ঢাকা    বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

তওবা, ইবাদত ও দোয়ার মাধ্যমে মুমিনরা খুঁজবেন আল্লাহর সন্তুষ্টি

রমজানের শ্রেষ্ঠ রজনী শবে কদর পালিত হচ্ছে আজ



রমজানের শ্রেষ্ঠ রজনী শবে কদর পালিত হচ্ছে আজ

আজ দিবাগত রাতে সারা দেশে পালিত হবে পবিত্র শবে কদর বা লাইলাতুল কদর। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি বছরের সবচেয়ে মহিমান্বিত এবং বরকতময় রাত। হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম এই রজনীতেই মানবজাতির মুক্তির সনদ পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হয়। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগি, তিলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে এই রাতটি অতিবাহিত করবেন।

পবিত্র কুরআনের সুরা কদরে আল্লাহ তায়ালা এই রাতের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় আমি কুরআনকে নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। লাইলাতুল কদর সম্বন্ধে তুমি কী জান? লাইলাতুল কদর এক হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম’ (আয়াত: ১-৩)। এই আয়াত থেকেই স্পষ্ট হয় যে, এক রাতের ইবাদতে প্রায় ৮৩ বছর ৪ মাসের সমান সওয়াব লাভের সুযোগ রয়েছে, যা একজন মুমিনের জন্য পরম সৌভাগ্যের।

সূর্যাস্তের পর থেকেই শুরু হবে এই বরকতময় রজনীর উদযাপন। সারা দেশের মসজিদগুলোতে এবং ব্যক্তিগতভাবে ঘরে ঘরে মুসল্লিরা নফল নামাজ, জিকির, কুরআন তিলাওয়াত এবং দীর্ঘ মোনাজাতে মগ্ন থাকবেন। রমজানের শেষ প্রান্তে এসে মুমিন হৃদয় আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য সুযোগ পায়। হাদিস অনুযায়ী, এই রাতে মহান আল্লাহ তাঁর অসীম দয়া ও রহমতের দুয়ার খুলে দেন এবং বান্দাদের ক্ষমা ও কল্যাণের দিকে আহ্বান করেন।

শবে কদরের গুরুত্ব নিয়ে ইসলামি ইতিহাসে এক বিশেষ ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। নবীজি (সা.) একবার সাহাবিদের সামনে বনি ইসরাইলের এক ব্যক্তির কথা বলেন, যিনি টানা এক হাজার মাস ইবাদতে নিমগ্ন ছিলেন। সাহাবিরা নিজেদের অল্প আয়ু নিয়ে আফসোস করলে আল্লাহ তায়ালা এই উম্মতের জন্য সুরা কদর নাজিল করেন। এর মাধ্যমে স্বল্প সময়ে অধিক সওয়াব অর্জনের এক বিশেষ নেয়ামত দান করা হয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯) লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করতে। যদিও অধিকাংশ আলেমের মতে এটি শেষ দশকের যেকোনো বিজোড় রাতে হতে পারে, তবে অনেক সাহাবি ও উলামায়ে কেরাম রমজানের ২৭তম রাতকে শবে কদর হিসেবে বিশেষভাবে চিহ্নিত করেছেন। এই বিশ্বাস থেকেই মুসলিম বিশ্বে আজ গভীর ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে রাতটি পালিত হচ্ছে।

হযরত আয়েশা (রা.) একবার নবীজিকে (সা.) জিজ্ঞেস করেছিলেন, শবে কদর পেলে তিনি কী দোয়া করবেন। উত্তরে নবীজি (সা.) তাকে এই দোয়াটি শিখিয়ে দেন: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।’ অর্থাৎ, ‘হে আল্লাহ! আপনি তো ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব, আমাকে ক্ষমা করুন।’ এই পবিত্র রাতে ভুল ও পাপের জন্য তওবা করে নতুনভাবে জীবন গড়ার অঙ্গীকার করাই মুমিনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


