ঢাকা    শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলা গ্লোবাল বুলেটিন

জ্বালানি সংকটে পুলিশের জরুরি সেবা ব্যাহত, আলাদা লাইনের দাবি

জ্বালানি তেল সংকটের প্রভাব পড়ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশের জরুরি সেবায়। জ্বালানি নিতে না পারায় মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা নিয়মিত টহল, অভিযান কিংবা জরুরি ডিউটিতে সময়মতো অংশ নিতে পারছেন না। এ ছাড়াও জ্বালানি সংগ্রহ করতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকায় পুলিশের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। এসব কারণে সারা দেশে পেট্রোল পাম্পে পুলিশের গাড়িতে জ্বালানি নিতে আলাদা লাইনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন।শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) পুলিশের মহাপরিদর্শক বরাবর এক লিখিত আবেদনে পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন এ দাবি জানিয়েছে। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় ইমেলের মাধ্যমে এ আবেদন পাঠিয়েছেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কামরুল হাসান তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক ডাবলু।আবেদনে বলা হয়েছে, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অপরাধ দমন, মামলা তদন্ত, আসামি গ্রেপ্তার, জরুরি অভিযান পরিচালনা, ভিআইপি নিরাপত্তা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগকালীন সহায়তা এবং ২৪/৭ নিরবচ্ছিন্ন জনসেবা প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে।’পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন বলছে, ‘বাস্তব প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে যে, সরকারি দায়িত্ব পালনকালে অধিকাংশ পুলিশ সদস্যকে ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল, সরকারি যানবাহন এবং রিকুইজিশনকৃত যানবাহন ব্যবহার করে তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে সারা দেশের বিভিন্ন জ্বালানি পাম্পে তেল সংগ্রহের জন্য পুলিশ সদস্যদের সাধারণ জনগণের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এর ফলে পুলিশ সদস্যদের মূল্যবান কর্মঘণ্টার একটি বড় অংশ পাম্পে অপেক্ষমাণ অবস্থায় নষ্ট হচ্ছে এবং জরুরি সেবা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।’লিখিত দাবিতে বলা হয়েছে, ‘বিশেষ করে আসামি ধরতে অভিযান, জরুরি টহল, মামলার তদন্তে ঘটনাস্থলে দ্রুত উপস্থিতি, দুর্যোগ ও দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত সাড়া প্রদানসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সময়মতো সম্পাদনে বিলম্ব ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে জরুরি প্রয়োজনে লাইনের বাইরে গিয়ে জ্বালানি সংগ্রহ করতে গেলে পুলিশ সদস্যরা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি, জনঅসন্তোষ এমনকি ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানারও সম্মুখীন হচ্ছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত।’এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে জনস্বার্থে এবং জরুরি দায়িত্ব পালনের স্বার্থে, সারা দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি জ্বালানি পাম্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের সরকারি পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পৃথক লাইন বা বিশেষ বুথের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কার্যকর নির্দেশনার অনুরোধ করা হয়।এসব বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক ডাবলু এশিয়া পোস্টকে বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে জরুরি দায়িত্ব পালনের সময় এ ধরনের জরিমানা পুলিশ সদস্যদের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং জনসেবায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।তিনি আরও বলেন, এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন সারা দেশের জ্বালানি পাম্পে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের জন্য আলাদা লাইন চালুর দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, প্রতিটি মিনিট যেখানে গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে জ্বালানি পেতে বিলম্ব মানেই সেবায় বিলম্ব। পুলিশের হারিয়ে যাওয়া কর্মঘণ্টা পুনরুদ্ধার এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে এ ধরনের ব্যবস্থা জরুরি হয়ে পড়েছে। জ্বালানি সংকটের এই সময়ে জরুরি সেবায় নিয়োজিত বাহিনীগুলোর কার্যক্রম সচল রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা না নিলে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।এ বিষয়ে ঢাকা রেঞ্জ অফিসে কর্মরত এক পুলিশ ইন্সপেক্টর এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘মনে করেন জ্বালানি পাম্পের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মোটরসাইকেল, তাতে ইউনিফর্ম পরা এক পুলিশ সদস্য। অথচ কোথাও হয়তো ঘটনার খবর নিয়ে অপেক্ষা করছে মানুষ, কোথাও চলছে অপরাধ, কোথাও প্রয়োজন তাৎক্ষণিক সাড়া। দায়িত্বে থাকা ওই সদস্য আটকে আছেন জ্বালানির লাইনে। এই বাস্তবতা থেকেই প্রশ্ন উঠছে—জরুরি সেবায় নিয়োজিত পুলিশ কি সাধারণ লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করবে, নাকি তাদের জন্য থাকা উচিত অগ্রাধিকারভিত্তিক আলাদা ব্যবস্থা?প্রসঙ্গত, কয়েক দিন আগে চুয়াডঙ্গায় জেলায় তেল নিতে গিয়ে এক পুলিশ সদস্যের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, এরমধ্যে একটি ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আলমডাঙ্গা থানায় কর্মরত এক পুলিশ সদস্য জ্বালানি সংগ্রহের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানার মুখে পড়েন। জেলা পুলিশের তথ্যমতে, গত ১৬ এপ্রিল বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে ইউনিফর্ম ও হেলমেট পরিহিত অবস্থায় দায়িত্ব পালনের মোটরসাইকেলে জ্বালানি নিতে গেলে তাকে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এই পুলিশ আর কখনো জরুরি সেবার জন্য তেল নিয়ে দায়ত্বি পালন করার মানসিকতা রাখবে কি না সে প্রশ্ন রাখেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।ঘটনার খবর নিলে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ জানায়, গত ২৯ মার্চ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জরুরি সেবায় নিয়োজিত সংস্থাগুলোর জন্য বিকল্প লাইনে জ্বালানি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেই অনুযায়ী পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, সিভিল প্রশাসন ও সাংবাদিকরা এতদিন বিকল্প লাইনে জ্বালানি সংগ্রহ করে আসছিলেন। সাম্প্রতিক এ ঘটনায় সেই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জ্বালানি সংকটে পুলিশের জরুরি সেবা ব্যাহত, আলাদা লাইনের দাবি