নারীরা শক্তিশালী হলে দেশও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হবে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। সোমবার (১ জুন) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি)-এ বিশ্ব দুগ্ধ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন খাতে নারীদের অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে, যা সমাজের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। বিশেষ করে দুগ্ধ খামার ও প্রাণিসম্পদ খাতে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ তাকে আশাবাদী করে তুলেছে। নারীরা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হলে শুধু পরিবার নয়, পুরো দেশই লাভবান হবে।প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, একজন নারী একটি পরিবারের কেন্দ্রবিন্দু। সন্তানদের লালন-পালন থেকে শুরু করে পারিবারিক ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তারা পালন করেন। ফলে নারীদের আর্থিকভাবে সক্ষম করে তোলা এবং উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা দেশের উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। নারীরা শক্তিশালী হলে দেশও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হবে।নারীর ক্ষমতায়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা উল্লেখ করে টুকু বলেন, অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে নারীদের শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের পথ আরও সুগম হয়েছিল। এর ইতিবাচক প্রভাব আজ দেশের বিভিন্ন খাতে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণের মাধ্যমে দৃশ্যমান হচ্ছে।দুগ্ধ খাতে নারীদের সম্পৃক্ততা আরও বাড়াতে প্রশিক্ষণ ও সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যারা খামার গড়ে তুলেছেন এবং উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন, তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।তিনি বলেন, একসময় ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ ছিল একটি বহুল প্রচলিত স্লোগান। কিন্তু এখন প্রয়োজন নতুন প্রজন্মকে পুষ্টিকর খাদ্যের মাধ্যমে গড়ে তোলা। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে দুধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর দুধ নিশ্চিত করা জরুরি।সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বর্তমানে দেশের চাহিদা অনুযায়ী দুধ উৎপাদনে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণ করে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে হবে। এরপর বিদেশে রপ্তানির সুযোগ তৈরি করতে হবে। কারণ এখনও বিভিন্ন ধরনের দুগ্ধজাত পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারলে একদিকে যেমন আমদানি ব্যয় কমবে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে।তিনি আরও বলেন, দুধ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং খামারিদের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে। তবে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, অধিদফতর, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা এবং খামারিদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।