রমজানের শ্রেষ্ঠ রজনী শবে কদর পালিত হচ্ছে আজ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মার্চ ২০২৬

featured Image

আজ দিবাগত রাতে সারা দেশে পালিত হবে পবিত্র শবে কদর বা লাইলাতুল কদর। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি বছরের সবচেয়ে মহিমান্বিত এবং বরকতময় রাত। হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম এই রজনীতেই মানবজাতির মুক্তির সনদ পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হয়। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগি, তিলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে এই রাতটি অতিবাহিত করবেন।

পবিত্র কুরআনের সুরা কদরে আল্লাহ তায়ালা এই রাতের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় আমি কুরআনকে নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। লাইলাতুল কদর সম্বন্ধে তুমি কী জান? লাইলাতুল কদর এক হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম’ (আয়াত: ১-৩)। এই আয়াত থেকেই স্পষ্ট হয় যে, এক রাতের ইবাদতে প্রায় ৮৩ বছর ৪ মাসের সমান সওয়াব লাভের সুযোগ রয়েছে, যা একজন মুমিনের জন্য পরম সৌভাগ্যের।

সূর্যাস্তের পর থেকেই শুরু হবে এই বরকতময় রজনীর উদযাপন। সারা দেশের মসজিদগুলোতে এবং ব্যক্তিগতভাবে ঘরে ঘরে মুসল্লিরা নফল নামাজ, জিকির, কুরআন তিলাওয়াত এবং দীর্ঘ মোনাজাতে মগ্ন থাকবেন। রমজানের শেষ প্রান্তে এসে মুমিন হৃদয় আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য সুযোগ পায়। হাদিস অনুযায়ী, এই রাতে মহান আল্লাহ তাঁর অসীম দয়া ও রহমতের দুয়ার খুলে দেন এবং বান্দাদের ক্ষমা ও কল্যাণের দিকে আহ্বান করেন।

শবে কদরের গুরুত্ব নিয়ে ইসলামি ইতিহাসে এক বিশেষ ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। নবীজি (সা.) একবার সাহাবিদের সামনে বনি ইসরাইলের এক ব্যক্তির কথা বলেন, যিনি টানা এক হাজার মাস ইবাদতে নিমগ্ন ছিলেন। সাহাবিরা নিজেদের অল্প আয়ু নিয়ে আফসোস করলে আল্লাহ তায়ালা এই উম্মতের জন্য সুরা কদর নাজিল করেন। এর মাধ্যমে স্বল্প সময়ে অধিক সওয়াব অর্জনের এক বিশেষ নেয়ামত দান করা হয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯) লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করতে। যদিও অধিকাংশ আলেমের মতে এটি শেষ দশকের যেকোনো বিজোড় রাতে হতে পারে, তবে অনেক সাহাবি ও উলামায়ে কেরাম রমজানের ২৭তম রাতকে শবে কদর হিসেবে বিশেষভাবে চিহ্নিত করেছেন। এই বিশ্বাস থেকেই মুসলিম বিশ্বে আজ গভীর ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে রাতটি পালিত হচ্ছে।

হযরত আয়েশা (রা.) একবার নবীজিকে (সা.) জিজ্ঞেস করেছিলেন, শবে কদর পেলে তিনি কী দোয়া করবেন। উত্তরে নবীজি (সা.) তাকে এই দোয়াটি শিখিয়ে দেন: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।’ অর্থাৎ, ‘হে আল্লাহ! আপনি তো ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব, আমাকে ক্ষমা করুন।’ এই পবিত্র রাতে ভুল ও পাপের জন্য তওবা করে নতুনভাবে জীবন গড়ার অঙ্গীকার করাই মুমিনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।


বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

সম্পাদক ও প্রকাশক : এম. আর. আলম
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ মহসিন পারভেজ

কপিরাইট © ২০২৬ বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত