ঢাকা    রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

ঝুপড়ি ঘরে এসি-সিসি ক্যামেরা, মাদক ব্যবসার বিলাসী আস্তানা

বাইরে থেকে দেখতে বেদে পল্লীর সাধারণ একটি ঝুপড়ি ঘর। কিন্তু ভেতরে ঢুকলেই চোখ কপালে ওঠার মতো অবস্থা। নোয়াখালীর চাটখিল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভীমপুর গ্রামে সরকারি খাসজমিতে গড়ে তোলা ওই ঘরেই চলছে বিলাসী জীবনযাপন। ঝুপড়ি ঘরে বসানো হয়েছে এয়ারকন্ডিশন (এসি), আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাদকের ক্রেতাদের গতিবিধি নজরদারিতে পুরো আস্তানাজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা।স্থানীয়দের অভিযোগ, এই রাজকীয় মাদক আস্তানার মূল হোতা ববিতা আক্তার সুমাইয়া (৩৫) নামের এক নারী। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় প্রশাসনের নাকের ডগায় বসেই তিনি গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী একটি মাদক সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে, একসময় আওয়ামী লীগ নেতাদের সহায়তায় ব্যবসা শুরু করলেও বর্তমানে বিএনপির কিছু নেতার ছত্রছায়ায় তিনি এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।চাটখিল থানা পুলিশ এর আগে কয়েক দফা ইয়াবাসহ ববিতাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালেও প্রতিবার জামিনে বেরিয়ে এসে তিনি আবারও একই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয়দের দাবি, প্রযুক্তির এমন অপব্যবহার করে বেদে পল্লী থেকে অবাধে মাদক বিক্রির কারণে চাটখিলের ছাত্র ও যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়েছে। তারা এই মাদক সিন্ডিকেটের নেপথ্যের গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা এবং অবৈধ আস্তানা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন।চাটখিল পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বি কে হানিফ বলেন, ‘একজন মাদক কারবারির কাছে পুলিশ, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা, স্থানীয় মানুষ—সবাই অসহায়। পুলিশ বা বহিরাগত কারও উপস্থিতি টের পেলেই তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দলবেঁধে বের হয়ে আসে। ববিতার এত ক্ষমতার উৎস খুঁজে বের করতে হবে। তাকে যারা পেছন থেকে সহায়তা দিচ্ছে, তাদেরও মূলোৎপাটন করতে হবে।’পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারী মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে থানায় সাতটি মামলা রয়েছে এবং তিনি ছয়বার গ্রেপ্তার হয়েছেন। প্রতিবারই জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও মাদক ব্যবসা শুরু করেন। তাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয়রা হামলার শিকার হয়েছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।এ বিষয়ে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। তাকে অতি সম্প্রতি আটকও করা হয়েছিল। তবে তার এ ধরনের বিলাসী জীবনযাপনের বিষয়ে আমার ধারণা ছিল না।’

ঝুপড়ি ঘরে এসি-সিসি ক্যামেরা, মাদক ব্যবসার বিলাসী আস্তানা