ঢাকা    শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

বাংলাদেশে বাড়ছে সাইবার বুলিং, অনলাইনে মানহানি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ

ঢাকা: বাংলাদেশ: তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক বিস্তারের ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের জীবনে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তবে এর পাশাপাশি উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে সাইবার বুলিং, অনলাইন মানহানি এবং বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল হয়রানি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারের কারণে অনেক ব্যক্তি মানসিক, সামাজিক এবং পারিবারিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।বর্তমানে ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত আক্রমণ, কটূক্তি, মিথ্যা তথ্য প্রচার, ছবি ও ভিডিও বিকৃত করে প্রকাশ, ভুয়া আইডি খুলে অপপ্রচার চালানো এবং সম্মানহানির ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে অনেকেই মানসিক চাপে ভুগছেন এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছেন।সচেতন মহলের মতে, অনলাইনে মতবিরোধ বা ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে কাউকে টার্গেট করে অপমান ও হেয় করার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে নারী, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, শিক্ষক, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং জনপরিচিত ব্যক্তিরা প্রায়ই এ ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন।বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সাইবার বুলিং শুধু ব্যক্তির সুনাম নষ্ট করে না, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদে মানসিক স্বাস্থ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অনেক ক্ষেত্রে হতাশা, উদ্বেগ, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং আত্মবিশ্বাস হারানোর মতো সমস্যাও দেখা দেয়।এ বিষয়ে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।সচেতন নাগরিকদের মতে, ডিজিটাল যুগে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি অন্যের সম্মান, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবিক মর্যাদা রক্ষা করাও সমানভাবে জরুরি। সাইবার বুলিং ও অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধে পারিবারিক সচেতনতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশে বাড়ছে সাইবার বুলিং, অনলাইনে মানহানি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