টিটন হত্যা: ‘আমি জড়িত নই’—পিচ্চি হেলালের দাবি
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে ঘিরে আলোচিত হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল।বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাতে কালবেলার সঙ্গে একান্ত আলাপে তিনি জানান, টিটনের সঙ্গে তার ‘চমৎকার সম্পর্ক’ ছিল এবং তাকে তিনি ‘বন্ধু হিসেবে ভালোবাসতেন’।সাম্প্রতিক ঘটনায় বারবার নিজের নাম আসার প্রসঙ্গে হেলাল অভিযোগ করেন, স্থানীয় কিছু অনলাইনভিত্তিক গণমাধ্যম অপরাধচক্রের প্রভাবেই বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করছে এবং প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে তার নাম সামনে আনা হচ্ছে।হেলাল দাবি করেন, তার কোনো ‘কিশোর গ্যাং’ বা সন্ত্রাসী বাহিনী নেই; বরং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে সহজেই তাকে টার্গেট করা হচ্ছে। টিটন হত্যার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিহত টিটন অতীতে তার সঙ্গে একসঙ্গে টেলিভিশনে বক্তব্য দিয়েছেন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, টিটন নিজেই জীবিত অবস্থায় তাকে জানিয়েছিলেন, প্রতিপক্ষ ইমন (সানজিদুল ইসলাম ইমন ওরফে ক্যাপ্টেন ইমন) তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দিয়ে হয়রানি করছে এবং এমনকি তাকে হত্যার আশঙ্কার কথাও প্রকাশ করেছিলেন।মামলার এজাহারের বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হেলাল। তার দাবি, একটি অনলাইন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকার ‘পরিকল্পিত’ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ‘চাপ দিয়ে’ কথা বলানো হয়েছে। তিনি বলেন, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে টিটন ও তার বড় ভাইয়ের মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষা করা হলে সত্য বেরিয়ে আসবে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নিতে ‘হার্ট সংক্রান্ত বিরোধের গল্প’ দাঁড় করানো হয়েছে, যা ভিত্তিহীন। এমনকি টিটন হাটের শিডিউল ক্রয় করেছে কি না সেটাও তিনি জানেন না।প্রশাসনের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করে হেলাল বলেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও অপরাধ চললেও তা কার্যকরভাবে দমন করা হয়নি। তার অভিযোগ, বড় কোনো ঘটনা ঘটলে সাময়িক তৎপরতা দেখা গেলেও পরে তা ধামাচাপা পড়ে যায়।তিনি গণমাধ্যমকে বিষয়টি অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সত্য উদঘাটন না হলে প্রকৃত অপরাধীরা পার পেয়ে যাবে এবং নির্দোষ মানুষ হয়রানির শিকার হবে।’হত্যাকাণ্ডের পেছনে পরিকল্পিত ফাঁদ থাকার শঙ্কা প্রকাশ করে হেলাল দাবি করেন, টিটনকে পরিকল্পিতভাবে ঘটনাস্থলে ডেকে নেওয়া হয়েছিল এবং প্রযুক্তিগত বিষয় বিশ্লেষণ করলে কারা তাকে সেখানে নিয়ে গেছে তা বেরিয়ে আসবে। পাশাপাশি, অতীতে সংঘটিত কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও একই চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেন তিনি।হেলাল দাবি করেছেন, টিটন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার (ইমনের স্ত্রী) জড়িত।এদিকে হেলাল আরও দাবি করেন, টিটন হত্যাকাণ্ডের ঘটনাপ্রবাহে অসংগতি রয়েছে এবং এটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, টিটনের ওই এলাকায় যাওয়ার কথা ছিল না; বরং তাকে ‘টোপ দিয়ে’ সেখানে নেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, ‘মোবাইল ফোনের কললিস্ট ও ডাটা ফরেনসিক বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যাবে কে বা কারা তাকে সেখানে ডেকেছিল এবং কারা ঘটনার সময় উপস্থিত ছিল।’ একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে এবং এতে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও মিথ্যা প্রমাণিত হবে।এজাহার দায়েরের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হেলাল। তার দাবি, নিহতের পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে নির্দিষ্টভাবে কিছু নাম যুক্ত করা হয়েছে।তিনি বলেন, ‘ঘটনার আগ পর্যন্ত যাদের নাম সামনে আসছিল, পরদিনই এজাহারে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়— এটা স্বাভাবিক নয়।’এ প্রসঙ্গে তিনি জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান এবং সংশ্লিষ্টদের মোবাইল ফরেনসিক পরীক্ষার দাবি তোলেন।এছাড়া এলাকায় অপরাধচক্রের প্রভাব ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ করেন তিনি। হেলালের ভাষায়, ‘একটি ঘটনা ঘটলে কিছুদিন তৎপরতা দেখা যায়, পরে তা ধামাচাপা পড়ে যায়—এই সুযোগেই অপরাধীরা পার পেয়ে যায়।’তিনি দাবি করেন, প্রকৃত অপরাধীরা বাইরে অবস্থান করলেও তাদের পক্ষে স্থানীয়ভাবে সক্রিয় একটি চক্র কাজ করছে, যাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে হেলাল বলেন, তিনি দেশে থেকেই সব অভিযোগের মুখোমুখি হচ্ছেন এবং কোনো অপরাধে জড়িত থাকলে এভাবে প্রকাশ্যে কথা বলতেন না। একই সঙ্গে তিনি অতীতের কিছু হত্যাকাণ্ডের উদাহরণ টেনে দাবি করেন, সেগুলোর পেছনেও একই চক্র সক্রিয় থাকতে পারে।