রাশিয়ান তেল ইস্যুতে ভারতকে নতুন শুল্ক হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক ভূরাজনীতি ও জ্বালানি বাণিজ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতকে আবারও শুল্ক বৃদ্ধির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমানো না হলে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ভারতের বিরুদ্ধে নতুন করে শুল্ক সতর্কতা জারি করেন। রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ভারত যদি রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমাতে ব্যর্থ হয়, তবে ওয়াশিংটন নয়াদিল্লির ওপর শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য সরাসরি চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং সে সংক্রান্ত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে।ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া-এর প্রতিবেদনে ট্রাম্পের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়,“তারা আমাকে খুশি করতে চেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী মোদী খুব ভালো মানুষ। তিনি জানতেন আমি খুশি নই। আমাকে খুশি করা গুরুত্বপূর্ণ।”রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানির বিষয়ে ট্রাম্প আরও বলেন,“তারা বাণিজ্য করছে, আর আমরা খুব শিগগিরই তাদের ওপর শুল্ক বাড়াতে পারি।”উল্লেখ্য, রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কেনার প্রতিক্রিয়ায় গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করেছিল। তবে এত উচ্চ শুল্ক আরোপের পরও গত বছরের নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়, যা দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের জটিল বাস্তবতা তুলে ধরে।এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ভারত সরকার একটি নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো গত সপ্তাহে রয়টার্সকে জানিয়েছে, ভারত সরকার দেশটির রিফাইনারিগুলোকে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কেনার তথ্য সাপ্তাহিক ভিত্তিতে প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের ধারণা, এই পদক্ষেপের ফলে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেলের নিচে নেমে আসতে পারে।এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে রাশিয়া-বিরোধী নিষেধাজ্ঞা জোরদারের উদ্যোগও এগোচ্ছে। রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলের সহ-পৃষ্ঠপোষকদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। প্রস্তাবিত এই বিল পাস হলে, রাশিয়া থেকে তেল বা ইউরেনিয়াম ক্রয় অব্যাহত রাখা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ বাধ্যতামূলক করা হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে ভারতসহ একাধিক দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক কৌশল এবং কূটনৈতিক ভারসাম্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।