ঢাকা    শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে অংশ নিতে বাংলাদেশের আগ্রহ প্রকাশ

গাজায় যুদ্ধবিরতি ও নিরাপত্তা তদারকিতে গঠিত হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর অংশ হতে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা নীতিগতভাবে জানিয়েছে সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই অবস্থান তুলে ধরা হয়। বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটনও।গাজায় সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ)-এর অংশ হতে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা নীতিগতভাবে ব্যক্ত করেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। শনিবার (১০ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিবৃতিতে বলা হয়, শুক্রবার ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিকবিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি অব স্টেট অ্যালিসন হুকার এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর-এর সঙ্গে পৃথক বৈঠকে তিনি এই আগ্রহের কথা জানান। জবাবে আন্ডার-সেক্রেটারি হুকার বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে আগ্রহী।উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত ২০ দফা পরিকল্পনা-ভিত্তিক একটি প্রস্তাব অনুমোদন করে। ওই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা ছিল—গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির নিরাপত্তা ও বাস্তবায়ন তদারকির জন্য একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠন।বৈঠকে অ্যালিসন হুকার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে দৃঢ় সমর্থন অব্যাহত রেখেছে এবং ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করছে। এ সময় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও সার্বিক ব্যবস্থার বিষয়ে তাকে অবহিত করেন এবং অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। খলিলুর রহমান সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে আমেরিকান কৃষিপণ্যের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার কথা তুলে ধরে ভবিষ্যতে বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনার ওপর জোর দেন।এ ছাড়া তিনি ভিসা বন্ড ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে যে জটিলতা রয়েছে, তা সহজ করার অনুরোধ জানান। বিশেষ করে স্বল্পমেয়াদি বি-১ ক্যাটাগরির ভিসা ভিসা বন্ড থেকে অব্যাহতির বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানান। জবাবে হুকার জানান, বিষয়টি ইতিবাচকভাবে পর্যালোচনা করা হবে।অননুমোদিত বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য হুকার বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান। অপরদিকে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহায়তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন খলিলুর রহমান। যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা সহায়তায় সবচেয়ে বড় দাতা দেশ উল্লেখ করে তিনি এই সহায়তা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশকেও ধন্যবাদ জানান মার্কিন আন্ডার-সেক্রেটারি।এ ছাড়া খলিলুর রহমান বাংলাদেশি বেসরকারি খাতের জন্য, বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর উন্নয়ন খাতে, ইউএস ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশন (ডিএফসি)-এর অর্থায়নে প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ করেন। হুকার এ প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।অন্যদিকে, সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর-এর সঙ্গে বৈঠকে খলিলুর রহমান আসন্ন নির্বাচন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট, ভিসা বন্ড, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। ওয়াশিংটন সফরের অংশ হিসেবে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পররাষ্ট্র দপ্তরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন-এর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেও বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে অংশ নিতে বাংলাদেশের আগ্রহ প্রকাশ