ঢাকা    শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

জুলাই হত্যাকাণ্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধ: ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব চলাকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন ধাপ শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে মামলার সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।জুলাই বিপ্লবের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।বৃহস্পতিবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন—অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।আদালত একই সঙ্গে মামলার সূচনা বক্তব্য (Opening Statement) এবং প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।এর আগে গত ১৮ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম। তারা শুনানিতে আসামিদের ব্যক্তিগত দায় ও ভূমিকা তুলে ধরেন। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে আনা তিনটি নির্দিষ্ট অভিযোগ আদালতে পাঠ করা হয়। পাশাপাশি জুলাই-আগস্টে চলমান আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের হত্যার নির্দেশ, উসকানি ও প্ররোচণার অভিযোগ সকল আসামির বিরুদ্ধে উপস্থাপন করা হয়।শুনানি শেষে প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন জানায়।অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান। তারা দাবি করেন, মামলায় উত্থাপিত অভিযোগের সঙ্গে তাদের মক্কেলদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং অভিযোগ সমর্থনের মতো পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণও নেই। এ কারণে আসামিদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন জানানো হয়।উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আদেশ ঘোষণার জন্য ২২ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করেন। নির্ধারিত দিনে আদালত অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।এই মামলায় পলাতক অপর আসামিরা হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান।গত ৮ জানুয়ারি আসামিদের আত্মসমর্পণের দিন ধার্য থাকলেও তারা আদালতে হাজির হননি। পরে পলাতক ঘোষণা করে তাদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেন ট্রাইব্যুনাল।এর আগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর ২৯ ডিসেম্বর আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আসামিদের গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় অভিযান চালিয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ৩০ ডিসেম্বর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয় আদালত। এই মামলাকে জুলাই বিপ্লব–পরবর্তী মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন আইন বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকরা।

জুলাই হত্যাকাণ্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধ: ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু