রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ও সংসদ সদস্য নির্বাচনের বিষয়টি। সম্প্রতি বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসন থেকে রাজবাড়ী-১ অঞ্চলের সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সুবর্ণা ঠাকুর।এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দলীয় সূত্র ও স্থানীয় কর্মীদের দাবি, বিএনপির দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেত্রীদের বাদ দিয়ে একজন সাবেক আওয়ামী লীগ পদধারী নেত্রীকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে—যা তৃণমূল পর্যায়ে অসন্তোষ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।তন্নি মল্লিককে বাদ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ তৃণমূলসামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্ট ও আলোচনা থেকে জানা যায়, রাজবাড়ী-১ আসনের সংরক্ষিত নারী আসনে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের বারবার নির্বাচিত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তন্নি মল্লিক-কে মনোনয়ন না দেওয়াকে কেন্দ্র করেই মূলত ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।দলীয় কর্মীদের বক্তব্য অনুযায়ী, তন্নি মল্লিক বিগত সময়ে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন এবং হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ, মাঠের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তিনি ছিলেন আলোচিত ও সম্ভাব্য প্রার্থী।তবে তাকে বাদ দিয়ে একজন সাবেক আওয়ামী লীগ নেত্রীকে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত করায় অনেকেই বিষয়টিকে “দলীয় আদর্শ ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন” হিসেবে দেখছেন।প্রশ্ন উঠেছে মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়েস্থানীয় পর্যায়ের একাধিক নেতাকর্মী দাবি করেছেন, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে দলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও আন্দোলন-সংগ্রামী নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু বাস্তবে তার ব্যতিক্রম হওয়ায় মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বিএনপির রাজনৈতিক সংগ্রামের সময়ে যারা মাঠে থেকে আন্দোলন করেছেন এবং দমন-পীড়নের মুখে সংগঠনকে ধরে রেখেছেন—তাদের বাদ দিয়ে ভিন্ন রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডের ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া দলীয় কর্মীদের মাঝে হতাশা তৈরি করছে।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র আলোচনাএই ইস্যু ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক কর্মী ও সমর্থক প্রকাশ্যে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “আন্দোলনের সময় যারা রাস্তায় ছিলেন, তাদের মূল্যায়ন না হলে ভবিষ্যতে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়বে।”এ বিষয়ে দলীয় পর্যায়ের কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য না দিলেও তৃণমূল পর্যায়ে আলোচনা ও সমালোচনা থামছে না।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামতরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন নিয়ে এ ধরনের বিতর্ক দলের সাংগঠনিক স্থিতিশীলতা ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মনোবলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ আন্দোলন-সংগ্রামের রাজনীতিতে ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না হলে দলের ভিত শক্তিশালী রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।তাদের মতে, বিএনপির উচিত এই বিষয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া এবং তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা।