ঢাকা    সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৫২ ধারায় মামলা; পরিবারের অভিযোগ, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

ভারতে ককরোচ আন্দোলনে সমর্থন জানানোয় তিন মুসলিম তরুণ রাষ্টদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার!



ভারতে ককরোচ আন্দোলনে সমর্থন জানানোয় তিন মুসলিম তরুণ রাষ্টদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার!
ছবি - সংগৃহীত

ভারতের আসাম রাজ্যের লখিমপুর জেলায় ছাত্র-যুব আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচির পরিকল্পনার অভিযোগে তিন মুসলিম তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, কোনো বিক্ষোভ বা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও অখণ্ডতা বিপন্ন করার মতো গুরুতর ধারায় মামলা করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন হলেন মনজুর রহমান (২৩), আশরাফুল ইসলাম (২১) এবং আবদুল কাশেম (২৩)। তাঁরা লখিমপুর জেলার লালুক থানার ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা।

জানা গেছে, শিক্ষা খাতে অনিয়মের প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলমান ছাত্র-যুব আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাঁরা একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ চালু করেন। পরে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি চেয়ে লালুক থানায় আবেদন করলেও পুলিশ অনুমতি দেয়নি।

গ্রেপ্তার হওয়া মনজুর রহমান ও আশরাফুল ইসলাম এম.কমের শিক্ষার্থী। অপরদিকে আবদুল কাশেম ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সে স্নাতক শেষ করে একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছিলেন।

গ্রেপ্তারের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। মনজুরের বাবা মজিবুর রহমান বলেন, তাঁর ছেলে কোনো অসাংবিধানিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল না; শুধু একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আয়োজনের চেষ্টা করেছিল। আশরাফুল ইসলামের বাবা আইয়ুব আলী অভিযোগ করেন, মুসলিম হওয়ায় তাঁদের সন্তানদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আর আবদুল কাশেমের বাবা নুরুল ইসলাম জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে নেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর ছেলেকে কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬১(২)(বি), ৩৫৩(১) এবং ১৫২ ধারায় মামলা করেছে। এর মধ্যে ১৫২ ধারাটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও অখণ্ডতা বিপন্ন করার অভিযোগে ব্যবহৃত একটি কঠোর আইনগত ধারা।

এদিকে, লালুক থানার পুলিশ অভিযুক্তদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করলেও আদালত তা নাকচ করে তাঁদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। লালুক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সীমান্ত পাঠক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬


ভারতে ককরোচ আন্দোলনে সমর্থন জানানোয় তিন মুসলিম তরুণ রাষ্টদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার!

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

ভারতের আসাম রাজ্যের লখিমপুর জেলায় ছাত্র-যুব আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচির পরিকল্পনার অভিযোগে তিন মুসলিম তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, কোনো বিক্ষোভ বা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও অখণ্ডতা বিপন্ন করার মতো গুরুতর ধারায় মামলা করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন হলেন মনজুর রহমান (২৩), আশরাফুল ইসলাম (২১) এবং আবদুল কাশেম (২৩)। তাঁরা লখিমপুর জেলার লালুক থানার ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা।

জানা গেছে, শিক্ষা খাতে অনিয়মের প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলমান ছাত্র-যুব আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাঁরা একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ চালু করেন। পরে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি চেয়ে লালুক থানায় আবেদন করলেও পুলিশ অনুমতি দেয়নি।

গ্রেপ্তার হওয়া মনজুর রহমান ও আশরাফুল ইসলাম এম.কমের শিক্ষার্থী। অপরদিকে আবদুল কাশেম ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সে স্নাতক শেষ করে একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছিলেন।

গ্রেপ্তারের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। মনজুরের বাবা মজিবুর রহমান বলেন, তাঁর ছেলে কোনো অসাংবিধানিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল না; শুধু একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আয়োজনের চেষ্টা করেছিল। আশরাফুল ইসলামের বাবা আইয়ুব আলী অভিযোগ করেন, মুসলিম হওয়ায় তাঁদের সন্তানদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আর আবদুল কাশেমের বাবা নুরুল ইসলাম জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে নেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর ছেলেকে কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬১(২)(বি), ৩৫৩(১) এবং ১৫২ ধারায় মামলা করেছে। এর মধ্যে ১৫২ ধারাটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও অখণ্ডতা বিপন্ন করার অভিযোগে ব্যবহৃত একটি কঠোর আইনগত ধারা।

এদিকে, লালুক থানার পুলিশ অভিযুক্তদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করলেও আদালত তা নাকচ করে তাঁদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। লালুক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সীমান্ত পাঠক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।


বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

সম্পাদক ও প্রকাশক : এম. আর. আলম
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ মহসিন পারভেজ

কপিরাইট © ২০২৬ বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত