এলপিজি গ্যাসে ভ্যাট কমাল সরকার, তবু আজ থেকে সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা
এলপিজি গ্যাসের আমদানি ও দেশীয় উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট হ্রাস করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হলেও একই দিনে সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। ভ্যাট ছাড়ের পরও দাবি পূরণ না হওয়ায় এই কর্মসূচিতে অনড় রয়েছে সংগঠনটি।এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) আমদানি ও দেশীয় উৎপাদনে ভ্যাট কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার দুপুরে জারি করা প্রজ্ঞাপনে আমদানিকৃত এলপিজি গ্যাসের ওপর ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ৭ শতাংশ।তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের মধ্যেই সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার থেকেই এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ থাকবে।গতকাল বুধবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে জারি করা এক নোটিশে বলা হয়,
“আগামী ৮ জানুয়ারি থেকে আমাদের ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের সব এলপি গ্যাস বিপণন ও সরবরাহ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে সব কোম্পানির প্ল্যান্ট থেকে গ্যাস উত্তোলন কার্যক্রমও স্থগিত থাকবে।”
এর আগে বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজেদের দাবি তুলে ধরেন এলপিজি ব্যবসায়ীরা। সেখানে তারা স্পষ্ট করে জানান, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।সংবাদ সম্মেলনে সমিতির নেতারা জানান,
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) থেকে এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন মূল্য সমন্বয় করতে হবে,
প্রশাসনের মাধ্যমে পরিবেশকদের হয়রানি ও জরিমানা বন্ধ করতে হবে।
তারা আরও বলেন, এসব দাবি পূরণ না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ থাকবে।
এলপিজি গ্যাস দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উৎস হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত সাধারণ ভোক্তা ও শিল্প খাতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভ্যাট হ্রাসের সুফল ভোক্তারা আদৌ পাবেন কি না, তা অনেকাংশে নির্ভর করছে ব্যবসায়ী ও সরকারের মধ্যকার আলোচনার অগ্রগতির ওপর।