণ প্রজন্ম বাংলাদেশে ভারতের কোনো দালালকে ক্ষমতায় যেতে দেবে না—এমন মন্তব্য করেছেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে কালচারাল রিসার্চ সেন্টার, ঢাকা আয়োজিত ‘নজরুল ইসলাম থেকে হাদি: আজাদীর লড়াই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মাহমুদুর রহমান বলেন,
“জুলাই বাংলাদেশকে পাল্টে দিয়ে গেছে। এই জুলাই এক নতুন তরুণ প্রজন্ম সৃষ্টি করেছে, যারা ভারতের কোনো দালালকে ক্ষমতায় যেতেও দেবে না, ক্ষমতায় থাকতেও দেবে না।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতির প্রচলিত ধারণা বদলাতে হবে।
“রাজনীতির থিউরি হওয়া উচিত—ভারত যাকে সমর্থন করবে, তাকে ভোট দেওয়া যাবে না; ভারত যাকে সমর্থন করবে, তাকে ক্ষমতায় রাখাও যাবে না।”
আলোচনা সভায় মাহমুদুর রহমান শহীদ শরীফ ওসমান হাদি-র হত্যার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সীমান্তের শকুনদের হাতেই হাদির মৃত্যু হয়েছে—এ কথা হাদি নিজেই তার লেখায় ইঙ্গিত দিয়ে গেছেন। ফলে হত্যাকারীদের খুঁজতে বেশি দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার লড়াই প্রকৃতপক্ষে একটি সাংস্কৃতিক লড়াই।
“আমরা একটি ছোট দেশ, বৈরি প্রতিবেশী দ্বারা বেষ্টিত। আমাদের স্বাতন্ত্র্য ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হলে অবিরাম সাংস্কৃতিক সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।”
এ প্রসঙ্গে তিনি ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার টিকিয়ে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এটি শহীদ হাদির স্বপ্ন ছিল। কেন্দ্রটি টিকে থাকলে হাদির আত্মা অন্তত বলবে, আমরা অকৃতজ্ঞ হইনি।
জুলাই আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“জুলাই বিপ্লব আমাদের আবু সাঈদ, ইয়ামিনসহ অনেক আইকন দিয়েছে। আল্লাহ হাদিকেও আমাদের জন্য একটি আইকন হিসেবে দিয়েছেন। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ততদিন হাদির বিপ্লবী চেতনা বেঁচে থাকবে।”
নির্বাচন প্রসঙ্গে মাহমুদুর রহমান বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, কেউ জিতবে, কেউ হারবে—এটাই গণতন্ত্র। কিন্তু ক্ষমতার লড়াইয়ে জুলাই বিপ্লবের শরিকরা যেন একে অপরের শত্রুতে পরিণত না হয়, সে আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন,
“কিছু রাজনীতিবিদের মধ্যে হীনম্মন্যতা আছে—তারা মনে করেন ভারতের সমর্থন ছাড়া ক্ষমতায় যাওয়া বা টিকে থাকা যায় না। বাস্তবতা হলো, ভারতের সমর্থন থাকলেও শেখ হাসিনার মতো একজন ফ্যাসিস্টকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আমার দেশ-এর নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কণ্ঠস্বর, আর জুলাই আন্দোলনে শহীদ হাদি ছিলেন নজরুলের প্রতিচ্ছবি। নজরুলের কবিতা ও গান এই আন্দোলনের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কালচারাল রিসার্চ সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক এমদাদুল হক চৌধুরী-র সভাপতিত্বে এবং ফয়েজ বিন আকরাম-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্দার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শহীদ হাদির বড় ভাই শরীফ ওমর বিন হাদি, কবি কাজী আবু জাফর, অধ্যাপক শাহ মো. বুলবুলসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যক্তিত্ব। নজরুল ও হাদির বিদ্রোহী কবিতা পাঠ করেন আজহারুল ইসলাম রনি ও সাব্বির আহমেদ।

শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব নিয়ে কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেছেন, নতুন প্রজন্ম আর কোনোভাবেই ভারতের দালাল হিসেবে পরিচিত কাউকে ক্ষমতায় যেতে বা ক্ষমতায় থাকতে দেবে না। রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় তিনি রাজনীতির প্রচলিত ‘থিউরি’ বদলে দেওয়ার আহ্বান জানান।
