ঢাকা    রোববার, ০৩ মে ২০২৬
বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

আদালতে চাঞ্চল্য: ‘স্বামী অদলবদল’ চেয়ে আবেদন দুই বোনের

কত রকমের মামলা আদালতে আসে! কিন্তু স্বামী অদলবদলের আবেদন— এমন ঘটনা দীর্ঘ বিচারিক জীবনে এই প্রথম শুনলেন মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের এক বিচারপতি। দুই সহোদরার এমন আর্জিতে হতবাক হয়ে যান তিনি। ভারতের মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের গ্বালিয়র বেঞ্চে হওয়া এই মামলাটি এখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।ঘটনার শুরু একটি হেবিয়াস কর্পাস মামলাকে ঘিরে। দতিয়ার এক বাসিন্দা আদালতে অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী ও কন্যাকে অপহরণ করেছেন তার ভায়রাভাই, অর্থাৎ শ্যালিকার স্বামী।এরপর বিচারপতি পুলিশকে নির্দেশ দেন, অভিযুক্তসহ অপহৃতদের আদালতে হাজির করতে। নির্দেশ অনুযায়ী সম্প্রতি পুলিশ অভিযুক্ত মায়ারাম ও দুই নারীকে আদালতে উপস্থিত করে। সেখানেই সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।আদালতে ওই ‘অপহৃত’ নারী জানান, তাকে কেউ অপহরণ করেনি। তিনি স্বেচ্ছায় নিজের কন্যাকে নিয়ে বোনের স্বামীর কাছে গিয়ে উঠেছেন।তার দাবি, নিজের স্বামীর সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না। তাই তিনি ভগ্নিপতির সঙ্গেই থাকতে চান। এমনকি তিনি ইতোমধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের মামলাও করেছেন।আরও অবাক করার বিষয়, আদালতে উপস্থিত ছিলেন অভিযুক্ত মায়ারামের স্ত্রীও। তিনি বোনের বক্তব্যের কোনো প্রতিবাদ করেননি। বিচারপতি তার মতামত জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনিও নিজের জামাইবাবুর সঙ্গে থাকতে চান।দুই বোনের স্বামী অদলবদল করে দেওয়ার অনুমতি চেয়ে বসেন তিনি।দুই বোন একসঙ্গে আদালতে জানান, নিজেদের স্বামীর সঙ্গে তারা সুখী নন। আদালত যেন তাদের স্বামী অদলবদলের অনুমতি দেয়। উল্লেখ্য, দুই দম্পতিরই সন্তান রয়েছে।সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি পর্যবেক্ষণে বলেন, আবেদনকারী ও অভিযুক্ত সবাই সাবালক। তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নিতে সক্ষম। অপহরণের অভিযোগে হেবিয়াস কর্পাস মামলা দায়ের হলেও বাস্তবে এটি পারিবারিক বিরোধ, ফৌজদারি অপরাধ নয়।এ কারণে আদালত দুই পক্ষকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে হেবিয়াস কর্পাস মামলাটি খারিজ করে দেওয়া হয়।

আদালতে চাঞ্চল্য: ‘স্বামী অদলবদল’ চেয়ে আবেদন দুই বোনের