সুখোই-৩৫ যুক্ত হলে বদলে যাবে ইরানের আকাশযুদ্ধের সক্ষমতা
ইরানের জন্য অর্ডার করা প্রথম ২০টি সুখোই-৩৫ যুদ্ধবিমানের উৎপাদন শেষ করেছে রাশিয়া। চলতি বছরের মধ্যেই এসব অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান তেহরানের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গেছে। খবর কিয়েভ পোস্টের।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিমানগুলো রাশিয়ার কোমসোমলস্ক-অন-আমুর অ্যাভিয়েশন প্ল্যান্টে তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সেগুলো রাশিয়াতেই রয়েছে এবং চূড়ান্ত হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে।সুখোই-৩৫ রাশিয়ার অন্যতম অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার কমব্যাট রেডিয়াসের এই ফাইটার জেট শত্রু ভূখণ্ডের গভীরে প্রবেশ করে নির্ভুল হামলা চালাতে সক্ষম। পাশাপাশি অস্থায়ী বা স্বল্প দৈর্ঘ্যের রানওয়ে থেকেও উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারে, যা যুদ্ধক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা বাড়ায়।প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এফ-৩৫-এর মতো পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান না হলেও সুখোই-৩৫ এখনো বিশ্বের অন্যতম কার্যকর ও যুদ্ধ-পরীক্ষিত ফাইটার জেট। আধুনিক আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজনের মাধ্যমে বিমানটির সক্ষমতা আরও বাড়ানো হচ্ছে।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান ইতোমধ্যে সুখোই-৩৫ পরিচালনার জন্য পাইলটদের প্রশিক্ষণ শুরু করেছে। এ উদ্দেশ্যে আগে থেকেই রাশিয়ার তৈরি ইয়াক-১৩০ প্রশিক্ষণ বিমান ব্যবহার করা হচ্ছে।বিশ্লেষকদের মতে, সুখোই-৩৫ অন্তর্ভুক্ত হলে দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো এফ-১৪, এফ-৪ ও এফ-৫ যুদ্ধবিমানের ওপর নির্ভরশীল ইরানের বিমানবাহিনীর সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে দূরপাল্লার আকাশ অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে তেহরানের কৌশলগত শক্তি রাতারাতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।এদিকে বিভিন্ন সূত্রের দাবি, রাশিয়ার কাছে মোট ৪৮টি সুখোই-৩৫ যুদ্ধবিমানের অর্ডার দিয়েছে ইরান। ভবিষ্যতে আরও সুখোই-৩০এসএম২ এবং পঞ্চম প্রজন্মের সুখোই-৫৭ যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়েও তেহরানের আগ্রহ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।