তরুণ প্রজন্ম বাংলাদেশে ভারতের কোনো দালালকে ক্ষমতায় যেতে দেবে না—এমন মন্তব্য করেছেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে কালচারাল রিসার্চ সেন্টার, ঢাকা আয়োজিত ‘নজরুল ইসলাম থেকে হাদি: আজাদীর লড়াই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মাহমুদুর রহমান বলেন,
“জুলাই বাংলাদেশকে পাল্টে দিয়ে গেছে। এই জুলাই এক নতুন তরুণ প্রজন্ম সৃষ্টি করেছে, যারা ভারতের কোনো দালালকে ক্ষমতায় যেতেও দেবে না, ক্ষমতায় থাকতেও দেবে না।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতির প্রচলিত ধারণা বদলাতে হবে।
“রাজনীতির থিউরি হওয়া উচিত—ভারত যাকে সমর্থন করবে, তাকে ভোট দেওয়া যাবে না; ভারত যাকে সমর্থন করবে, তাকে ক্ষমতায় রাখাও যাবে না।”
আলোচনা সভায় মাহমুদুর রহমান শহীদ শরীফ ওসমান হাদি-র হত্যার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সীমান্তের শকুনদের হাতেই হাদির মৃত্যু হয়েছে—এ কথা হাদি নিজেই তার লেখায় ইঙ্গিত দিয়ে গেছেন। ফলে হত্যাকারীদের খুঁজতে বেশি দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার লড়াই প্রকৃতপক্ষে একটি সাংস্কৃতিক লড়াই।
“আমরা একটি ছোট দেশ, বৈরি প্রতিবেশী দ্বারা বেষ্টিত। আমাদের স্বাতন্ত্র্য ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হলে অবিরাম সাংস্কৃতিক সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।”
এ প্রসঙ্গে তিনি ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার টিকিয়ে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এটি শহীদ হাদির স্বপ্ন ছিল। কেন্দ্রটি টিকে থাকলে হাদির আত্মা অন্তত বলবে, আমরা অকৃতজ্ঞ হইনি।
জুলাই আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“জুলাই বিপ্লব আমাদের আবু সাঈদ, ইয়ামিনসহ অনেক আইকন দিয়েছে। আল্লাহ হাদিকেও আমাদের জন্য একটি আইকন হিসেবে দিয়েছেন। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ততদিন হাদির বিপ্লবী চেতনা বেঁচে থাকবে।”
নির্বাচন প্রসঙ্গে মাহমুদুর রহমান বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, কেউ জিতবে, কেউ হারবে—এটাই গণতন্ত্র। কিন্তু ক্ষমতার লড়াইয়ে জুলাই বিপ্লবের শরিকরা যেন একে অপরের শত্রুতে পরিণত না হয়, সে আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন,
“কিছু রাজনীতিবিদের মধ্যে হীনম্মন্যতা আছে—তারা মনে করেন ভারতের সমর্থন ছাড়া ক্ষমতায় যাওয়া বা টিকে থাকা যায় না। বাস্তবতা হলো, ভারতের সমর্থন থাকলেও শেখ হাসিনার মতো একজন ফ্যাসিস্টকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আমার দেশ-এর নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কণ্ঠস্বর, আর জুলাই আন্দোলনে শহীদ হাদি ছিলেন নজরুলের প্রতিচ্ছবি। নজরুলের কবিতা ও গান এই আন্দোলনের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কালচারাল রিসার্চ সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক এমদাদুল হক চৌধুরী-র সভাপতিত্বে এবং ফয়েজ বিন আকরাম-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্দার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শহীদ হাদির বড় ভাই শরীফ ওমর বিন হাদি, কবি কাজী আবু জাফর, অধ্যাপক শাহ মো. বুলবুলসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যক্তিত্ব। নজরুল ও হাদির বিদ্রোহী কবিতা পাঠ করেন আজহারুল ইসলাম রনি ও সাব্বির আহমেদ।

আপনার মতামত লিখুন